মাছ উৎপাদনে বিশ্বে ‘চতুর্থ’ বাংলাদেশ

মিঠা পানির মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক।

মঙ্গলবার জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০১৫ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয় থেকে মৎস্য উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।”

বাংলাদেশে এখন বছরে ৩৫ লাখ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয় জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “১৬ কোটি মানুষের চাহিদা ৪২ লাখ টন মাছ। শিগগিরই আমরা মাছের চাহিদা মিটাতে পারব।”

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে গত এক যুগ ধরেই বাংলাদেশ শীর্ষ পাঁচে অবস্থান করছে। বর্তমানে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে চীন, ভারত ও মিয়ানমার।

২০০৮-০৯ অর্থবছরে যেখানে দেশে মিঠা পানির মাছের উৎপাদন ছিল ২৭ লাখ মেট্রিক টন, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে তা বেড়ে ৩৫ লাখ মেট্রিক টনে এসে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার শুরু হওয়া এই মৎস্য সপ্তাহের কর্মসূচি চলবে ৩ অগাস্ট পর্যন্ত। এবার এ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে ‘সাগর নদী সকল জলে, মাছ চাষে সোনা ফলে।’

লিখিত বক্তব্যে ছায়েদুল হক জানান, ২০১৫ সালের মধ্যে সরকার বিশ লাখ জেলেকে পরিচয়পত্র দেবে।

সাগরে প্রকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারানো ২৪৭ জন জেলের পরিবারকে গত তিন বছরে এক কোটি ১৯ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

মন্ত্রী জানান, দেশে মৎস্য খাতের মোট আয়ের প্রায় ১১ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে।

ইলিশের ‘স্থায়ীত্বশীল’ উৎপাদনের লক্ষ্যে ‘ইলিশ উন্নয়ন ট্রাস্ট ফান্ড’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা ১১ দিন থেকে বাড়িয়ে ১৫ দিন করা হয়েছে।”

মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সকালে মৎস্য ভবন থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। অন্যদের মধ্যে সচিব শেলীনা আফরোজা এবং মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এতে অংশ নেন।