শেখের বেটি হাসিনা হামাক দেশ দিছে

‘হামার শ্যাওলার মতো ভাসে ভাসে বেড়ানোর দিন ফুরাইল। দুনিয়ার গোটা লোকলার (মানুষের) তানে একটা দেশ আছে। খালি হামার তানে কোনহ দেশ ছিল নাই। এলা হামারও দেশ হইছে। শেখের বেটি হাসিনা হামাক দেশ দিছে। নাগরিকত্ব পাম। দেশের সুযোগ সুবিধা পাম। ভোট দিবা পারিম। হামার জীবনটার এলা দাম হইল।’

আনন্দ আর উচ্ছ্বাসের সঙ্গে কথাগুলো বললেন ছিটমহলের ষাটোর্ধ্ব বাসিন্দা আবদুর রব। ১ আগস্ট বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় হলে তারা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাবেন। বাংলাদেশের অন্য নাগরিকদের মতো তারাও ভোটাধিকারসহ দেশের সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন। শিক্ষা, চিকিৎসা, পানীয় জল, রাস্তাঘাট, যানবাহনের ব্যবস্থা, রাজনৈতিক ও সামাজিকসহ সব সুবিধাই ভোগ করতে পারবেন।

গতকাল পুটিমারী ছিটমহলের লোকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্দিষ্ট কোনো ভূখণ্ডের নাগরিক এতদিন না হওয়ায় এখানে রক্তারক্তি হলেও কোনো বিচার হতো না। অপরাধীরা সহজে পার পেয়ে যেত। ছিটমহলের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এইঠে মারামারি করে লোক মরে গেলেও কোনোহ বিচার নাই। বাহত (শরীরে) যত জোর ওহে এইঠে নেতা। হামার অসুখ হলে ঝারফুক ছাড়া ওষুধের ব্যবস্থা নাই। যদিও বাংলাদেশের হাটত পাই। কিন্তু টাকার টানে কিনিবার পারি না।’

এখানকার অনেক শিশুই আশপাশের ইউনিয়নে জন্ম নিবন্ধন করে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করছে। কিন্তু এসব স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক ও শিক্ষা উপকরণ নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা নিজেদের নাগরিকত্ব পেয়ে খুশি হলেও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই শঙ্কিত। এতদিন এ অঞ্চল ভারত কিংবা বাংলাদেশ কোনো দেশেরই উপযুক্ত ও সুনজর পায়নি। ফলে এখানে শিশুদের শিক্ষা নিয়ে কেউ কখনো ভাবেনি। শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের স্বাস্থ্যের ভবিষ্যৎ নিয়েও তাদের চিন্তার অন্ত নেই। সরজমিন এ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এখানকার অধিকাংশ শিশুই পুষ্টির অভাবে ভুগছে। এরা শুকনো আর জিরজিরে স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো রকমে চলাফেরা করছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বললেন, এখন আমাদের আশা, শেখের বেটি হাসিনা আমাদের সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে সুন্দরভাবে বেড়ে উঠার জন্য সহযোগিতা করবেন। সরকারের কাছে তাদের প্রত্যাশা, এ অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি হবে এবং তারা নাগরিক হিসেবে সব সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারবে।