ঝিমিয়ে পড়া পর্যটন ব্যবসা চাঙ্গা

ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে লাখো পর্যটক

এবারের ঈদে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল নামায় দীর্ঘদিনের ঝিমিয়ে পড়া পর্যটন ব্যবসা চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। এতে ব্যবসায়ীরা বেশ খুশি। গত দুবছর পর্যটন মৌসুমে রাজনৈতিক অস্থিরতায় কোটি কোটি টাকার ক্ষতি পুষিয়ে তোলার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে সমুদ্রসৈকত ছাড়াও পর্যটকরা যাচ্ছেন মহেশখালী আদিনাথ মন্দির, ইনানী পাথুরে সৈকত, হিমছড়ি, দরিয়ানগর, টেকনাফের সেন্টমার্টিন, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ও রামুসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে।

কক্সবাজারের ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) নওরোজ হাসান তালুকদার বলেন, ‘পর্যটকরা যাতে কোনো হয়রানির শিকার না হন সেদিকে পুলিশের কঠোর নজরদারি রয়েছে। ব্যবসায়ীদেরকেও সতর্ক করে দিয়েছি পর্যটকদের হয়রানি না করতে, অতিরিক্ত দাম না নিতে।’

কক্সবাজার সি-বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বর্ষা মৌসুমের এমন সময়ে সৈকতে নামার ব্যাপারে পর্যটকদের সাবধানতা অবলম্বনের অনুরোধ জানিয়েছেন।

কক্সবাজার সি-ইন পয়েন্টের হকার ফজল করিম জানান, ঈদের দিন থেকে স্থানীয়সহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকের ঢল নামে সমুদ্রসৈকতে। সৈকত ছাড়াও রাস্তা-ঘাটে ঠাঁই নেই অবস্থা। প্রতিটি দোকানে ভিড়। বিক্রিও জমজমাট। গত দুবছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তৎপর ব্যবসায়ীরা।

সৈকতের লাবণী পয়েন্টের শুঁটকি ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান বলেন, ‘কক্সবাজারে পর্যটকেরা এলেই ঢুঁ মারেন শুঁটকির দোকানে। প্রায় সবাই শুঁটকি না নিয়ে বাড়ি ফিরেন না। ঈদের পর থেকে ভালো ব্যবসা হচ্ছে। দিনে প্রায় লাখ টাকার শুঁটকি বিক্রি হচ্ছে একেকটি দোকানে।’

কক্সবাজার কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি কাজী মোস্তাক আহমদ শামীম বলেন, ‘ঈদের দিন থেকে হোটেল, মোটেল ও কটেজ খালি নেই। প্রায় সব রুমেই পর্যটক। অতিরিক্ত দাম দিয়েও হোটেলের রুম নিচ্ছেন অনেকে। এভাবে আরো এক সপ্তাহ পর্যটক থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা লাভের মুখ দেখবেন বলে বেশ আশাবাদী।’

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল ও গেস্টহাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার জানান, ইতোমধ্যে কক্সবাজারে প্রায় দুই লাখ পর্যটক অবস্থান করেছেন। অনেক পর্যটক এসে ঘুরে ফিরে চলে গেছেন। আবার অনেকে এখনো আসছেন। ঈদ উপলক্ষে কক্সবাজারে লাখো পর্যটক আসায় ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙ্গা হয়েছে। এতে অনেক ব্যবসায়ী তাঁদের ব্যাংকঋণ পরিশোধ করতে পারবেন। ক্ষতি পুষিয়ে উঠার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।