সিরাজগঞ্জের কাঁঠালে দরিদ্রদের মুখে হাসি

কাজিপুর উপজেলার বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের দুই পাশে রয়েছে জাতীয় ফল কাঁঠাল বাগান। এ মৌসুমি ফল বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন স্থানীয় গরিব ও অসহায় পরিবারের লোকজন। এবার কাঁঠালের দাম কিছুটা কম থাকলেও এ ফল বিক্রি করে বাড়তি আয় করায় তাদের মুখে হাসি ফুটেছে। ওই উপজেলার বিলচতল থেকে আফানিয়া পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দুই পাশে সারি সারি কাঁঠাল গাছ লাগানো হয়েছে। স্থানীয় গরিব ও অসহায় পরিবারের লোকজনই এ গাছ রোপণ করেন। এখানকার গাছে ঝুলছে হাজার হাজার কাঁঠাল। এছাড়াও বাঁধসংলগ্ন গ্রামসহ বিভিন্ন গ্রামের বৃক্ষপ্রেমিকরা বাড়ির আঙিনায়, বাঁধ ও সড়কের পাশে রোপণ করেছেন কাঁঠাল গাছ। ফল প্রেমিকরা বনজ বৃক্ষের পরিবর্তে ফলজ বৃক্ষ লাগাতে গ্রামবাসীকে উৎসাহিত করছেন দীর্ঘদিন ধরে। নিজের বাড়িসংলগ্ন এলাকা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দুই পাশে কাঁঠাল চারা লাগিয়ে তারা সাত থেকে আট বছর তা রক্ষণাবেক্ষণ করেছেন। এদিকে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে এ কাঁঠাল এখন বাজারজাত করা হচ্ছে। এবারের ফলন আগের বছরের চেয়ে কিছুটা কম। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, কাজিপুর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১০ কিলোমিটারজুড়ে বাঁধের দুই পাশে ৬ হাজারেরও বেশি গাছ রয়েছে। বাঁধসংলগ্ন মেঘাই গ্রামের কৃষক আফছার, বৃক্ষপ্রেমিক ইদ্রস আলী ও গোলাম হোসেনসহ অনেকেই জানান, যমুনার ভাঙনে ১০ বছর আগে এ গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড বিপুল টাকা ব্যয়ে নতুন মেঘাই থেকে মসলিমপাড়া পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করে। বাঁধসংলগ্ন পলাশপুর, মেঘাই, নতুন মেঘাই, মসলিমপাড়া, মানিকপটল গ্রামের জমির ওপর দিয়ে এ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এছাড়াও পরে তাদের জমির দিয়ে নির্মিত হয় বিকল্প বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। বাঁধের নতুন মাটিতে ১০ বছর আগে তারা কাঁঠাল গাছ রোপণ করেন। এখন গরিব ও অসহায় পরিবারের লোকজন বাঁধের দুই পাশের কাঁঠাল বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন বলে তারা উল্লেখ করেন।