১৫ বছরে ১০০টি ইকোনমিক জোন তৈরি করবে সরকার

আগামী ১৫ বছরের মধ্যে সারা দেশে ১০০টি ইকোনোমিক জোন (অর্থনৈতিক অঞ্চল) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে উন্নীতকরণের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার। এক্ষেত্রে সারা দেশে ইকোনোমিক জোন তৈরির বিকল্প নেই বলে মনে করেন সরকার-সংশ্লিষ্টরা। তাই এমন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় শিগগিরই প্রস্তাবিত ইকোনমিক জোনগুলোর অবকাঠামোগত ও প্রয়োজনীয় পরিষেবার চাহিদা নিরুপণ করা হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ, ভূমি অধিগ্রহণ, রাস্তা-ঘাটসহ কালভার্ট ও সেতু নির্মাণ, প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ, যথাসময়ে বাস্তবায়ন, প্রকল্প অনুমোদন এবং অবকাঠামোগত অন্যান্য উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দকরণ প্রক্রিয়া নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্রে জানা যায়, ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা থাকলেও আপাতত ৩০টি জোন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। বেজার গভর্নিং বোর্ডের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি ২২টি জোন প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিয়েছেন। অনুমোদিত জোনের মধ্যে ৩টি বেসরকারি। এ ছাড়া সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রাথমিক স্থান নির্বাচন কমিটির সভায় আরও ৮টি জোন নির্বাচন করা হয়েছে। অর্থাৎ বেজা বর্তমানে মোট ৩০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অনুমোদিত ৩০টি জোন প্রতিষ্ঠায় দ্রুত কাজ করে যাচ্ছে বেজা। চলছে শিল্পায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে দফায়-দফায় বৈঠক। এসব অর্থনৈতিক জোনে অফ-সাইড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও পরিষেবাসমূহ নিশ্চিত করবে সরকার।
শুধু দেশি বিনিয়োগই নয়, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে প্রচলিত পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ ছাড়াও জিটুজিসহ দেশের অন্যান্য উন্নয়ন সম্পৃক্ত অধিদপ্তরসমূহের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে জোন স্থাপনে বিধিবিধানেরও প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব জোন স্থাপনে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হতে পারে জ্বালানি সংকট। বিশেষ করে গ্যাস-সংকটের কারণে বাধাগ্রস্ত হতে পারে সরকারের এই উদ্যোগ। গ্যাস সংকট অব্যাহত থাকলে বিদেশি বিনিয়োগ দূরে থাক, দেশি বিনিয়োগও পাওয়া যাবে না।
সম্প্রতি শিল্পমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১৬-২০) দলিলের খাতভিত্তিক পরার্মশ সভায় জ্বালানি সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, গ্যাস সংকটই বিদেশি বিনিয়োগে বড় বাধা। শুধু তাই নয়, দেশি বিনিয়োগকারীরাই ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে শিল্প-কারখানা স্থাপনের পর গ্যাস-সংকটে এগুলো চালু করতে পারছেন না।
প্রসঙ্গত, দেশে বর্তমানে গড়ে ৩ হাজার থেকে ৩২শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ করা হচ্ছে ২৩শ থেকে ২৪শ মিলিয়ন ঘনফুট। দিন দিন এ ঘাটতি বাড়ছে। অদূর ভবিষতে এটি আরও প্রকট হয়ে উঠবে। ফলে বিকল্প জ্বালানি ছাড়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে সরকারের ইকোনমিক জোন তৈরির পরিকল্পনা। মুখ থুবড়ে পড়তে পারে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীতকরণের স্বপ্ন, উন্নত দেশে উন্নীতকরণ তো আরও অনেক পরের বিষয়।