২০১৪-১৫ অর্থবছরে সরকারের ব্যাংক ঋণ কমেছে সাত হাজার কোটি টাকা

গত অর্থবছরে সরকারের নিট ব্যাংক ঋণে ঋণাত্মক ধারা ছিল। এসময়ে ৬ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা কমে সরকারের নীট ঋণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৭ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকায়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সরকারের ঋণ বেড়েছিল ৬ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বেশি হওয়ায় গেল অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। ফলে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে আর বাড়তি টাকা ধার করতে হয়নি সরকারকে। ব্যাংকের চেয়ে সুদহার বেশি থাকায় জাতীয় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই বাড়ছিল। বিক্রি কমাতে গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে এসে সঞ্চয়পত্রের সুদহার গড়ে ২ শতাংশ কমিয়ে ১১ শতাংশের আশপাশে নির্ধারণ করা হয়। এরপরও গত মে পর্যন্ত ১১ মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে নিট ২৬ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। অর্থবছরের শুরুতে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে মাত্র ৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সংশোধিত বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ২১ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। তবে সেই লক্ষ্যমাত্রাও ইতিমধ্যে ছাড়িয়ে গেছে।

 

গত অর্থবছরে সরকার ব্যাংক থেকে ৩১ হাজার ২২১ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করে। বছরের শুরু থেকে ঋণ কম থাকার পরও সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৩১ হাজার ৭১৪ কোটি টাকা করা হয়। গত অর্থবছর ব্যাংক থেকে সরকার যে পরিমাণ ঋণ নিয়েছে পরিশোধ করছে তার চেয়ে বেশি। এতে ব্যাংক ব্যবস্থায় গত জুন শেষে ব্যাংক খাতে সরকারের নিট ঋণ কমে এক লাখ ৭ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের শেষ দিন অর্থাত্ ৩০ জুন এর পরিমাণ ছিল এক লাখ ১৪ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা। এতে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ব্যাংক খাতে সরকারের ঋণ কমেছে ৬ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা। গত অর্থবছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সরকারের ঋণ এক হাজার ৬১১ কোটি টাকা কমে ১২ হাজার ৫০ কোটিতে নেমে এসেছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ৫ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. বিরূপাক্ষ পাল সমকালকে বলেন, সঞ্চয়পত্র থেকে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি অর্থ আসায় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ চাহিদা কম ছিল। এ কারণে নিট ঋণ কমে গেছে। আশানুরূপ বিনিয়োগ না হওয়ায় ব্যাংকগুলো ধারাবাহিকভাবে আমানত ও ঋণের সুদহার কমিয়ে আসছে। বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে প্রচুর উদ্বৃত্ত অর্থ জমে আছে।

 

সামপ্রতিক কয়েকটি অর্থবছর পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় আসার শুরুর অর্থবছরে ২০০৯-১০ অর্থবছর ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ নেয়নি। অপরদিকে তারা ব্যাংকগুলোর ৭ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা পরিশোধ করে। এরপর প্রতিবারই ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার পরিমাণ বেড়েছে। ২০১০-১১ অর্থবছর ব্যাংক থেকে সরকার ২০ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা নিয়েছে। পরবর্তী অর্থবছরে নেয়া হয়েছে ২১ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। ২০১২-১৩ অর্থবছরে সরকার ২৪ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা নিয়েছিল। ২০১৩-১৪ অর্থবছর নেয়া নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা।