স্বরূপকাঠি: গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের মডেল

পঞ্চাশ-ষাট দশকে আমার ছেলেবেলায় জন্মভিটা স্বরূপকাঠি যেতে দীর্ঘ সময় নদীপথে ভ্রমণ, গ্রামের মানুষের সাথে সময় কাটানোর সুমধুর অভিজ্ঞতা আজো হৃদয়ে দোলা দেয়। বরিশাল থেকে মাঝির নৌকায় চড়ে নদী-খাল পেরিয়ে যেতে হতো স্বরূপকাঠি। সময় লেগে যেত সাত-আট ঘণ্টা। এরপর লঞ্চ সার্ভিস শুরু হলেও প্রায় পাঁচ-ছয় ঘণ্টা লাগতো অনেক পথ ঘুরে যেতে হতো বলে। স্বরূপকাঠি বন্দর থেকে আবার নৌকায় চড়ে যেতাম আমার নিজ গ্রাম সুটিয়াকাঠিতে। টৈটম্বুর সন্ধ্যার ঢেউ, খালে জলের নাচন নৌকার গায়ে বারবার আছড়ে পড়তো। নৌকা ইন্দেরহাট খালে প্রবেশ করার সাথে সাথে দুই পাশের অসংখ্য করাত কলের এক টানা শব্দে কানে যেন তালা লেগে যেত। তবু আনন্দে বুক ভরে উঠতো। সেই সবের আকর্ষণের কারণে অনেক কাল পর এবার আমার গ্রামের বাড়ি স্বরূপকাঠিতে কাটিয়েছি বেশ কিছুদিন। অবাক হই, ধীরে ধীরে সবকিছু কেমন পাল্টে গেছে। বরিশাল থেকে মাত্র একঘণ্টা পনেরো মিনিট বাসে চড়ে পৌঁছেছি স্বরূপকাঠি বন্দরে। আজকাল বরিশাল থেকে এখন প্রতিঘণ্টায় উন্নত মানের বাস সরাসরি যায় স্বরূপকাঠিতে। প্রায় সতের কিলোমিটার পিচঢালা রাস্তা, ছোটখাটো ব্রিজ-কালভার্ট। সেখানে থেকে ট্রলারে নিজ গ্রামে যেতে মাঝির নৌকা তেমন চোখে পড়েনি। যন্ত্রই আজ নিয়ন্ত্রণ করে নদীপথের যাতায়াত ব্যবস্থা। যুগ যে গেছে পাল্টে। যন্ত্রচালিত ট্রলারে চড়ে বেশ ক’টা দিন উপজেলা শহরসহ ঘুরে বেরিয়েছি গ্রাম-গ্রামান্তরে। গ্রামগঞ্জের চেহারা দেখে নিজেই অবাক হয়েছি। সন্ধ্যানদীর খালমুখ ধরে এগুতেই চোখে পড়ে বিশাল ব্রিজ যা খালের দু’পাড়ে গড়ে ওঠা প্রসিদ্ধ ইন্দেরহাট ও মিয়ারহাটকে একসূত্রে গেঁথেছে। মিয়ারহাটের পাড়ে রয়েছে স্বরূপকাঠি সরকারি কলেজ। সেখানে আজ শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক। অনার্স খোলা হয়েছে বেশ কতগুলো বিষয়ে। উপজেলা স্বরূপকাঠির পাড়ে রয়েছে বেসরকারি শহীদ-স্মৃতি মহাবিদ্যালয়। খাল ধরে আরেকটু যেতে দেখা যায় বহুদিনের বিখ্যাত সুটিয়াকাঠি হাই স্কুল। সুটিয়াকাঠির গার্লস হাইস্কুলটিও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। এছাড়া বৃহত্তর স্বরূপকাঠি উপজেলায় স্কুলের কোনও অভাব নেই। আজ রিকশা চলে স্বরূপকাঠি, ইন্দেরহটের প্রত্যন্ত গ্রামের রাস্তায়। আর কী নেই এ অঞ্চলে। ছোটখাটো গ্রামেও রয়েছে অনেক উন্নত মানের দোকানপাট। সেখানে নানা পণ্যে দোকান ঠাসা। পল্লীবিদ্যুতের কল্যাণে রয়েছে ফ্রিজভর্তি কোমল পানীয়। ইন্দেরহাট বিশাল বাজার। গ্রামগঞ্জজুড়ে রিকশা, আটোরিকশা আর মোটর সাইকেলের দাপট। রাস্তার দু’ধারে