ঈদের আগে চাঙা পুঁজিবাজার স্বস্তিতে বিনিয়োগকারীরা

আজ থেকে ছয় দিন বন্ধ থাকবে পুঁজিবাজার। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এমন ছুটির আগে চাঙা পুঁজিবাজারে স্বস্তিতে ছিলেন বিনিয়োগকারীরা। বিশেষ করে গেল সপ্তাহ আর চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার পর্যন্ত মূলত চাঙাবস্থায় ছিল পুঁজিবাজার। এতে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা উত্তোলন করার সুযোগ পেয়েছেন।

বাজার বিনিয়োগকারীদের মন্তব্য ঈদের আগে বাজার চাঙ্গা থাকলে অনেকটা স্বস্তিতে থাকা যায়। ঈদের জন্য বাজার থেকে চাহিদামতো টাকা উত্তোলন করার সুযোগ থাকে। কিন্তু এ সময় বাজার মন্দা থাকলে বিশেষ প্রয়োজনে লোকসানে রেখেই শেয়ার বিক্রি করে টাকা উত্তোলন করতে হয়। এবার বাজার চাঙা থাকায় লোকসানে নয় বরং যেসব শেয়ারের মুনাফা ছিল সেগুলো বিক্রি করেই প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হয়েছে।

এদিকে বন্ধের আগের দিনও চাঙাবস্থায় ছিল দেশের পুঁজিবাজার। সূচক বেড়েছে, লেনদেন বেড়েছে। একই সঙ্গে লেনদেন হওয়া অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দামও বেড়েছে। এদিন বিশেষ করে প্রকৌশল খাত, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত, অন্যান্য খাত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের লেনদেন ছিল শীর্ষে। আগের দিনের তুলনায় প্রকৌশল খাতের লেনদেন বেড়েছে ৩১ কোটি টাকা। সোমবার এ খাতের লেনদেন হয়েছিল ৬২ কোটি টাকা। মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছে ৯৩ কোটি টাকা। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের লেনদেন বেড়েছে ৩ কোটি টাকা। মঙ্গলবার খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের লেনদেন একদিনের ব্যবধানে ৮৩ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০৭ কোটি টাকা। ফলে মঙ্গলবার এ খাতের লেনদেন আগের কার্যদিবসের তুলনায় বেড়েছে ২৪ কোটি টাকা।

মঙ্গলবারের বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ১১ কোটি ৭৩ লাখ ৯৬ হাজার ৬৭৪টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। লেনদেনের পরিমাণ ৫২০ কোটি ৬৫ লাখ ৬৯ হাজার ৮৮৪, যা আগের দিনের চেয়ে ২৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা বেশি।

ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের কার্যদিবসের চেয়ে ২৭.২৯ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬৫৬.১৪ পয়েন্টে। ডিএস-৩০ মূল্য সূচক ৫.৮১ বেড়ে ১৮২০.৮৮ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস শরিয়া সূচক (ডিএসইএস) ৫.২৭ বেড়ে ১১৪৭.২১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেনকৃত ৩১৭টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৮৩টির, কমেছে ৮৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৯টি কোম্পানির শেয়ার। লেনদেনের ভিত্তিতে (টাকায়) ডিএসইর প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো এসিআই, কেপিসিএল, বিএসআরএম, ইফাদ অটোস, ইউনাইটেড পাওয়ার, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, গ্রামীণফোন, বেক্সিমকো, এমজেএল বিডি ও বেক্সিমকো ফার্মা।

দর বৃদ্ধির শীর্ষে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো বিএসআরএম, এক্সিম প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড, বিএসআরএম স্টিল, আইসিবি প্রথম এনআরবি, শাহাজীবাজার পাওয়ার, আরগন ডেনিমস, ইফাদ অটোস, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স ও রূপালী ব্যাংক।

অন্যদিকে দাম কমার শীর্ষে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো মুন্নু সিরামিকস, সাভার রিফ্রেক্টরিজ, এফবিএফআইএফ, হাক্কানী পাল্প, এআইবিএল প্রথম ইসলামী মিউচুয়াল ফান্ড, গোল্ডেন হারভেস্ট, সমতা লেদার, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, এসিআই ও আরামিট সিমেন্ট।

অপরদিকে চট্টগ্রাাম স্টক এক্সচেঞ্জের সিএসসিএক্স ৫১.৯০ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭২২.০২ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে ৪২ কোটি ৪৭ লাখ, যা আগের দিনের তুলনায় ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা বেশি। লেনদেন হওয়া ২৩৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১২৫টির, কমেছে ৮২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩০টির।