রফতানি উন্নয়নে ৫০ কোটি ডলারের তহবিল হচ্ছে

প্রাক-মুদ্রানীতির মতবিনিময়ে গভর্নর

রফতানি উন্নয়নে বৈদেশিক মুদ্রায় ৫০ কোটি ডলারের দুটি তহবিল হচ্ছে। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তা নিয়ে ৩০ কোটি ডলারের তহবিল করা হবে। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে করা হবে ২০ কোটি ডলারের আরেকটি তহবিল। গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রাক-মুদ্রানীতির মতবিনিময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান এ তথ্য জানান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উদ্যোক্তার সক্ষমতা অনুযায়ী লাইবর সুদ হারের সঙ্গে ৩ শতাংশ বা ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ সুদ যোগ করে এ তহবিল থেকে ঋণ নেওয়া যাবে। গভর্নর বলেন, রফতানিকারকদের সুবিধা দিতে বর্তমানে রফতানি উন্নয়ন তহবিল থেকে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশি উৎস থেকেও কম সুদে ঋণ নিতে পারছেন বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা। রফতানি খাতকে আরও প্রসারে নতুন করে বাংলাদেশ ব্যাংকে ৫০ কোটি ডলারের তহবিল করা হচ্ছে। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ৩০ কোটি ডলারের তহবিল থেকে তৈরি পোশাকসহ রফতানিমুখী বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তারা স্বল্প সুদে ঋণ নিতে পারবেন। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব উৎসের ২০ কোটি ডলারের তহবিল থেকে শুধু রফতানিমুখী পরিবেশবান্ধব কারখানার কাজে ঋণ দেওয়া হবে। এখান থেকে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, চামড়া শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তারা পরিবেশবান্ধব উপায়ে কারখানা তৈরি, পরিধি বাড়ানো ও বর্জ্য শোধনাগারসহ (ইটিপি) বিভিন্ন কাজে স্বল্প সুদে ঋণ পাবেন। নতুন মুদ্রানীতিতে এ দুটি তহবিলের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. বিরূপাক্ষ পালের পরিচালনায় রাজধানীর হোটেল পূর্বাণীতে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান, নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মুদ্রানীতি প্রণয়নের আগে অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকারসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে প্রাক-মুদ্রানীতির মতবিনিময় করা হলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে অর্থনীতি বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে এ ধরনের আয়োজন ছিল এবারই প্রথম। বর্তমানে রফতানিমুখী শিল্পের বিকাশ ও প্রসারের ধারা অব্যাহত রাখতে রফতানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) নামে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ২০০ কোটি ডলারের একটি তহবিল রয়েছে। রফতানিকারকরা রফতানির বিপরীতে পণ্য আমদানির জন্য ২ শতাংশের কম সুদে এখান থেকে ঋণ নিতে পারেন। নতুন এ তহবিল হবে বিদ্যমান তহবিলের বাইরে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ৩০ কোটি ডলারের তহবিল এরই মধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। এখান থেকে ৫, ৭ ও ১০ বছর মেয়াদে ঋণ নিতে পারবেন উদ্যোক্তারা। উদ্যোক্তার সক্ষমতা অনুযায়ী ‘এ’ ক্যাটাগরির ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে সুদহার নির্ধারণ করা হবে লাইবরের (লন্ডন ইন্টার ব্যাংক অফার রেট) সঙ্গে ৩ শতাংশ যোগ করে। ‘বি’ ক্যাটাগরির ব্যাংক থেকে নিলে হবে লাইবর যোগ ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। আর ‘সি’ ক্যাটাগরির ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে সুদহার দাঁড়াবে লাইবর যোগ ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ২২ জুলাই ৬ মাস মেয়াদি লাইবর ছিল দশমিক ৪৭ শতাংশ। এতে প্রতিটি ক্ষেত্রে সুদহার ৪ শতাংশ বা এর কাছাকাছি থাকবে। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত ক্যামেলস রেটিং অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর ক্যাটাগরি ভাগ হবে। মতবিনিময় সভায় নতুন মুদ্রানীতির বিষয়ে গভর্নর বলেন, এবারের মুদ্রানীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে উদ্বৃত্তের সমস্যা মোকাবেলা করা। আর সেটা করতে পারলেই দেশের অর্থনীতি যেরকম স্থিতিশীল অবস্থায় আছে তা ধরে রাখা সম্ভব হবে। এবারের মুদ্রানীতিতে উৎপাদনশীল খাতকে গুরুত্ব দিয়ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন মুদ্রানীতিকে প্রবৃদ্ধি সহায়ক ও বিনিয়োগবান্ধব করার পক্ষে মত দেন সাংবাদিকরা। তারা বলেন, উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ হলে মূল্যস্টম্ফীতি কিছুটা বাড়লেও তাতে খুব বেশি সমস্যা হবে না। বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় সম্প্রসারণ ও সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি না করে বর্তমানের মতো ভারসাম্যপূর্ণ বা নমনীয় মুদ্রানীতির ধারা বজায় রাখার পক্ষে মত দেন তারা। এ ছাড়া ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন সাংবাদিকরা। গভর্নর বলেন, ব্যাংক খাতের সুশাসন অনেক বেড়েছে। সম্প্রতি বড় ধরনের কোনো জালিয়াতির খবর পাওয়া যায়নি। তারপরও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে কিছু অনিয়ম ধরা পড়ছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন_ সমকালের সহযোগী সম্পাদক অজয় দাশগুপ্ত, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি সুলতান মাহমুদ বাদল, সাবেক সভাপতি মনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান, রয়টার্সের সিরাজুল ইসলাম কাদির, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্লানিং এডিটর আসজাদুল কিবরিয়া ও বিশেষ প্রতিনিধি সিদ্দিক আহমেদ, ডেইলি স্টারের বিশেষ প্রতিনিধি রেজাউল করিম বায়রন, সমকালের বিজনেস এডিটর জাকির হোসেন প্রমুখ।