দেশের প্রথম ডিজিটাল সার্ফিং সিটি হচ্ছে কক্সবাজারে

দেশে প্রথমবারের মতো কক্সবাজারে নির্মিত হতে যাচ্ছে ডিজিটাল সার্ফিং সিটি। তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের আগ্রহে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে এয়ারটেল বাংলাদেশ লিমিটেড।

দেশে প্রথমবারের মতো কক্সবাজারে নির্মিত হতে যাচ্ছে ডিজিটাল সার্ফিং সিটি। তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের আগ্রহে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে এয়ারটেল বাংলাদেশ লিমিটেড। আজ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আইসিটি ডিভিশন এবং এয়রাটেলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
কক্সবাজারকে ডিজিটাল সার্ফিং সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে আজ দুপুরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের দপ্তরে এয়ারটেল বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারে সার্ফিংয়ের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে এবং এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের বুকে কক্সবাজারকে একটি আধুনিক ডিজিটাল নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে এখানে পর্যটনের সম্ভাবনা আরো বেগবান হবে। সৃষ্টি হবে ব্যাপক কর্মসংস্থান, বৃদ্ধি পাবে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডসহ সার্বিক কর্মচাঞ্চল্য।
তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রত্যেকটি শহরকে ডিজিটাল শহর হিসেবে গড়ে তোলা একান্ত জরুরী। আমাদের সে যাত্রা পর্যটন শহর কক্সবাজার থেকেই শুরু হলো। যে শহর যেসব ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময়, সে সব শহরকে সেভাবে সাজাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা বদ্ধ পরিকর। এভাবেই সারাদেশের প্রত্যেকটা শহরকে আমরা আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলব। গড়ে তোলা হবে আধুনিক ও ডিজিটাল বাংলাদেশ।
কক্সবাজারে ডিজিটাল সার্ফিং সিটি নির্মাণের মাধ্যমে বিশ্বে বাংলাদেশের ব্র্যান্ড ইমেজ তৈরি হবে। বিকাশ হবে পর্যটন শিল্পের। ডিজিটাল সার্ফিং সিটিতে উন্নত মানের প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি হবে আন্তর্জাতিক মানের নানান সুযোগ সুবিধা। থাকবে হাই স্পিড ইন্টারনেট সুবিধা। এখানে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক সার্ফারদের সার্ফিং করার সুযোগ আরও ত্বরান্বিত হবে।
এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় কক্সবাজার এয়ারপোর্টে ফ্রি ওয়াই-ফাই সংযোগ প্রদান, কক্সবাজার জুড়ে ওয়াই-ফাই হটস্পট স্থাপন, সার্ফিং ইনস্টিটিউট স্থাপন, বিচের সৌন্দর্য বর্ধন, রাস্তার দু’পাশের সৌন্দর্য বর্ধন, আইসিটি ক্লাব স্থাপন এবং টেলিভিশন, রেডিও, পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কক্সবাজারকে ব্রান্ডিং করা হবে।
এর আগে গত বছর ১৩ ডিসেম্বর বিশ্বে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে সমুদ্র ক্রীড়া সার্ফিংকে গতিশীল করে পর্যটন বিকাশের লক্ষে গঠিত হয় বাংলাদেশ সার্ফিং অ্যাসোসিয়েশন। বিশ্ব সার্ফিংয়ে ৯১তম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের সার্ফিংকে এগিয়ে নিতে ২০১৫ সালের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে কক্সবাজারে আয়োজন করা হয় জাতীয় সার্ফিং প্রতিযোগিতা। এরই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক সার্ফিং প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। ৭০ জন সার্ফারের উপস্থিতিতে এ সংবাদ সম্মেলনে দেশের প্রথম সার্ফার জাফর আলম কক্সবাজারকে সার্ফিং সিটি ঘোষণার দাবি করেন।
এ সময় কক্সবাজার প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ক্রীড়া সংগঠক এফ এম ইকবাল বিন আনোয়ার, দেশের প্রথম সার্ফার জাফর আলমসহ আরও অনেকে। পরে এফ এম ইকবাল বিন আনোয়ারকে সভাপতি ও ক্রীড়া সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরীকে সাধারন সম্পাদক করে বাংলাদেশ সার্ফিং অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হয়। বাংলাদেশ সার্ফিং অ্যাসোসিয়েশনের দাবীর প্রেক্ষিতে এবং আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের একান্তে আগ্রহে অবশেষে কক্সবাজারে নির্মিতি হতে যাচ্ছে ডিজিটাল সার্ফিং সিটি।
বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক এস এম আশরাফুল ইসলাম ও এয়ারটেল বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পি ডি শর্মা নিজ নিজ পক্ষে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন। এসময় আরো উপস্থিত, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সম্মানিত সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হারুনুর রশিদ, সুশান্ত কুমার সাহা, এয়ারটেল বাংলাদেশের চীফ কর্পোরেট এফেয়ার্স অফিসার আশরাফুল হক চৌধুরী, চীফ টেকনিক্যাল অফিসার সন্দীপন চক্রবর্তী, চীফ সার্ভিস অফিসার জনাব রুবাবাদৌলা প্রমুখ।