বাংলাদেশের আইসিটি হার্ডওয়্যারশিল্প :অন্তরায় ও উত্তরণ

লেখক: শ্যাম সুন্দর সিকদার
সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ

একথা সকলেরই জানা যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য তিনি ২০১১ সালে আইসিটি মন্ত্রণালয় গঠন করেছিলেন। সে সময় আইসিটি অর্থাত্ তথ্যপ্রযুক্তি কি জিনিস সে কথাই অনেকে বুঝেনি। এ বিষয়ে হয়তো এখন সেই অস্পষ্টতা নেই। তবুও ইউএনডিপি কর্তৃক স্বীকৃত আইসিটি’র সংজ্ঞাটি এখানে উদ্ধৃত করছি-

“ICT’s are basically information handling tools-a varied set of goods, applications, and services that are used to produce, store, process, distribute and exchange information.

They include the ‘old’ ICT’s of radio, television and telephone and the ‘new’ ICT’s of computers, satellites and wireless technology and the inteet.

These different tools are now able to work together and combine to form our “Networked world’’ a massive infrastructure of interconnected telephone services, standardized computer hardware, the inteet, radio and television, which reaches into every coer of the globe”

সুতরাং ইউএনডিপির সংজ্ঞায় আইসিটির দুটি মুখ্য বিষয় স্পষ্ট: Hardware এবং Software. কিন্তু বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত Software শিল্পের তুলনায় hardware শিল্প অনেকটাই পিছিয়ে আছে। সোজাসুজি বলতে গেলে hardware শিল্প প্রায় পুরোপুরি আমদানি নির্ভর হয়ে আছে। অথচ গ্রামীণ জনগণের জন্য স্বল্পমূল্যে তথ্যপ্রযুক্তি নিশ্চিত করতে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয়ভাবে হার্ডওয়্যার পণ্য তৈরির প্রসঙ্গটি অত্যন্ত জরুরি। কাজেই এ জরুরি বিষয়টি নিয়ে আমরা কেন অগ্রসর হতে পারছি না, সেটাই এখনকার আলোচ্য বিষয়। অর্থাত্ অন্তরায় কোথায়? তা একটু খতিয়ে দেখা যাক।

প্রথমত, আমার কাছে যেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, সেটা হলো এ দেশের আপামর মানুষের মনোভাব বা মানসিকতা (mindset)। সাধারণভাবে অধিকাংশ মানুষের আগ্রহ হলো বিদেশি পণ্য ব্যবহারের প্রতি। স্থানীয় পণ্যের ওপর তাদের আস্থা একেবারেই কম থাকে। তার কারণও আছে। স্থানীয় পণ্যের কোয়ালিটি ও স্থায়িত্ব একটা বড় বিষয়। উত্পাদনকারীর দক্ষতার ঘাটতি এবং অধিক লাভের আশায় পণ্যের মান উন্নয়নে কম পুঁজি খাটানোর মানসিকতা বড় কারণ। আবার স্থানীয়ভাবে শিল্প স্থাপনে বিনিয়োগে আগ্রহ কম ব্যবসায়ীদের। তাদের একটা বড় অংশই শিল্প স্থাপনের ঝক্কি ঝামেলা সহ্য করার চাইতে আমদানি ব্যবসায় বিনিয়োগে বেশি মনোযোগী। আর একটি বিষয় হলো, সরকারি আমলাদের মধ্যেও কিছু কিছু মানসিকতা পরিলক্ষিত হয়। সেটা হলো, একটু সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সহায়তা দানের জন্য মানসিকতার বা উদ্যোগের ঘাটতি। সুতরাং মানসিকতার দিক হতে ব্যবহারকারী, বিনিয়োগকারী বা উত্পাদনকারী এবং পৃষ্ঠপোষকের দায়িত্বে যারা রয়েছেন-তাদের সকলেরই এ অবস্থান পরিবর্তন করা একান্ত দরকার।

দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগের জন্য নিরাপত্তার ঝুঁকি সম্পর্কে অস্পষ্টতা একটা অন্যতম কারণ। যারা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, তারা অবশ্যই ঝুঁকিমুক্ত থাকতে চায়। এজন্য সর্বাগ্রে আসে রাজনৈতিক স্থিতিশীল পরিবেশ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। রাজনৈতিক পরিবেশ শান্ত থাকা চাই। যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন হওয়া চাই। অনলাইন প্রযুক্তির ব্যবহারের জন্য নেটওয়ার্ক কানেক্টিভিটি এবং বিদ্যুত্ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন থাকা দরকার। সর্বোপরি চাই বিপণন সুযোগ-সুবিধা এবং পণ্য বিক্রির নিশ্চিত বাজার ব্যবস্থা।

