কুড়িগ্রাম ছিটমহলে জনগণনা শেষ

মোট জনসংখ্যা ৮ হাজার ৩১২ ভারতে যেতে আগ্রহী ৩৪২ জন

নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে গেল বহুল আকাঙ্ক্ষিত ছিটমহলগুলোর জনগণনার কাজ। বৃহস্পতিবার শেষ দিনে শুধুমাত্র ফুলবাড়ী উপজেলায় জনগণনার কাজ চলমান ছিল। ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় দুদিন আগেই জনগণনার কাজ শেষ হয়ে যায়। গত ১১ দিন ধরে জরিপ কাজে জেলার ১২টি ছিটমহলে জনগণনা করে মোট জনসংখ্যা পাওয়া যায় ৮ হাজার ৩১২ জন। এরমধ্যে ভারতীয় নাগরিক হতে নিবন্ধিত হয়েছে ৩৪২ জন। জেলার ভুরুঙ্গামারীতে ১০টি ছিটমহলে বাংলাদেশের নাগরিক হতে নিবন্ধিত হয়েছে ২৬৬ পরিবার। এতে লোকসংখ্যা ১ হাজার ২৪৩ জন। ভারতে যাওয়ার জন্য নিবন্ধিত হয়েছে ৩৪ জন। অপরদিকে ফুলবাড়ীর দুটি ছিটমহলে বাংলাদেশে থাকার জন্য নিবন্ধিত হয়েছে ১ হাজার ৬৪২ পরিবার। এতে লোকসংখ্যা ৭ হাজার ৬৯ জন। ভারতে যাওয়ার জন্য নিবন্ধিত হয়েছে ৩০৮ জন।
২০১১ সালে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত জনগণনার সময় কুড়িগ্রামে ১২টি
ছিটমহলে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার পরিবারের ৮ হাজার ৩০৭ জন মানুষকে কাউন্টিং করা হয়। বর্তমান জরিপে পরিবার দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৪২টি এবং লোকসংখ্যা ৮ হাজার ৩১২ জন। লোকসংখ্যা কাছাকাছি হলেও পরিবারের মধ্যে পার্থক্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪শ’ পরিবার।
ফুলবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন মাহমুদ জানান, জনগণনার শেষ দিন বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১ হাজার ৬৪২ পরিবারে ৭ হাজার ৬৯ জনকে হেডকাউন্টিং’র আওতায় আনা হয়েছে। ভারতে যাওয়ার জন্য নিবন্ধিত হয়েছে ৩০৮ জন।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এজেএম এরশাদ আহসান হাবীব জানান, জনগণনার শেষ দিন বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৬৬ পরিবারে ১ হাজার ২৪৩ জনকে হেডকাউন্টিং’র আওতায় আনা হয়েছে। ভারতে যাওয়ার জন্য নিবন্ধিত হয়েছে ৩৪ জন।
জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন জানান, সুষ্ঠুভাবে জনগণনা সম্পন্ন হয়েছে। পরিসংখ্যান বিভাগের এঙ্পার্টগণ ইতোমধ্যে কুড়িগ্রামে এসেছেন। তারা এই তথ্য উপাত্ত নিয়ে আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত ডাটাবেজ কাজ করবেন। এরপর ২১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে এই জনগণনার ডাটাবেজ রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের হাতে তুলে দেয়া হবে। ইতোমধ্যে সরকারের সকল বিভাগকে নিয়ে মিটিং করে ছিটমহলবাসীর জীবনমান উন্নয়নে কর্মপরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ছিটমহল বিনিময়ের সঙ্গে সঙ্গেই পুরোদমে কাজ করা হবে। এছাড়া ছিটমহলবাসীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।