বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ

ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
অন্যদিকে আলোচ্য সময়ে সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ঋণাত্নক (-) ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ। এর আগের একই সময়ে যা ছিল ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
তবে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়লেও আশানুরূপ হারে ঋণ না বাড়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ বছরের প্রথমার্ধ জানুয়ারি-জুন মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ ১৫ দশমিক ৫ নির্ধারণ করা হয়। আর এবার বিদেশ খাতের আমদানি অর্থায়ন অন্তর্ভুক্ত করে প্রবৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। কিন্তু অর্থবছরের ১১ মাস শেষে প্রবৃদ্ধি ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যবসায়ীরা ঋণের উচ্চ সুদকে বিনিয়োগ না বাড়ার জন্য দায়ী করেন। তারা বলছেন, ছয় মাস ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা নেই। তারপরও বিনিয়োগের গতি আশানুরূপ হয়নি। কারণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। কেউই ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। তবে চলতি অর্থবছরে ঋণ প্রবৃদ্ধিতে স্বাভাবিক গতি ফিরবে বলে তারা আশা করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মে শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৬১ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। সে হিসেবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
জানা গেছে, ব্যাংকগুলোর কাছে ১ লাখ কোটি টাকার বেশি উদ্বৃত্ত অর্থ পড়ে আছে। এর মধ্যে অলস একেবারে ২৫ হাজার কোটি টাকার মতো। এসব অর্থের বিপরীতে ব্যাংকগুলো আমানতকারীকে বড় অঙ্কের সুদ গুনলেও তাদের কোনো আয় আসছিল না। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশিরভাগ ব্যাংক আমানতে সুদহার ৮ থেকে ৯ শতাংশের নিচে নামিয়ে এনেছে। কিছু দিন আগেও যা ১২ শতাংশের উপরে ছিল।
উদ্বৃত্ত অর্থ যাতে অনুৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ হয়ে মূল্যস্ফীতি বাড়াতে না পারে সে জন্য গত বছরের ২৩ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর নগদ জমা সংরক্ষণের হারও (সিআরআর) বাড়িয়েছে। সিআরআর বাড়ানোর পর থেকে দৈনিক গড়ে ৩ হাজার ২১৪ কোটি টাকা বেশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংরক্ষণ করতে হচ্ছে। এর পরও ব্যাংকগুলোর কাছে অলস অর্থ থাকায় বিভিন্ন ব্যাংক দৈনিক গড়ে সাড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা রিভার্স রেপোতে খাটাচ্ছে।
তবে আগের অর্থবছরের বেশিরভাগ সময়জুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ঋণ বিতরণ হয়েছিল একেবারে কম। বিদায়ী ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি কমেছে ৪ দশমিক ২৩ শতাংশ।
এর আগে ২০১২-১৩ অর্থবছর শেষেও বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ কম ছিল, প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১০ দশমিক ৮৫ শতাংশ। তবে এর আগের দুই অর্থবছরে ২০১১-১২ সালে ১৯ দশমিক ৭২ শতাংশ ও ২০১০-১১ অর্থবছরে হয়েছিল ২৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ।