দুরন্তের উৎপাদন বাড়াচ্ছে রানার

দেশীয় মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড রানারের ‘দুরন্ত’ মোটরসাইকেলের চাহিদা বাড়ছে। মাত্র ৫৯ হাজার টাকা মূল্যের জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব ৮২.২ সিসির এই মোটরসাইকেল বাজারে আসার মাস দুয়েকের মধ্যেই স্টক ফুরিয়ে যায়। এ অবস্থায় ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনা করে উৎপাদন বাড়াচ্ছে রানার গ্রুপ। ভালুকায় ১২৫ বিঘা জমির ওপর রানারের পূর্ণাঙ্গ মোটরসাইকেল কারখানায় বর্তমানে দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ৫০০ মোটরসাইকেল।

রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, ‘দেশীয় কম্পানি হিসেবে বাংলা ব্র্যান্ড নামের মোটরসাইকেল দুরন্তের অভাবনীয় সাফল্য আমাদের উৎসাহ জোগাচ্ছে। গ্রাহক সেবাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে আমরা সব মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ছয় বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা দিচ্ছি, যা আর কোনো কম্পানি দেয়নি। তা ছাড়া জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং নতুন ডিজাইনের সমন্বয়ে দুরন্ত গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।’

ময়মনসিংহের ভালুকায় রানার কারখানায় মোটরসাইকেলের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ যথা : চেসিস, রিয়ার ফর্ক, ফুয়েল ট্যাংক, মেইন স্ট্যান্ড, সাইড স্ট্যান্ড, ফুট পিগ ইত্যাদি তৈরি এবং ইঞ্জিন সংযোজন করা হচ্ছে। এসব যন্ত্রাংশ রং করার জন্য অত্যাধুনিক পেইন্ট শপ স্থাপন করা হয়েছে। রানারের নিজস্ব প্রকৌশলীদের ডিজাইন করা দুরন্ত মোটরসাইকেলে আছে সিঙ্গেল সিলিন্ডার ৪ স্ট্রোক এয়ার কুলড পেট্রল ইঞ্জিন। ইঞ্জিন ৪.০ কিলোওয়াট শক্তি উৎপাদন করতে পারে। ইঞ্জিনের ঘূর্ণন গতি ৭৫০০ আরপিএম। মোটরসাইকেলটিতে কিক দিয়ে স্টার্ট দিতে হয়। ফুয়েল ট্যাংকে ৭.৫ লিটার জ্বালানির ধারণক্ষমতা রয়েছে। দুরন্তের ওজন ৭৪.৫ কেজি।

রানারের উপমহাব্যবস্থাপক (বিপণন) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের বাজারে ৫০ ও ৮০ সিসি ক্ষমতার মোটরসাইকেল ব্যবসায় রানার অটোমোবাইলস বর্তমানে মার্কেট লিডার হিসেবে অবস্থান করছে।’ রানার অটোমোবাইলের বিক্রয় কর্মকর্তা মো. হোসাইন চৌধুরী জানান, দুরন্ত মোটরসাইকেলের মূল্য সাশ্রয়ী হওয়ার কারণে চাহিদা বাড়ছে। বাজেটের পর মোটরসাইকেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় দুরন্তের চাহিদা আরো বেড়েছে। নগদের পাশাপাশি কিস্তিতেও দুরন্ত মোটরসাইকেল কেনার সুযোগ আছে। এ ক্ষেত্রে অর্ধেক দাম পরিশোধ করে বাকি টাকা কিস্তিতে দেওয়া যাবে।