৩১ জুলাই মধ্যরাতে আলোয় ভাসবে সব ছিটমহল

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা ছিটমহল সমস্যা শেষ হচ্ছে ৩১ জুলাই মধ্যরাতে। তাই এই দিনটিকে ঘিরে দু’দেশেই চলছে ব্যাপক আয়োজন। জানা গেছে, দু’দেশের ১৬২টি ছিটমহলেই ওই দিনশেষে রাত ১২ টায় একইসঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি। ৬৮ বছর পর ছিটমহল সমস্যা সমাধান হওয়ায় ছিটমহলের প্রত্যেক মুসলিম বাড়িতে ৬৮টি মোমবাতি আর হিন্দু বাড়িতে ৬৮টি প্রদীপ জ্বালানো হবে। এছাড়া ছিটমহলগুলোর প্রতিটি অন্ধকার সড়ক মশাল জ্বালিয়ে আলোকিত করার পাশাপাশি ওড়ানো হবে আকাশ প্রদীপ। রাতভর চলবে নাচ-গানসহ নানা অনুষ্ঠান।

৬৮ বছরের নাগরিকত্বহীন জীবনের অবসান ঘটানোর প্রতীক হিসাবে দু’দেশের ছিটমহলবাসী এই অভিনব কর্মসূচি পালন করবে বলে জানিয়েছেন সমন্বয় কমিটি ভারত শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক দীপ্তিমান সেনগুপ্ত। গতকাল মঙ্গলবার মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই হচ্ছে ছিটমহলে বসবাসকারী মানুষের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। রাষ্ট্রহীন মানুষগুলো তাদের নাগরিক অধিকার ফিরে পাওয়ায় ওই দিন মধ্যরাতের পরই ঘর থেকে বেড়িয়ে পড়বে। রাতভর ছিটবাসী নেচে-গেয়ে উল্লাসে মেতে উঠবে। এই রাতটি হবে ছিটমহলবাসীর জন্য উত্সবের রাত। শুধু ২০১৫-এর এই দিনই শেষ নয়, প্রতিবছর আমরা উত্সবমুখর পরিবেশে দিনটি পালন করব।

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার কাজলদিঘী ছিটমহলের নাগরিক কমিটির সাবেক সদস্য মোকলেছার রহমান জানান, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ফসল আমরা ঘরে তুলব ওই রাতে। এরপর আমরা হয়ে যাব শুধুই বাংলাদেশী। নতুন করে নাগরিকত্ব পেয়ে নিজের ছাড়াও কাজ করে যাব দেশের জন্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন দু’দেশের ভেতরে থাকা ছিটমহলগুলোর আনুষ্ঠানিক বিনিময় সম্পন্ন হবে। এরপর থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত ভারতের ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশী এবং ভারতে অবস্থিত বাংলদেশী ৫১টি ছিটমহল ভারতীয় হয়ে যাবে। ১ আগস্ট সূর্য ওঠার আগেই মুছে যাবে ছিটমহলের নাম।