ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ: ৯০ দিনের কর্মপরিকল্পনা

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কাজের গতিশীলতা আনতে ৯০ দিনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন বিভাগটির নতুন প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। এরই মধ্যে বিভাগের সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে এ কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশও দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ৯০ দিনের পরিকল্পনায় ডাক বিভাগ আধুনিকায়ন, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডকে (বিটিসিএল) সময়োপযোগীকরণ, সরকারি মোবাইল কোম্পানি টেলিটককে শক্তিশালীকরণ, অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ, বকেয়া আদায়সহ মোট ৯টি বিষয়কে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তারানা হালিম বলেন, মন্ত্রণালয়ের কাজের গতিশীলতা বাড়াতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ৯০ দিনের এ প্রোগ্রাম শেষ হওয়ার পর আমরা বুঝতে পারব, কাজের কোন অংশটিতে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, এ কর্মপরিকল্পনা সফল করা গেলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কর্মক্ষমতা ও দক্ষতা অনেকখানি বেড়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ৯০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় ডাক বিভাগের আধুনিকায়নের জন্য বেশ কয়েকটি উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। এগুলো হলো বিভাগীয় ডাকঘরসহ উপজেলা পর্যন্ত ১ হাজার ৪২৬টি ডাকঘরে সুন্দর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, বিভাগীয় ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ২ হাজারটি স্ট্রিট লেটারবঙ্ রঙ করা ও পোস্টকোড, সময়সূচি উল্লেখ করে পুনঃস্থাপন, ডাকঘরের প্রদত্ত সেবার তালিকা হালনাগাদ করা, অধিদফতর থেকে মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনিক দফতরে ১০০ গ্রাহকের শুনানির মাধ্যমে সেবার মান উন্নত করা, নতুন করে ৭৫০টি ডাকঘরে ইলেকট্রোনিক মানি ট্রান্সফার সার্ভিসের সুবিধা, পোস্টাল ক্যাশকার্ড সার্ভিস, পোস্ট ই-সেন্টারের সম্প্রসারণ করা।

বিটিসিএল’কে সময়োপযোগী করতে ‘এক হাজারটি ইউনিয়ন পরিষদে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল নেটওয়ার্ক উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় নতুন করে উপজেলা ও ইউনিয়ন মিলে আরও ৫০টি স্থানে ট্রান্সমিশন যন্ত্রপাতি ও ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি শুধু উপজেলা পর্যায়ে ৪০টি স্থানে ট্রান্সমিশন যন্ত্রপাতি ও ১ হাজার ৫০ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন করা হবে। এছাড়া টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রি-পেইড সার্ভিস (পিপিএস) প্রি-পেইড টেলিফোন (পিপিটি) ফ্রি ফোন সার্ভিস (এফপিএস) সেবা দিতে ইন্টিলিজেন্ট নেটওয়ার্ক (আইএন) চালু করা; উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় শহরে উচ্চগতির ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড সেবা বিস্তৃত করতে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য ব্রডব্যান্ড ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক স্থাপন’ প্রকল্পের আওতায় পরামর্শক দ্বারা সব সাইটের সার্ভে সম্পন্ন করা হবে।

সাবমেরিন ক্যাবলের ব্যান্ডউইথ বহনের জন্য ঢাকা ও কঙ্বাজারের মধ্যে বিটিসিএল ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি লিমিটেডের অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যমান ৪০ জিবিপিএস ক্ষমতার অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন লিঙ্ককে ২৪০ জিবিপিএস ক্ষমতায় রূপান্তর এবং ১০ জিবিপিএস সাবমেরিন ব্যান্ডউইথ ভারতে রফতানি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কঙ্বাজার-আখাউড়া লিঙ্ক (প্রোটেকশনসহ) চালু করা হবে। একই সঙ্গে অর্থ বিভাগের আওতাধীন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাকাউন্ট অফিসার (ডিএও), চিফ অ্যাকাউন্ট অফিসার (সিএও), মিড টার্ম বাজেট ফ্রেমের (এমটিবিএফ) প্রায় ১০০টি দফতরকে ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করা, কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি ও সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে স্বল্পমূল্যে ওয়াইফাই চালু করা হবে। এছাড়া এ ৯০ দিনে স্থানীয় ও বৈদেশিক রাজস্ব মিলিয়ে মোট ১৫৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং আইসিটি বিভাগের ইনফো সরকার প্রকল্পের জন্য ছয়টি বিভাগ থেকে ঢাকা পর্যন্ত ৪৪০৮ জিবিপিএস, জেলা থেকে বিভাগ পর্যন্ত ৫৯২৮ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ এবং প্রতিটি উপজেলা থেকে জেলা পর্যন্ত ৮ এমবিপিএস করে মোট ২৫৫টি উপজেলার জন্য ব্যান্ডউইথের ব্যবস্থা করা হবে।

কর্মপরিকল্পনায় ২০১৭ সালের মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে দরপত্র মূল্যায়ন কাজ শেষ করে কাজ শুরুর ব্যবস্থা করা এবং টেলিটককে শক্তিশালী করতে কাস্টমার কেয়ারের সংখ্যা বাড়ানো, থ্রিজি কার্যকর করা, মোবাইল টাওয়ারের সংখ্যা বাড়ানো ও সরকারি পর্যায়ে টেলিটকের ব্যবহার বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশপাশি অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করতে টেকনিক্যাল মোবাইল টিম গঠন ও র‌্যাবের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে কাজ করার কথাও বলা হয়েছে পরিকল্পনায়। এছাড়া বকেয়া আদায়ে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা মামলায় গতি আনার কথা বলা হয়েছে।