কুমিল্লায় মুড়ি কারখানার শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন

রমজান মাসের চাহিদা অনুযায়ী মুড়ি সরবরাহ করতে হিমসিম খাচ্ছেন উত্পাদনকারিগণ। নগর ছাড়াও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন বাড়িতে মুড়ি তৈরি করে বাজারজাত করছেন তারা। রমজান উপলক্ষে তাদের আয়-রোজগারও বেড়েছে অনেক। নগরীর বারপাড়া এলাকার ফাতেমা বেগম দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে পারিবারিকভাবে মুড়ি তৈরি করে এলাকার বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করে আসছেন। তিনি জানান, প্রতি বছর রোজার মাসে এ কাজ করে ৩০-৩৫ হাজার টাকা আয় করে থাকেন। পরিবারের লোকজন ছাড়াও রোজার মাসের জন্য তার এ কাজে ৩ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে। তার এ উপার্জনে ঈদের কেনা-কাটাসহ পরিবারের ব্যয় সেরে যায়। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে ও ছোট-বড় কারখানায় দিনে-রাতে মুড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মুড়ি তৈরিকারী নারী-পুরুষ শ্রমিকরা।

কুমিল্লা বিসিক শিল্প নগরীর কয়েকটি মুড়ি তৈরির কারখানায় ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি কারখানায় অনেক নারী-পুরুষ শ্রমিক মুড়ি তৈরির কাজে ব্যস্ত। যেন খানিক বিশ্রাম নেয়ার ফুসরত নেই। ঘাম ঝড়ছে শরীরে, গামছায় ঘাম মুছে নিচ্ছেন শ্রমিক। ধান থেকে চাল অতপর প্রক্রিয়াজাত হয়ে মেশিনের পাইপ থেকে দৃষ্টিনন্দন পানির ফোয়ারার মতো বের হচ্ছে মুড়ি। এ এক অপূর্ব দৃশ্য। কম ও বেশি পুঁজির পাইকাররা মুড়ি কেনার জন্য ভিড় করে আছেন কারখানায়।

কয়েকজন কারখানা মালিক জানান, শুধু বিসিক শিল্পনগরীর মুড়ি তৈরির কারখানাগুলোতে কমপক্ষে ৪ শতাধিক নারী-পুরুষ শ্রমিক দিনে-রাতে কাজ করছে। অতিরিক্ত কাজের জন্য তারা বাড়তি বেতনও পাচ্ছে। এখানকার তৈরি মুড়ি নগরীর বিভিন্ন হাট-বাজার ছাড়াও উপজেলা পর্যায়ে এবং পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়ে থাকে। প্রতি কেজি মুড়ি ৪২ থেকে ৪৫ টাকা পাইকারী দরে বিক্রি হচ্ছে। আর তা বাজারে খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে।