হেপাটাইটিস প্রতিরোধে প্রয়োজন সচেতনতা

জাতীয় অধ্যাপক এম আর খানের তাগিদ

জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান বলেছেন, হেপাটাইটিস প্রতিরোধে সবার আগে সচেতনতা প্রয়োজন। খাবার গ্রহণে সবসময় পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন করতে হবে। পাশাপাশি হেপাটাইটিসকে দূরে রাখতে সকলকেই ভ্যাক্সিন গ্রহণ করতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক গণসচেতনতামূলক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ মিলনায়তনে হেপাটোলজি সোসাইটি এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

হেপাটোলজি সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মুবিন খান বলেন, মূলত পানি ও খাদ্যের মাধ্যমে রোগটি সংক্রমিত হয়। তাছাড়া অনিয়ন্ত্রিত জীবনাচরণ, অপরীক্ষিত রক্ত গ্রহণ, দীর্ঘদিন মদপান, স্থূলতার কারণে যকৃতে চর্বি জমা ও অসচেতনতার কারণে হেপাটাইটিস দেখা দিতে পারে। এতে লিভার (যকৃত) ও কিডনি নষ্ট হয়ে মানুষের মৃত্যুর একটি অন্যতম কারণ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ভাইরাল হেপাটাইটিস বাংলাদেশের লিভার রোগগুলোর মধ্যে অন্যতম। পরিসংখ্যানে দেখা যায় জন্ডিস নিয়ে যারা হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে আসেন তাদের শতকরা ৪৩ ভাগ হেপাটাইটিস ‘ই’, ২২ ভাগ হেপাটাইটিস ‘বি’, ৮ ভাগ হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ৩ ভাগ ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত। বাংলাদেশে লিভার ক্যান্সারের জন্য প্রধানত হেপাটাইটিস বি’ ভাইরাস দায়ী।

হেপাটোলজি সোসাইটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে যৌন কর্মীদের মধ্যে শতকরা ৯ দশমিক ৭ ভাগ, শিরায় মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে ৮ ভাগ হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসে আক্রান্ত। এছাড়া শিশুদের মধ্যে শতকরা ১৫ দশমিক ৪ ভাগ এবং পল্লী চিকিত্সকদের মধ্যে ৩৫ দশমিক ৫ ভাগ ‘বি’ ভাইরাস বহন করে থাকে বলে জানান বক্তারা।

বক্তারা বলেন, হেপাটাইটিসে আক্রান্ত এক-তৃতীয়াংশ মানুষের শরীরে প্রথমে কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। এক-তৃতীয়াংশ মানুষের মাথাব্যথা, গা শিরশির ভাব ও জ্বর হয়। এক-তৃতীয়াংশের জন্ডিস, ক্ষুধামন্দা, ডায়রিয়া, বমি ও জ্বর দেখা দেয়। দেশে সরকার সব শিশুর জন্য হেপাটাইটিস-বি টিকা নিশ্চিত করতে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে এটি অন্তর্ভুক্ত করেছে। বক্তারা বলেন, নবজাতকের জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিষেধক টিকা দিয়ে ‘বি’ ভাইরাসের ঝুঁকি থেকে নবজাতককে মুক্ত করা সম্ভব। ‘সি’ ভাইরাসের টিকা এখনও আবিষ্কার না হওয়ায় রক্তদান, অঙ্গ ও কর্নিয়াদান এবং সেলুনে সেভ করা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। বিশুদ্ধ খাবার ও পানি পান করলে হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’র সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকা যায়।

হেপাটোলজি সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মুবিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম। আরো বক্তব্য রাখেন বিএসএমএমইউর হোপাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল ইসলাম, ডা. মো. গোলাম মোস্তফা, হেপাটোলজি সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মোতাহার হোসেন, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. আবু সাঈদ প্রমুখ।