পর্যটন খাত

ধারাবাহিক অগ্রগতি বজায় রাখতে হবে

পর্যটন খাত দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন এবং একই সঙ্গে বিশ্বের কাছে দেশের সৌন্দর্য তুলে ধরার অন্যতম উপায়। কিন্তু যে কোনো কারণেই যদি এই পর্যটন খাত থমকে যায় তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগের। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, রাজনৈতিক অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক হুমকির মুখে পড়েছিল দেশের পর্যটন খাত। আর শুধু তাই নয়, অনেকেই পর্যটন সংশ্লিষ্ট পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে যখন জানা যাচ্ছে, টানা ২ বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর এবার সুদিন ফিরছে পর্যটন শিল্পে; তখন তা অত্যন্ত ইতিবাচক বলেই আমরা মনে করি। এছাড়া আসছে মৌসুমে কোনো ধরনের অস্থিরতা না থাকায় এই পেশা ছেড়ে যাওয়াদের অনেকেই ফিরে আসছেন নতুন উদ্যোমে এই বিষয়টিও অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।
প্রসঙ্গত এটা বলা দরকার, যখন দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করে তখন তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে প্রায় প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই। আর এ ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম ছিল না দেশের পর্যটন শিল্পেও। কয়েক বছর টানা অস্থিরতায় পর্যটন ব্যবসায় মারত্মক সংকটে ছিল। এমনকি ওই সময় দেশের প্রধান প্রধান পর্যটন অঞ্চলও ছিল পর্যটকশূন্য। বিভিন্ন হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টে আকর্ষণীয় ছাড় দেয়ার পরেও কাঙ্ক্ষিত ফল তো দূরের কথা, অস্তিত্বের প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছিল। তবে এবার যখন চিত্র ভিন্ন তখন তা সুখকর বলেই আমরা বিবেচনা করি। সঙ্গত কারণেই অতীতের ক্ষতিকে পোষানো এবং সার্বিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করে দেশের পর্যটন খাতে যথাযথ উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসারও বিকল্প নেই বলেই মনে করি।
উল্লেখ্য, সাধারণত অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যটনের মৌসুম হলেও এবার ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতি চলছে অনেক আগে থেকেই। রমজানের ঈদকে ঘিরেই এবার প্রায় ২ মাস আগে থেকেই ব্যবসায় নামছেন তারা। তথ্য মতে জানা যাচ্ছে, পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ২ শতাধিক হোটেল এবং গেস্ট হাউস ও কটেজ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০ ভাগ হোটেলের সিট অগ্রিম বুক হয়েছে। এছাড়া নামি হোটেলগুলোতে কোনো সিটই খালি নেই। ফলে এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়, যদি রাজনৈতিক পরিবেশ সহিংস বা অস্থির না হয়ে ওঠে পর্যটন খাতের স্বাভাবিকতার ক্ষেত্রে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। অনুমান করা যাচ্ছে যে, ঈদের এক সপ্তাহ কক্সবাজারেই প্রায় আড়াই লক্ষ্যাধিক পর্যটকের সমাগম হবে। এছাড়া পুরো মৌসুমেও এবার কাঙ্ক্ষিত পর্যটক আসবে।
এটা স্বাভাবিক যে, মানুষ ভ্রমণ করতে চায়। আর এর জন্য ইতিবাচক পরিবেশ অগ্রগণ্য। অস্থিরতা কিংবা সহিংস পরিস্থিতিতে কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণে বের হবেন না এটা নিশ্চিত। ফলে বর্তমানে দেশে যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা নেই, তখন এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দেশের পর্যটনশিল্প আবারো প্রাণ ফিরে পাক এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে সহযোগী এমনটি কাম্য।
সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, ইতিবাচক পরিবেশের কারণেই দেশের পর্যটন খাতে আবার প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে আসছে। আবারো পর্যটনশিল্প অগ্রগতির ধারায় এগিয়ে যাবে এমন সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে। ফলে দেশের প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলকেই এ পরিস্থিতিকে বিবেচনা করে যে কোনো দাবি, আন্দোলন যেন সহিংস না হয়ে ওঠে সেদিক লক্ষ্য রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আমাদের প্রত্যাশা, বর্তমান চিত্রকে পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেশের পর্যটনশিল্পকে আরো এগিয়ে নিতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। পর্যটন খাতের উন্নয়নই পারে একদিকে যেমন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অবদান রাখতে, তেমনিভাবে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সারা বিশ্বের কাছে দেশের সৌন্দর্য ও সংস্কৃতিকে প্রত্যক্ষভাবে তুলে ধরতে।