এ সকল সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে দেশে সহজলভ্য তথ্য-উপাত্ত থাকা দরকার এবং সেটাও হালনাগাদ রাখার একটি মেকানিজম থাকা দরকার। এজন্য তথ্যপ্রযুক্তিগত গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র থাকাও খুবই জরুরি। কিন্তু সেটা এখনও বাংলাদেশে প্রত্যাশিত মতে বিদ্যমান নেই। ফলে বিনিয়োগকারিগণ স্পষ্টভাবে ঝুঁকিমুক্ত হতে পারে না এবং শঙ্কার মধ্যে থাকে বলেই বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয় না বলে ধারণা করা হয়।

তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি স্থায়ী গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র থাকলে সময়ে সময়েই বিভিন্ন খাত ভিত্তিক ফিজিবিলিটি স্টাডি করে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত দিয়ে আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের সহায়তা করা যেত। এখন এ ধরনের স্টাডি রিপোর্টের অভাবে কিছুটা অস্পষ্টতা বা অনিশ্চয়তা থেকেই যায়।

বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের একটা অনুকূল পরিবেশ বিরাজমান। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটামুটি সন্তোষজনক। এছাড়া বর্তমান যোগাযোগ ব্যবস্থাও দিন দিন উন্নততর হচ্ছে। বিদ্যুত্ সরবরাহের ব্যবস্থাও ভালো।

সরকার তথ্যপ্রযুক্তির ওপর প্রভূত গুরুত্ব দিয়ে নেটওয়ার্ক কানেক্টিভিটি প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত নিয়ে যাচ্ছে। এখন সকল জেলা সদর পর্যন্ত ফাইবার অপটিক ক্যাবল লাইন স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। ডিসেম্বর/২০১৫ মাসের মধ্যে তা উপজেলা সদর পর্যন্ত সম্প্রসারণ সম্পন্ন হবে। ২০১৭/২০১৮ সালের মধ্যে তা যাবে ইউনিয়ন পর্যন্ত।

বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির হার্ডওয়্যার শিল্পের বাজার পরিস্থিতির বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনার জন্য বিগত ১৫ জুন হতে ১৭ জুন ২০১৫ তে অনুষ্ঠিত ICT Expo এর কিছু তথ্য এখানে আলোকপাত করা যায়।

আইসিটি ডিভিশন ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির যৌথ আয়োজনে ঐ ICT Expoতে ৩ লাখ ৬০ হাজার ক্রেতা দর্শকের সমাগম হয়েছিল। অনলাইনে ভিজিট করেছে ২১ লাখ মানুষ। এ মেলায় মাত্র তিন দিনে বেচাকেনা হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকার পণ্য। ছোট বড় স্টল-প্যাভেলিয়ন ছিল ১০৮টি। এতে উল্লেখযোগ্য দেশীয় প্রতিষ্ঠান যেগুলো অংশগ্রহণ করেছিল তা হলো: ওয়ালটন, সিম্ফোনি, কম্পিউটার সোর্স লিঃ, স্মার্ট টেকনোলোজিস লিঃ, গ্লোবাল ব্র্যান্ড প্রা. লিঃ, ফ্লোরা লিঃ, ডেফোডিল কম্পিউটার লিঃ, কম্পিউটার ভিলেজ, ফাইবার এট হোম এবং র্যাংগস ইলেক্ট্রনিকস লিঃ।

বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ডেল, এইচপি, কনিকা মিনোল্টা, প্রোলিংক, স্যামসাং, এএসইউএস, হুয়াওয়ে ইত্যাদি।

সুতরাং দেখা যায়, বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তির হার্ডওয়্যার পণ্যের বাজার রমরমা।

মানসম্পন্ন পণ্য তৈরি করা গেলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারটিও কম বড় নয়। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির তথ্যানুযায়ী প্রযুক্তি পণ্য আমদানি ও পরিবেশনের মাধ্যমে শুধু বিসিএস সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারকে রাজস্ব প্রদান করে বছরে ৭৮ কোটি টাকা। প্রতিবছর প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার ল্যাপটপ, ৩ লাখ ২০ হাজার ডেস্কটপ, ৭০ হাজার ডিভাইস ক্যামেরা এবং ২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া আমদানি করা হয়। টাকার অংকে এ আমদানির পরিমাণ ১১১৫ কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ১২ কোটি ৫৯ লাখ মোবাইল ব্যবহারকারী এবং ৪ কোটি ৭৪ লাখ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী আছেন। কাজেই রেডিমেড বাজার বলতে যা বোঝায়, বাংলাদেশে তা বিরাজমান। এখন শুধু দরকার আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আইসিটি হার্ডওয়্যার শিল্প স্থাপনে বেশি বেশি বিনিয়োগ করা।

তৃতীয়ত, শিল্প স্থাপনে সরকারি ইনসেনটিভ কতটুকু আছে—সে কথাও অতি গুরুত্বপূর্ণ। এবার সে বিষয়ে আলোচনা করা যাক। এ ক্ষেত্রে সরকারি সমন্বয় এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিসও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান সরকার আইসিটি শিল্পকে উত্সাহিত করার জন্য ইনসেনটিভ প্যাকেজ ২০১৫ ঘোষণা করেছে। অচিরেই এটির এসআরও জারি করা হবে।

এই ইনসেনটিভ প্যাকেজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:

১। আইসিটি শিল্প স্থাপনে বিনিয়োগ করা হলে ১০ বছর কর অবকাশ সুবিধা (২০২৪ সাল পর্যন্ত) পাবে। বাণিজ্যিক উত্পাদন শুরু করলে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নির্দিষ্ট হারে হাইটেক পার্ক, আইসিটি ভিলেজ, সফটওয়্যার টেকনোলজি জোন ও আইটি পার্কসমূহে কর অব্যাহতি প্রদান করা হবে।

২। আইসিটি শিল্প কারখানার পণ্যের আমদানি ও উত্পাদন পর্যায়ে ভ্যাট প্রযোজ্য হবে না (দশ বছর)।

৩। ডিভিডেন্ট করমুক্ত থাকবে (দশ বছর)।

৪। ক্যাপিটেল মেশিনারিজ কম্পিউটার কিংবা কম্পিউটার এক্সেসরিজ ইত্যাদি, হাইটেক শিল্পের জন্য আমদানি করা হলে তা ডিউটি ফ্রি থাকবে।

৫। হাইটেক পার্ক কিংবা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপন করা হলে তাতে বন্ডেড ওয়্যার হাউজ সুবিধা থাকবে। অর্থাত্ সেখানে শুল্ক মুক্ত আমদানি-রপ্তানি করা যাবে। (অচিরেই কালিয়াকৈর পার্ক এবং যশোর সফটওয়্যার টেকনোলোজি পার্ককে বন্ডেড ওয়্যার হাউজ ঘোষণা করা হবে।

৬। হাইটেক পার্ক কিংবা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে ব্যবহূত বিদ্যুত্ কিংবা ইন্টারনেট এর জন্য ডিসকাউন্টেড রেইট থাকবে।

৭। এ সকল পার্কে বিদেশি জনবলের ব্যক্তিগত আয় (বেতন ভাতাদি) ৩ বছর পর্যন্ত করমুক্ত থাকবে ইত্যাদি।

সুতরাং উক্ত ইনসেনটিভ প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত করা সুযোগ-সুবিধা বিবেচনা করলে একথাই বলা যায় যে, সরকার অত্যন্ত বিনিয়োগ বান্ধব এবং আইসিটি-কে অগ্রাধিকার দিয়েই এ ধরনের ইনসেনটিভ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। তাই এ সুযোগ বিনিয়োগকারিগণ সহজেই নিতে পারেন। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত মাত্র অর্ধশতাধিক ছোট-বড় আইটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা দেশি ব্র্যান্ডের আইটি ডিভাইস তৈরি ও পরিবেশন করে থাকে।

তবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য বিনিয়োগ বোর্ডের ওয়ান স্টপ সার্ভিস সিস্টেমকে আরো বেশি কার্যকর করতে হবে। এছাড়া এ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে আরো বেশি সমন্বয় থাকতে হবে। অধিকন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ প্রকল্পের আত্ততায় শিল্প স্থাপনের উগ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

চতুর্থত, দক্ষ জনবলের সহজলভ্যতা এবং সস্তা শ্রমের উপযোগিতা আর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বাংলাদেশে সস্তা শ্রমের সহজলভ্যতা বিদ্যমান। কিন্তু দক্ষ জনবলের সংখ্যা অপ্রতুল। বাংলাদেশ এখন শ্রমনির্ভর জনশক্তির চাইতে ক্রমশ মেধা নির্ভর জনসম্পদ গড়ার প্রতি বেশি মনযোগী। আইসিটির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তরুণরাও এখন ফেইস বুক, গুগল, ওরাকলে কাজ করছে-এ কথাও সঠিক। তবে এখন বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশে আইটি শিল্প স্থাপন করতে এসে প্রত্যাশিত সংখ্যায় স্থানীয়ভাবে দক্ষ জনবল পাচ্ছে না। এজন্য এখন আইটিতে দক্ষ লোকের সংখ্যা বাড়াতে হবে। দেশে ও বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য আরো বেশি উদ্যোগ নিতে হবে।

পঞ্চমত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারি ঋণ সুবিধা প্রদান অত্যন্ত জরুরি। সরকারি ব্যাংকগুলো হতে ঋণ গ্রহণের জন্য কিছু শর্তপূরণ করতে হয়। এ শর্তগুলো আরো সহজীকরণ দরকার। তবে কি ধরনের সুযোগ বিদ্যমান—এ বিষয়টিও অনেকে জানে না। এজন্য এই ঋণ প্যাকেজের বহুল প্রচারণা দরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংক হতে ঘোষিত এসএমই ঋণ প্যাকেজটি সম্পর্কে জেনে নিয়ে আবেদন করা যায়। ঋণের ঊর্ধ্ব-সীমা ছিল ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং ঋণের সুদের হারও কম। সুতরাং এ ক্ষেত্রেও সরকার উদারপন্থি বলা চলে।

ষষ্ঠত, কাঁচামাল বা খুচরা যন্ত্রাংশ সংকট। বর্তমানে আমাদের দেশে কিছু কিছু এসেমব্লিং কোম্পানি রয়েছে। এ সকল কারখানায় কাঁচামাল অর্থাত্ খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানি করা হচ্ছে। আমদানি করা এ সকল যন্ত্রাংশে প্রযোজ্য ভ্যাট নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আপত্তি আছে। এমন ক্ষেত্রে ভ্যাট কমানোর দাবি তাদের অনেকদিন হতেই। আরো একটি কথা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কেউ কেউ বলে থাকেন; সেটা হলো—আমদানিকৃত ফিনিস্ড গুডসে ভ্যাট কম, কিন্তু স্থানীয়ভাবে উত্পাদিত পণ্যে ভ্যাট বেশি। তাই দেশীয় শিল্পকে বাঁচানোর জন্য তাদের দাবি: বিষয়টি বিপরীতভাবে প্রয়োগ করা দরকার। অর্থাত্ আমদানি করা পণ্যে ভ্যাট বেশি এবং স্থানীয়ভাবে উত্পাদিত পণ্যে ভ্যাট কমানো দরকার।

আমার বিবেচনায় তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলায় সফটওয়্যার শিল্পের পাশাপাশি হার্ডওয়্যার শিল্পকে সমান্তরালভাবে এগিয়ে নিতে হবে। আমাদের লক্ষ্য রয়েছে ২০১৮ সালের মধ্যে আইসিটি রপ্তানি আয় অন্তত ১ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া। শুধু সফটওয়্যার রপ্তানি করে এ লক্ষ্য পূরণ সম্ভব নাও হতে পারে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার শিল্পকে সমভাবে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নেয়ায় বর্তমানে তাদের আইসিটি রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। তথ্যপ্রযুক্তিই এখন দেশটির অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে হার্ডওয়্যার শিল্পের প্রসার ঘটাতে এই মুহূর্তে আমাদের অ্যাসেম্বলিং প্লান্ট স্থাপনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজনে এ খাতে উদ্যোক্তাদের স্বল্প এবং সরল সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। এর মধ্য দিয়ে হার্ডওয়্যার তৈরিতে আমাদের সক্ষমতা গড়ে উঠবে। দক্ষ মানুষ তৈরি হবে। আমাদের শিল্প উদ্যোক্তাদের রয়েছে উদ্ভাবনী শক্তি। এক সময় অ্যাসেম্বলিং প্লান্ট স্থাপনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই তারা দেশীয় ব্রান্ডের হার্ডওয়্যার পণ্য উত্পাদন করতে সক্ষম হবে। এ সব পণ্য দেশের সীমানার গন্ডি পেরিয়ে বিদেশে রপ্তানি হবে। তখন বাংলাদেশের উত্পাদিত পণ্যের গায়ে লেখা থাকবে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’।