সরাইলে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত হলো ‘বন্ধু সেতু’

সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের মাঝদিয়ে বয়ে গেছে জাফর খাঁ নদ। উপজেলার পানিশ্বর গ্রামে এলাকাবাসীর অর্থ আর স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত হয়েছে ওই নদের দুই পাড়বাসীর সেতুবন্ধনের স্বপ্নের সেতু। গত ১৯ জুলাই সেতুটি উদ্বোধন করেন উদ্যোক্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমরান হোসেন।

উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত জাফর খাঁ নদের উত্তর ও দক্ষিণ পাড়ে মেঘনা নদীর মোহনার কাছে গড়ে ওঠেছে দুটি বাজার। এক সময় নদের শুধু দক্ষিণ পাড়েই গড়ে উঠেছিল পানিশ্বর বাজারটি। প্রায় চার দশক আগে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দু পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ধীরে ধীরে বিরোধ বাড়তে থাকে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে নদের উত্তর পাড়ে গড়ে ওঠে আরেকটি বাজার।

এখন উভয় বাজারের পাশেই গড়ে উঠেছে মসজিদ, মাদ্রাসা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়। তবে এ বিরোধ বাধা হয়ে ওঠে পানিশ্বর এলাকায় জাফর খাঁ নদের ওপর সেতু নির্মাণে। স্বাধীনতার পর থেকে একাধিকবার পানিশ্বর এলাকায় ওই নদের ওপর সেতু নির্মাণের চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু দুই পাড়বাসীর বিরোধ থাকায় শেষ পর্যন্ত সেতু হয়নি।

সমপ্রতি দুই পাড়বাসীর মধ্যে ঐক্য হয়। তারা নদে পাকা সেতু নির্মাণ করতে চায়। দুই পাড়বাসীর সেতুবন্ধনের সেতু নির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ব্যর্থ হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শে একাধিকবার বৈঠকে বসেন দুই পাড়ের মানুষ। তারা সেতু নির্মাণের জন্য পানিশ্বর মানব উন্নয়ন সংস্থা নামে একটি কমিটি করেন।

প্রথমেই এগিয়ে আসেন পানিশ্বর বাজার আড়ত্দার সমিতি ও পানিশ্বর বাজার দোকান মালিক সমিতি। আড়ত্দার সমিতি ৫লাখ আর দোকান মালিক সমিতি ৩লাখ টাকা তুলে দেন সেতু নির্মাণ কমিটির হাতে। দুই পাড়ের দুই শতাধিক যুবক রয়েছে প্রবাসী। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫হাজার টাকা করে তোলা হয়। এছাড়া উভয় পাড়ের প্রতিটি পরিবার তাদের সাধ্যমতো টাকা দেন।

সেই সঙ্গে গ্রামের প্রতিটি পুরুষ প্রয়োজন মতো স্বেচ্ছাশ্রম দিয়েছেন। এভাবে ৫০ মিটার দৈর্ঘ্য আর সাড়ে ৩মিটার প্রস্থের সেতু নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়। স্থানীয়রা সেতুটির নাম দিয়েছেন বন্ধু সেতু।