বিনিয়োগে আস্থা বাড়ছে

দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগে আস্থা বাড়ছে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের। এর ফলে নতুন করে দেশে কর্মসংস্থান বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের চেয়ে দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিনিয়োগ প্রস্তাব বেড়েছে ২৯ শতাংশ। বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ডের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হচ্ছে এমন সংবাদে দেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি আস্থা বাড়ায় বিনিয়োগের প্রস্তাব বেড়েছে। তবে বিনিয়োগের প্রস্তাব বাড়লেই বলা যাবে না যে প্রকৃত বিনিয়োগ বেড়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থাৎ (এপ্রিল-জুন) ৩৩ হাজার ৭৯ কোটি ৯২ লাখ টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। যা এর আগের প্রান্তিকের (জানুয়ারি মার্চ) সময়ে ছিল ২৫ হাজার ৬৪৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা। সে হিসেবে তিন মাসের ব্যবধানে বিনিয়োগ প্রস্তাব বেড়েছে ৭ হাজার ৪৩৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকার। যা শতাংশের হিসাবে ২৯ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্থানীয় বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে ৩১ হাজার ৭৩১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে এপ্রিলে ছিল ১৫ হাজার ৭২৯ কোটি ১৯ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, মে মাসে ৮ হাজার ৪৯১ কোটি ৪০ লাখ ৭১ হাজার টাকা ও জুনে হয়েছে ৭ হাজার ৫১০ কোটি ৭৩ লাখ ৯১ হাজার টাকা। যা প্রথম প্রান্তিকে ছিল ২৪ হাজার ৫৯৮ কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। দেশীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি যৌথ ও শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে ১ হাজার ৩৪৮ কোটি ৫৮ লাখ ৩১ হাজার টাকা। যা আগের প্রান্তিকে ছিল এক হাজার ৪৬ কোটি ৫৮ লাখ ৫ হাজার টাকা।
এদিকে চলতি বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে জুন মাসে। এ মাসে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে থেকে মোট ২৩১ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার টাকার প্রস্তাব এসেছে। যা চলতি বছরের ছয় মাসের (জানুয়ারি-জুন) মধ্যে সব চেয়ে কম। শুধু তাই নয়, মে মাসের তুলনায় তা অর্ধেকেরও কম, আর এপ্রিলের তুলনায় তা এক-তৃতীয়াংশের একটু বেশি। এদিকে যৌথ ও শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি জুনে স্থানীয় বিনিয়োগের নিবন্ধন প্রস্তাব তুলনামূলক কমেছে। জুনে স্থানীয় বিনিয়োগের নিবন্ধন প্রস্তাব এসেছে ৭ হাজার ৫১০ কোটি ৭৩ লাখ ৯১ হাজার টাকা, যা এপ্রিল মাসের চেয়ে ৮ হাজার ২১৮ কোটি ৪৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা কম। আর মে মাসের চেয়ে তা ৯৮০ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা কম।
তবে জুনে অতিমাত্রায় যৌথ ও শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব কম হওয়ায় বিচলিত নয় বিনিয়োগ বোর্ড। তাদের মতে, জুন ক্লোজিংয়ের কারণে বিনিয়োগের প্রস্তাব কমতে পারে। তবে এটাকে উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে দেখছেন না তারা। বিনিয়োগ বোর্ডের মতে, প্রত্যেক বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বিনিয়োগের প্রস্তাব একটু কম থাকে। আর জুলাই থেকে ডিসেম্বরে তা আবার বেড়ে যায়। তাই প্রথম বা দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্থানীয় এবং যৌথ ও শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগের নিবন্ধন প্রস্তাব কম আসায় তেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। এছাড়া প্রথম প্রান্তিকের চেয়ে দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রকল্পের সংখ্যা বেড়েছে। তাই বছর শেষে প্রকৃত বা নীট বিনিয়োগ প্রস্তাবিত বিনিয়োগের চেয়ে বাড়বে।
এ বিষয়ে বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী সদস্য নাভাস চন্দ্র মণ্ডল বলেন, জুন মাসে স্থানীয় এবং যৌথ ও শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগের নিবন্ধন প্রস্তাব কিছুটা কমেছে। তবে এ ধরনের ঘটনায় বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ কোনো মাসে বিনিয়োগ বাড়বে, আবার কোনো মাসে বিনিয়োগ কমবে এটাই স্বাভাবিক। সাধারণত বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) বিনিয়োগ নিবন্ধন প্রবাহ কম থাকে। তবে পরের ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। আমার মনে হয়, জুন ক্লোজিংয়ের কারণে বিনিয়োগ কিছুটা কম হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ও প্রকৃত বিনিয়োগ এক কথা নয়। এ মুহূর্তে একাধিক মেগা প্রকল্প নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তার যে কোনো একটি বাস্তবায়ন শুরু হলেই পরিস্থিতি বদলে যাবে। আমরা প্রস্তাবের চেয়ে বিনিয়োগ কতটুকু হচ্ছে বা হয়েছে তার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা চাই দেশে মেগা প্রজেক্ট হোক। – See more at: