জেলায় আইসিইউ-সিসিইউ ও কিডনির চিকিত্সা চালু হচ্ছে

উপজেলা পর্যায়ে বিকালেও রোগী দেখবেন ডাক্তাররা স্বাস্থ্যসেবায় এক বছরের কর্মপরিকল্পনা

জেলা সদর হাসপাতালে সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) চালু করা হবে। এছাড়া মুমূর্ষু হূদরোগীদের জন্য থাকবে করনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ)। অন্যদিকে, কিডনি রোগীদের বিশেষজ্ঞ চিকিত্সার জন্য হচ্ছে আলাদা ইউনিট। এছাড়া জেলা ও উপজেলার হাসপাতালে বিকালেও আউটডোরে রোগী দেখতে হবে ডাক্তারদের। স্বাস্থ্য-সেবার উন্নয়নে এক বছরের কর্ম-পরিকল্পনায় এসব বিষয় রাখা হয়েছে।
জানা যায়, রাজধানীর বাইরে কয়েকটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ এবং সিসিইউ রয়েছে। তবে নানা কারণে এখানে রোগীরা মানসম্পন্ন সেবা পান না। ফলে আইসিইউতে রাখতে সংকটাপন্ন রোগীদের ঢাকা আনতে হয়। অনেক সময় আনার পথে রোগী মারা যায়। হূদরোগীদের চিকিত্সার জন্য সিসিইউ’ও জরুরি। সব জেলায় এই ব্যবস্থা থাকলে জেলা-উপজেলার রোগীদের ঢাকামুখী হতে হবে না। এছাড়া জেলা পর্যায়ে কিডনি রোগীদের প্রাথমিক চিকিত্সার ব্যবস্থা থাকলে তাদের আর ঢাকা আসার দরকার নেই।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ইতিমধ্যে দেশের ৫টি জেলা সদর হাসপাতালে আইসিইউ চালু করা রয়েছে। তবে সেসব খুব একটা সক্রিয় না। এসব সক্রিয় করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দেশের পাঁচটি মহাসড়কে ৫টি ট্রমা সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। তবে এগুলো এখনো চালু করা হয়নি। চালু হলে মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাথমিক-ভাবে চিকিত্সা সেবা দেয়া যাবে। আর এতে করে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুহার কমে আসবে।
এসব ট্রমা সেন্টারগুলো পাশের মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। ইংল্যান্ডে এই আদলে ট্রমা সেন্টার রয়েছে। বাংলাদেশের ট্রমা সেন্টারগুলোও ইংল্যান্ডের আদলে হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: দীন মোহাম্মদ নুরুল হক।
এদিকে চিকিত্সা ব্যবস্থা সহজতর করতে জেলা-উপজেলায় বৈকালিক চিকিত্সা ব্যবস্থা চালু করা হবে। এতে করে মফস্বলের দরিদ্র মানুষ সহজে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের পরামর্শ পাবে। হাতের কাছে থাকবে চিকিত্সা ব্যবস্থা। পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করতে পারবে বিনামূল্যে। এতে করে গলাকাটা চিকিত্সা থেকে রক্ষা পাবে রোগীরা।
ইতিমধ্যে নওগাঁর মান্দা উপজেলায় বৈকালিক চিকিত্সা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। প্রতিদিন চিকিত্সা সেবা এবং ওষুধ পাচ্ছেন রোগীরা। আগামী সপ্তাহ থেকে এক্সরে এবং প্যাথলোজিক্যাল পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু হবে। বিনামূল্যে এই সেবা দেয়ার ফলে রোগীদের এখন আর হাসপাতালের বাইরে যেতে হবে না। বাড়তি খরচও করতে হবে না।
এ প্রসঙ্গে নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা: মোজাহার হোসেন বুলবুল বলেন, প্রতিদিন ২৫০-৩০০ রোগী বৈকালিক চিকিত্সা সেবা পেয়ে থাকে। দিন দিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আগামী সপ্তাহে জেলার বদলগাছি উপজেলায় বৈকালিক চিকিত্সা সেবা চালু হবে। ক্রমান্বয়ে বাকি উপজেলায়ও এই সেবা চালু করা হবে।
মডেল হিসেবে এটি চালু করা হয়েছিল। এখন সফল হওয়ায় এটি সারাদেশে চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং মাঠ পর্যায় পর্যন্ত চিকিত্সকদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। যেসব জেলা-উপজেলায় এক্সরে, প্যাথোলজিক্যাল পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে সেখানে চালু করা হবে। জেলাতেই পূর্ণাঙ্গ চিকিত্সা সেবা থাকবে।
এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এক বছরের কর্মপরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। একে একে সব বাস্তবায়ন করা হবে। কিছু কাজ ইতিমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি চিকিত্সা সেবার উন্নয়নে গৃহীত কর্মপরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়ন হবে। সরকার সকল নাগরিকের উন্নত চিকিত্সা সেবা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।