‘মৎস্যসম্পদ উৎপাদনে রোলমডেল হচ্ছে বাংলাদেশ’

বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাতগুলোর মধ্যে মত্স্যসম্পদ অন্যতম। জাতীয় অর্থনীতিতে এ খাতের ব্যাপক সম্ভাবনার পাশাপাশি সুযোগ হচ্ছে বিপুল সংখ্যক বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান। এছাড়াও এ খাতকে নিয়ে গড়ে উঠছে বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়া ব্যবস্থাপনা ও জাতকরণ প্রতিষ্ঠান। বিদেশে চাহিদাসম্পন্ন মাছের উত্পাদন বাড়িয়ে দেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করার অবারিত সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে বিশ্বে বাংলাদেশ মত্স্যসম্পদ উত্পাদনে রোলমডেল হতে চলেছে। বর্তমানে মত্স্যসম্পদ উত্পাদনে বিশ্বের বড় বড় দেশগুলোকে পিছনে ফেলে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। প্রতিনিয়ত মত্স্য বিষয়ক গবেষণা ও মত্স্য চাষ বাড়লেও একে নিয়ে গবেষণার এখনও যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ৪৫ লক্ষ মেট্রিক টন উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার মত্স্যসম্পদের উন্নয়নে নতুন নতুন প্রকল্প বরাদ্দ দিচ্ছে। সম্প্রতি বিদেশে ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন কুচিয়া-কাঁকড়া চাষে নতুন প্রকল্প অনুমোদন করছে। আর সরকারের এই লক্ষমাত্রা অর্জনের জন্য প্রতি বছর এক লক্ষ মেট্রিক টন মত্স্য উত্পাদন বাড়াতে হবে। আর সরকারের এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গবেষণা ও নতুন চাষ প্রযুক্তি উদ্ভাবনে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)। গতকাল সোমবার মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের অডিটরিয়ামে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের গবেষণার অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের গবেষণা প্রকল্প প্রণয়ন ও ভবিষ্যত্ করণীয় শীর্ষক দিনব্যাপী এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বিএফআরআইয়ের মহাপরিচালক মোহাম্মদ জাহেরের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসাবে ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবর, বিশেষ অতিথি মত্স্য অধিদপ্তরের পরিচালক এম.আই গোলদার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সেমিনারে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, মত্স্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীবৃন্দ, মত্স্য খামারী, চাষী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।