একধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ আর নিম্নআয়ের দেশ নয়, নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ-বিশ্বব্যাংকের এ ঘোষণায় দেশের সব মানুষ আনন্দিত। দলমত নির্বিশেষে সবাই উচ্ছসিত। স্বপ্ন পূরণের পথে আরও একটি ধাপ অতিক্রম করল বাংলাদেশ। সমপ্রতি নিম্নআয়ের দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ ঘটেছে, বিশ্বব্যাংকের নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় ঠাঁই হয়েছে বাংলাদেশের। বাংলাদেশের জন্য এটা এক বড় অর্জন, এক বড় স্বীকৃতি। দেশের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতিফলন ঘটেছে এ উত্তরণে। ‘৭১-এ স্বাধীনতা লাভের পর থেকে নিম্নআয়ের দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য আগামী ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গণ্য হবে বাংলাদেশ। সে লক্ষ্যে পেঁৗছতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের কাতারে বাংলাদেশের উঠে আসার পেছনে এ দেশের সব শ্রেণী-পেশা ধর্মবর্ণের মানুষের অবদান কোনভাবেই অস্বীকার করা যায় না। সবার নিরন্তর প্রচেষ্টা, অক্লান্ত পরিশ্রম, অনেক ত্যাগ, সংগ্রাম দীর্ঘ পথচলার ফলশ্রুতিতে আজ আমরা যে অবস্থানে পেঁৗছে গেছি সেটাকে খাটো করে দেখার কোন অবকাশ নেই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশবাসীও এ কৃতিত্বের দাবিদার। যোগ্য নেতৃত্ব, দুর্নীতিহীন সমাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত উন্নয়নের রাজনীতি নিশ্চিত করা সম্ভব হলে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে আমরা মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় নাম লেখাতে পারব। তেমন প্রত্যাশা আজ বাংলাদেশের সব মানুষের।নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার মাধ্যমে নতুন উচ্চতায় পেঁৗছেছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। বাংলাদেশের এ অর্জন বিশাল। এর ফলে সারা পৃথিবী এখন বাংলাদেশকে নতুনভাবে চিনবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হবেন এ দেশে নতুন নতুন বিনিয়োগে। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে স্বাভাবিকভাবে। আন্তর্জাতিক ঋণ গ্রহণে বাংলাদেশকে অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকির দেশ বিবেচনা করা হবে। একদা যে বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ আখ্যা দেয়া হতো, সময়ের পথ পরিক্রমায়, উন্নয়নের এবং সমৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের ঝুড়ি পরিপূর্ণ হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেছেন, মধ্যম আয়ের দেশ হতে বাংলাদেশের ২০২১ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। আগামী তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশ সেই লক্ষ্যে পেঁৗছাবে। বাংলাদেশ আর ‘ নিম্ন’-তে থাকতে চায় না। সব সময় উঁচুতে উঠতে চায়। বিশ্বব্যংক বলেছে, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে ধারাবাহিক উন্নতির কারণে বাংলাদেশ এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সমপ্রতি মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে বিশ্বব্যাংক বিভিন্ন দেশের অবস্থানের হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করে। বাংলাদেশের পাশাপাশি কেনিয়া, মিয়ানমার ও তাজিকিস্তান এবার নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় দুটি ভাগ রয়েছে।নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ ও উচ্চমধ্যম আয়ের দেশ। মূলত এক হাজার ৪৬ ডলার থেকে শুরু করে যেসব দেশের মাথাপিছু জাতীয় আয় ১২ হাজার ৭৩৬ ডলার, তারা মধ্যম আয়ের দেশের অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে আবার আয় এক হাজার ৪৬ ডলার থেকে শুরু করে চার হাজার ১২৫ ডলার পর্যন্ত হলে তা হবে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ এবং আয় চার হাজার ১২৬ ডলার থেকে শুরু করে ১২ হাজার ৭৩৬ ডলার হলে দেশগুলোকে বলা হয় উচ্চমধ্যম আয়ের দেশ। এর চেয়ে বেশি মাথাপিছু জাতীয় আয় হলে সেই দেশগুলোকে বলা হয় উচ্চ আয়ের দেশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, বিবিএসের হিসাবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মাথাপিছু জাতীয় আয় এক হাজার ৩১৪ ডলার। ‘এটলাস মেথড’ নামের বিশেষ এক পদ্ধতিতে মাথাপিছু জাতীয় আয় পরিমাপ করে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তান আগে থেকেই এ তালিকায় রয়েছে।স্বাধীনতা পরবর্তী যুদ্ধবিধস্ত বাংলাদেশ নিস্ব-রিক্ত অবস্থা থেকে গত চারদশকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আজকের পর্যায়ে পেঁৗছেছে। বাংলাদেশ হাঁটি হাঁটি পা করে অনেকটা পথ এগিয়ে গেছে সন্দেহ নেই। আন্তর্জাতিক মানদ-ে প্রথমবারের মতো একটি মাইলফলক অতিক্রম করল। এটা যেমন দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে, তেমনই আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ ভাবমূর্তি তৈরিতে সহায়ক হবে। বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও এ সূচক ইতিবাচক বার্তা দেয়। এ সাফল্য, কৃতিত্বের জন্য দেশের উৎপাদনশীল জনগোষ্ঠীকে সাধুবাদ ও অভিনন্দন জানাতে হয়। তাদের পরিশ্রম, মেধা ও অধ্যবসায়েই যে এই অর্থনৈতিক উত্তরণ সম্ভব হয়েছে, তা মনে রাখতেই হবে। নিম্নমধ্যম আয়ের শেষ প্রান্ত ৪ হাজার ১২৫ ডলার অতিক্রম করে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় পেঁৗছতে যে আরও অনেকটা পথ পেরোতে হবে_ এটা ভুলে যাওয়া চলবে না। আজকের অবস্থানে পৌঁছে আত্মতুষ্টিতে বিভোর হয়ে বসে থাকলে হবে না। উন্নয়নের অভিযাত্রায় পথচলা অব্যাহত রাখতে হবে দেশের প্রতিটি মানুষকে। মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াটা মস্তবড় চ্যালেঞ্জ সন্দেহ নেই। বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থাকে সুসংহত রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের কাতারে উত্তরণ ঘটলেও বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত বা এল ডিসিভুক্ত দেশের তালিকাতেই থাকবে। এ তালিকা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে বাংলাদেশকে তিনটি সূচক অতিক্রম করতে হবে। এগুলো হলো, অর্থনীতির নাজুকতার সূচক, মানব উন্নয়ন সূচক এবং মাথাপিছু আয়ের সূচক। গত ছয় বছর ৬ শতাংশের বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রেখে বিশ্ব অঙ্গনে প্রশংসিত বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতেই এসব সূচক অতিক্রম করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার কারণে গোটা অর্থনীতিতে স্থবিরতা নেমে এসেছিল। এর ফলে বিনিয়োগ গতি অনেকটাই শ্লথ হয়ে পড়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা হরতাল-অবরোধ আর সহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে এয়ারপোর্ট থেকে আবার নিজ দেশে ফিরে গেছেন- এমন ঘটনাও ঘটেছে।পোশাক তৈরি কারখানাকে কেন্দ্র করে মাঝেমধ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অস্থির পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। যে কারণে বিদেশি ক্রেতারা বিরক্ত হয়ে বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন, তারা অন্য দেশে তৈরি পোশাকের অর্ডার দিয়েছেন যা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানার জন্য বরাদ্দ ছিল। এভাবে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অযথা ঝামেলা সৃষ্টি করে অগ্রগতির পথকে রুদ্ধ করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। আমরা মনে করি, গত দুই বছর ধরে এবং চলতি বছরে প্রথমভাগে টানা কয়েক মাস রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতা না থাকলে বাংলাদেশের আয় সূচক আরও উন্নীত হতো। আমাদের জন্য আরেকটি ইতিবাচক দিক হলো, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য মাথাপিছু আয় ছাড়াও মানব উন্নয়নের অবস্থান বড় বিবেচ্য। সেদিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান সুবিধাজনক। আমরা দেখেছি, অর্থনৈতিক পরাশক্তির পথে ধাবিত ও বৃহৎ প্রতিবেশী ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা, সামাজিক ন্যায্যতা নারীর ক্ষমতায়ন প্রভৃতি সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশে এগিয়ে রয়েছে। এ বিবেচনায় জাতিসংঘের তালিকায় উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উন্নীত হওয়ার পথে আমরা অনেক এগিয়েছি। বাংলাদেশ আগামী তিন বছরের মধ্যে এলডিসি থেকে বেরোতে চায়। ২০১৫ সালে সমাপ্ত হতে যাওয়া সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও বাংলাদেশের সাফল্যের হার ছিল তৃতীয় বিশ্বের জন্য ঈর্ষণীয়। আমাদের দৃঢ় প্রত্যাশা, সামনের দিনগুলোতে এসব ক্ষেত্রে আরও সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি লাভের ব্যাপারে নীতিনির্ধারকদের মনোযোগ থাকবে। যার প্রভাব উৎপাদন ও অর্থনীতি তথা জাতীয় আয়ের ক্ষেত্রে নিশ্চয়ই প্রতিফলিত হবে। অর্থনীতির যাবতীয় সমৃদ্ধি অর্জনে সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।বিশ্বব্যাংকের সামপ্রতিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাজনৈতিক সংঘাতের শিকার দক্ষিণ সুদান আগে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় থাকলেও বিদ্যমান রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে সেই তালিকা থেকে নিম্নআয়ের দেশের তালিকায় নেমে গেছে। আবার একই সঙ্গে অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে একই সারিতে উন্নীত হওয়া মিয়ানমার,তাজিকিস্তান ও কেনিয়ার গত কয়েক বছরের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রেখেছে ইতিবাচক ভূমিকা। বাংলাদেশের এ অনবদ্য উত্তরণ এমনি এক সময়ে ঘটেছে যখন উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির জন্য সরকার বেশকিছু শক্তিশালী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মানের কাজ শুরু হয়েছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়ক যোগাযোগে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত চার লেন প্রকল্পের কাজ শেষ প্রান্তে পেঁৗছেছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে এবং গতিশীলতা আনতে কানেক্টিভিটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ, দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যেখানে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের দারুণ সম্ভাবনা ও সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এর ফলে দেশে কর্মসংস্থানের বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। একইভাবে দেশে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিদেশে বৈধ পথে স্বল্প খরচে দক্ষ-অদক্ষ জনশক্তি পাঠানোর কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে সরকারের তরফ থেকে।বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জোরালো গতি সঞ্চারকারী গার্মেন্টস শিল্পকে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের কবল থেকে রক্ষা করতে বর্তমান সরকার এখন অনেক সজাগ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা, প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে তাদের দাবি অনুযায়ী গার্মেন্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর উপযুক্ত কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং নিরাপত্তা বিধানের জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। ফলে বিশ্বের বড় বড় ক্রেতাদের মধ্যে আস্থা ফিরে এসেছে। ধারণা করা যায়, আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প আরও প্রসারিত হবে। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার বিরাট একটি নারী শ্রমিকদের অনন্য অবদানে গার্মেন্ট শিল্প আজ প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে জাতীয়ভাবে। নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরের ক্ষেত্রে তাদেরও বিরাট একটি অবদান রয়েছে।নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থানের উত্তরণ একদিনে রাতারাতি সম্ভব হয়নি-একথা সত্যি। এটি দেশবাসীর, সর্বস্তরের জনগনের ও বিগত সব সরকারের কাজের ফসল সন্দেহ নেই। তবুও এটা দ্বিধাহীনভাবে বলা যায় যে, এই অগ্রগতির আশিভাগের কৃতিত্ব বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ যথার্থভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে অগ্রগতির দিকে। তিনিই প্রথম জাতিকে এ ব্যাপারে স্বপ্ন দেখা এবং এ লক্ষ্যে দেশকে নেতৃত্ব দেন। আমাদের সবাইকে দলমত নির্বিশেষে উপলদ্ধি করতে হবে। এটা নতুন এক সম্মানজনক স্তরে প্রবেশের প্রথম সোপান। সব রাজনৈতিক বিভেদ, বিরোধ, সংঘাত, হিংসা, বিদ্ধেষ ভুলে বাংলাদেশকে আরো সম্মানজনক স্তরে নিয়ে যেতে যথার্থ গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সব রাজনৈতিক দলকে উন্নয়নমুখী রাজনৈতিক চর্চা করতে হবে। ধ্বংস, হিংসা, বিদ্বেষের রাজনীতি ত্যাগ করতে হবে। দুর্নীতি এবং সুশাসনের অভাব আমাদের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে নানাভাবে। আমাদের অনেক অর্জন বিফলে যাচ্ছে প্রশাসনিক দুর্নীতি, অদক্ষতা, অপচয় এবং লুটপাটের মনোভাবের কারণে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে সত্যি, তবে এটা সমাজের সর্বস্তরে সুফল বয়ে আনতে পারছে কিনা সেটা দেখতে হবে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা তিন কোটি। বেকারত্বের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে অচিরেই বেকারের সংখ্যা ছয় কোটিতে দাঁড়াবে। পৃথিবীতে বেকারত্ব বাড়ছে এমন ১২টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের স্থান ১২তম, আইএলও জানিয়েছে সমপ্রতি। একই সঙ্গে বেকারত্বের হার ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির পরস্পর সাংঘর্ষিক বিষয় দুটি নিশ্চিত করে যে দেশের একটি শ্রেণীর মানুষের উন্নতি ঘটলেও সব স্তরের মানুষের উন্নতি ঘটছে না। তাই শুধুমাত্র মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি নয়, মাথাপ্রতি উন্নয়নের সুফল প্রাপ্তি নিশ্চিত করা চাই।বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে বাংলাদেশের অগ্রগতির সনদ মিললেও জাতিসংঘ স্বীকৃত মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর হতে আরও তিন-চার বছর সময় লাগবে। বিপুল জনসংখ্যার কারণে বাংলাদেশ এখনও মধ্যম আয়ের দেশের স্তরে পেঁৗছতে পারেনি, আয়তন বিবেচনায় বাংলাদেশের জনসংখ্যা পাঁচ কোটি হলে মাথাপিছু আয়ের পরিমান দুই হাজার ডলার ছাড়িয়ে যেত।আমাদের জনসংখ্যাকে বোঝা কিংবা জঞ্জাল বিবেচনা না করে জনশক্তিকে রূপান্তরের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমাদের বিপুল জনসংখ্যাকে বোঝার বদলে সম্পদে পরিণত করতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারের আরও বেশি মনোযোগ দিতে হবে। বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো,অগ্রগতি চলমান রাখা, মানুষের প্রত্যাশা মেটানো এবং সমাজে বৈষম্য কমিয়ে আনা। বাংলাদেশকে নিম্নমধ্যম আয়ের ক্যাটাগরিতে সম্মানজনক অবস্থায় পেঁৗছাতে হলে শিক্ষা, সুশাসন, অবকাঠামো সরকারি সেবা প্রভৃতির উন্নতিতে এ সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপক সংস্কার দরকার

[লেখক : ব্যাংকার]