বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে বিতরণের ত্রুটি দূর করুন

বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাংলাদেশ ৮ হাজার মেগাওয়াটের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্যানুযায়ী চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনের সামর্থ্য রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের। বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাইলফলক অতিক্রম করলেও রাজধানীসহ সারাদেশে কমবেশি বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখনও রয়েই গেছে। মাত্রা কমলেও লোডশেডিং এখনও চলছে। কোন কোন এলাকায় এর মাত্রা আরও বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনে এগিয়েছে তবে বিতরণ ব্যবস্থায় এখনও ত্রুটি রয়ে গেছে। এ নিয়ে গত মঙ্গলবারের দৈনিক সংবাদে একটি প্রতিবেদন রয়েছে। বিতরণ ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকায় আশানুরূপ গ্রাহক সন্তুষ্টি এখনও অর্জিত হয়নি।

দেশে বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখন অনেক ভালো। গ্রাহকরা সন্তুষ্ট। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে। বিদ্যুৎ চুরির পরিমাণও কমে গেছে। দেশে এখন লোডশেডিং নেই। বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে পিডিবি যে তথ্য সরবরাহ করে, সেটা শুভঙ্করের ফাঁকি। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ প্রসঙ্গে পিডিবি তাদের ওয়েবসাইটে প্রতিদিন যে তথ্য আপলোড করে তাতে ‘জিরো’ লোডশেডিং দেখানো হয়। অথচ দেশের এমন কোন এলাকা খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে কমবেশি লোডশেডিং হচ্ছে না।

মূলত বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকার কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। ঢাকায় ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাভুক্ত অনেক এলাকা অতিভারজনিত (ওভার লোড) সমস্যায় আক্রান্ত। পর্যাপ্ত সাবস্টেশন এবং ট্রান্সফরমার তাদের নেই। বিভিন্ন সময় ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে কোন কোন এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে মালিবাগ ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের সময় ভূগর্ভস্থ বিদ্যুতের ক্যাবল কেটে যাওয়ার কারণে এর আশপাশের কিছু কিছু জায়গায় লোডশেডিং হচ্ছে।

এসব সমস্যার সমাধান না করার ফলে বিদ্যুৎ বিতরণে ত্রুটি হচ্ছে এবং লোডশেডিংও হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাংলাদেশ যে মাইলফলক অতিক্রম করেছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এটা বাংলাদেশের জন্য একটি সাফল্য। বিদ্যুৎ উৎপাদনে অতীতের তুলনায় বর্তমান অবস্থা সাফল্যজনক হলেও গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যর্থই হয়েছে। ৮ হাজার ৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে অথচ রাজধানী ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন জায়গায় এখনও লোডশেডিং হচ্ছে। এটা দুঃখজনক। এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে দুর্বল এবং ত্রুটিপূর্ণ বিতরণ ব্যবস্থাকে।

‘সংবাদ’-এর প্রতিবেদন থেকে নিশ্চিতভাবেই জানা যায়, বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন এবং বিতরণ ব্যবস্থার মধ্যে কোন সমন্বয় নেই। যে হারে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে সেই হারে বিতরণ ব্যবস্থায় সক্ষমতা বাড়েনি। অথচ প্রয়োজন ছিল উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সমহারে বিতরণ ব্যবস্থায় সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়নি। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের দূরদর্শিতা ও পরিকল্পনার অভাবে সেটা করা হয়নি। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে জনগণ। উক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করে কি লাভ, যদি সেটা জনগণের দোরগোড়ায় পেঁৗছানো না যায়। সেটা করতে হলে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের অতি বুদ্ধিমানদের অতি দ্রুত বিতরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।