পরিবর্তন আসছে মোবাইল ব্যাংকিং নীতিমালায়

অংশীদার হবে ফোন অপারেটররা কমবে ব্যাংকের একক মালিকানা -

মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার নীতিমালায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ৫১ শতাংশ ব্যাংক নিজ মালিকানায় রেখে বাকি অংশীদারিত্ব মোবাইল ফোন অপারেটর, অন্য ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু রয়েছে এমন ব্যাংকগুলোকেও আগামী তিন বছরের মধ্যে নতুন নীতি অনুযায়ী শেয়ার ছেড়ে দিতে হবে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোবাইলে আর্থিক সেবা বা মোবাইল ব্যাংকিং নীতিমালায় এমন সব সংশোধনী প্রস্তাব করে এর খসড়া ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে।

 

বর্তমানে একটি ব্যাংক নিজস্ব সহযোগী (সাবসিডিয়ারি) প্রতিষ্ঠান গঠনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লাইসেন্স নিয়ে মোবাইল ব্যাংকিং পরিচালনা করে থাকে। এতে শতভাগ মালিকানা থাকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকটির। সার্ভিস চার্জের ভিত্তিতে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী গ্রাহকদের এ সেবা দিয়ে থাকে ব্যাংকের ওই সহযোগী প্রতিষ্ঠান। এ ধরনের পদ্ধতিকে ‘ব্যাংক-লেড’ মডেল বলা হয়। এটি পরিবর্তন করে এখন ‘মাল্টি ব্যাংক মডেল’ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ কোনো সুপারিশ না এলে শিগগির এটি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

দেশের মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো নিজস্ব মালিকানায় বা ব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে মোবাইল সেবা চালুর জন্য দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে অনুমতি চেয়ে আসছে। ২০০৯ সালে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু হওয়ার পর গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও রবি (তখনকার একটেল) সরাসরি মোবাইল ব্যাংকিং পরিচালনার অনুমতি চেয়েছিল। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই সময় সে প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।

 

সংশোধিত খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, মোবাইল ব্যাংক চালু করতে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি খোলা হলে এতে ব্যাংকের মালিকানা থাকবে ৫১ শতাংশ। মালিকানার বাকি অংশ মোবাইল অপারেটর, অন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে। আর একটি মোবাইল অপারেটরকে মোট মালিকানার সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ দেয়া যাবে। তবে একটি কোম্পানিতে সব অপারেটরের ৩০ শতাংশের বেশি মালিকানা থাকবে না। আর একটি মোবাইল অপারেটর একাধিক প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নিতে পারবে।

 

বর্তমানে দেশে রাষ্ট্রায়ত্ত মালিকানার টেলিটকসহ ছয়টি মোবাইল ফোন অপারেটর রয়েছে। আর ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২৮টি ব্যাংককে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা পরিচালনার লাইসেন্স দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এদের মধ্যে ২০টি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম শুরু করেছে। অন্যদিকে প্রাইম, সোনালী, জনতা ও বিদেশি মালিকানার সিটিএনএর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। বাকি চারটি ব্যাংকের এ সেবা চালুর উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের আওতায় মোট ২ কোটি ৬০ লাখ অ্যাকাউন্ট রয়েছে। দৈনিক গড় লেনদেন ৪২০ কোটি টাকা। এগুলোর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা প্রদানকারী সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিকাশের রয়েছে এক কোটি ৭০ লাখ অ্যাকাউন্ট। বিকাশের মাধ্যমে দেশে সবচেয়ে বেশি মোবাইল ব্যাংকিং হয়ে থাকে।