এইচএসবিসির প্রতিবেদন বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী অবস্থানে

চলতি বছরের শুরুর দিকের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব কাটিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন শক্তিশালী অবস্থানে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি। রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনীতির মৌলিক সূচকগুলোতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। অর্থনীতি পুনরায় ব্যবসায়িক গতিধারায় ফিরতে শুরু করেছে বলে সর্বশেষ এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ব্যাংকিং জায়ান্টটি।
এর আগের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রগতির বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছিল ব্যাংকটি। এর কারণ হিসেবে উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ কমে যাওয়াকে দায়ী করেছিল তারা।
‘ব্যবসায় ফিরছে বাংলাদেশ’ শীর্ষক সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেশের অর্থনীতিকে নেতিবাচকের পরিবর্তে ইতিবাচক হিসেবে মন্তব্য করা হয়েছে। এতে অর্থনীতিতে গতি ফেরার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী দিনে সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিষয়, রেমিট্যান্স, তৈরি পোশাক রফতানি, স্থানীয় চাহিদা, ব্যাংকিং খাত ও পুঁজিবাজার সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ ভিয়েতনাম ও শ্রীলংকার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। পাশাপাশি প্রবৃদ্ধির হার আগামী অর্থবছরেও ৬ শতাংশ থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। গত কয়েক মাসে রফতানি কিছুটা শ্লথ হলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তা গতি লাভ করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে,গত অর্থবছরে রেকর্ড ১ হাজার ৫৩০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স অর্জিত হয়েছে। প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। রফতানি খাতের বর্ধিত আয় স্থানীয় আয়ের উৎসগুলোকে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে সামনের দিনগুলোতে স্থানীয় চাহিদা ও বিনিয়োগে গতি আসবে।
এইচএসবিসি আগামী অর্থবছরের বাজেটকে ব্যবসাবান্ধব বলে মন্তব্য করেছে। বাজেটের অনেকগুলো দিক বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে। এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, পরিবহন খাতের জটিলতা নিরসনের মতো উদ্যোগগুলো উৎপাদন খাতকে গতিশীল করবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।