সারিবদ্ধ দোকানপাট। দেশি-বিদেশি উন্নত মানের পণ্যের পসরা। সপ্তাহে দুদিন হাট বসে ইন্দেরহাটে। গ্রাম গ্রামান্তরের মানুষের বয়ে আনা নানা পণ্যে ভরে যায় বিশাল হাট এলাকায় মানুষের ভিড়ে পথচলা ভার। এ অঞ্চলের মানুষের বড় ধরনের বাজার সদায় করতে বরিশাল বা ঢাকা যেতে হয় না। শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যের খাতিরে নিয়মিত তিন-চারটি বৃহদাকার তেতলা লঞ্চ নিয়মিত ইন্দেরহাট-ঢাকা যাতায়াত করে। গ্রামীণ অর্থনীতি যে ধীরে ধীরে এগুচ্ছে স্বরূপকাঠি উপজেলাকে দেখলে তা সহজে ধরা পড়ে।বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলাধীন এক উলেখযোগ্য উপজেলা স্বরূপকাঠি এককালে কৃষি উৎপাদনের মধ্য দিয়ে এলাকার অর্থনৈতিক ভিত স্থাপিত হলেও পরবর্তীতে শিক্ষা, রাজনীতি, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক প্রেক্ষিত বিবেচনায় স্থানটি দেশের একটি উল্লেখযোগ্য এলাকা হিসাবে দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করে। স্বরূপকাঠি এক বিখ্যাত জনপদে পরিণত হতে থাকে। স্বরূপকাঠি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় শিক্ষার প্রসার, সফল ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পেছনে উন্নত নৌযোগাযোগ ব্যবস্থা বরাবরই বিশেষ ভূমিকা রেখে আসছে। দীর্ঘকাল ধরে স্বরূপকাঠি-ইন্দেরহাটের বিশাল জনগোষ্ঠী সুন্দরবন, ভাওয়ালগড়, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বার্মার আহরিত সুন্দরী, গরান, সেগুন, গামারীকাঠ ও গোলপাতার ব্যবসা করে এলাকার অর্থনৈতির ও সামাজিক উন্নয়ন লাভে সক্ষম হয়। পাশাপাশি ইন্দেরহাটের নারকেলের ছোবড়া নির্ভর কুটির শিল্প অতি প্রাচীন। গ্রামের বেশির ভাগ মানুষই নারকেলের ছোবড়া দিয়ে দড়ি, ব্রাশ, পাপোষ বানাতো। নারকেল ছোবড়া দিয়ে তৈরি কুটির শিল্পের ওপর ভিত্তি করে এখানে গড়ে উঠেছিল শিল্পনগরী। আজো ইন্দেরহাটের বিশাল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে নারকেলের ছোবড়ার কুটির শিল্পভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। এসব শিল্পপণ্য দেশের বিভিন্ন অংশে চালান দেয়া হয়। কিছুকিছু পণ্য রপ্তানি হয় বিদেশেও। পরিবেশজনিত কারণে সুন্দরবনের কাঠকাটা নিষিদ্ধ হলেও কাঠ ব্যবসায় কিছুটা ভাটা পড়ে। তারপরও এলাকার পরিশ্রমী লোকজন বসে থাকেনি। স্থানীয়ভাবে আহরিত নানা জাতের কাঠের ওপর ভিত্তি করে আজো টিকে আছে স্বরূপকাঠি এলাকার বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাঠ ব্যবসা। সন্ধ্যানদী এবং এর আশেপাশের খালের দু’পাড় জুড়ে বিস্তৃত কৌরিখাড়া, সুটিয়াকাঠি, বালিহারি, বলদিয়াসহ বিভিন্ন গ্রামে এখনো নিয়মিত বসে কাঠের বিশাল বাজার। কাঠ চেড়াইয়ের জন্য প্রতিষ্ঠিত অসংখ্য স’মিল দিনরাত আওয়াজ তোলে। সারাবছর ধরে ব্যবসায়ীরা এখান থেকে উন্নত মানের কাঠ নৌকা, ট্রলার বা কার্গো বোঝাই করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যায়।সমপ্রতি নার্সারি ব্যবসায়ে স্বরূপকাঠি সৃষ্টি করেছে যুগান্তকারী অধ্যায়। স্বরূপকাঠি, ইন্দেরহাট এবং তৎসংলগ্ন বিভিন্ন্ন গ্রামের বিশাল এলাকা জুড়ে বর্তমানে বিভিন্ন জাতের বনজ,ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা ও কলম তৈরি করা হচ্ছে। এসব চারা ও কলম বৃহত্তর বরিশাল তথা দেশের বিভিন্ন অংশে চালান দেয়া হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত বৃক্ষ মেলাগুলোতে স্বরূপকাঠির নার্সারির গাছগাছালির চাহিদা বেশি। ইন্দেরহাটের প্রত্যন্ত অঞ্চল ডুবি, বিশারকান্দিতে শুরু হয়েছে ভাসমান সবজি চাষের নতুন প্রযুক্তি। খালে জমে থাকা কচুরিপানার স্তূপে মাটি ফেলে তার ওপর চাষ করা হয় নানা ধরনের শাক-সবজি। এ ধরনের ব্যবসায় সাফল্যে অনেকের ভাগ্যে পরিবর্তন এনে দিয়েছে। স্বরূপকাঠি-ইন্দেরহাট এলাকার নারকেল, কলা, পেয়ারা, আমড়াসহ নানা জাতের ফলমূল নৌপথে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয় দীর্ঘকাল ধরে। ইন্দেরহাট সনি্নকটে আটঘর-কুড়িয়ানার পেয়ারার প্রসিদ্ধি দেশজুড়ে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে এ অঞ্চলের জনগণের ভূমিকা ইতিহাস হয়ে আছে। এমনকি আজকাল স্বরপূকাঠি এবং ইন্দেরহাটে তৈরি কাঠের ক্রিকেট ব্যাট এবং অন্যান্য খেলার উপকরণ নিয়মিত সরবরাহ করা হয় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অংশে।স্বরূপকাঠি, ইন্দেরহাটে বর্তমানে গড়ে ওঠেছে নৌযান নির্মাণ শিল্প এবং তা অল্প সময়ের মধ্যে তা সমৃদ্ধি লাভ করেছে। আজ স্বরূপকাঠি ও ইন্দেরহাটে বৃহদাকার লঞ্চ ও কার্গো নির্মিত হচ্ছে। ইন্দেরহাট খালের দু’পাড়ে যেন তিল ধরার জায়গা নেই। শ্রমজীবী মানুষের পদভারে মুখরিত পুরো খালপাড়সহ ইন্দেরহাট সংলগ্ন বিশাল এলাকা। দিনরাত সেখানে চলছে ওয়েল্ডিয়ের কাজ। দেখলে মনে হয়, বিশাল এক ডকইয়ার্ড। এ যেন ঢাকার বুড়িগঙ্গা তীরের নৌযান শিল্পকেও হার মানিয়েছে। একী গ্রাম নাকি বিকশিত এক শিল্পনগরী!দীর্ঘকাল ধরে সন্ধ্যানদীর অব্যাহত ভাঙনে বরিশালের সাথে স্বরূপকাঠির যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। সন্ধ্যার অব্যাহত ভাঙনে বাসস্টান্ডটি প্রতিনিয়ত স্থান বদলের কবলে পড়ে। এ ছাড়া সন্ধ্যানদী কেবল গ্রাস করে চলেছে গ্রামের পর গ্রাম। শর্সিনা মাদ্রাসার দেয়ালের একেবারে কাছে চলে এসেছে নদীপাড়। সম্ভাবনাময় স্বরূপকাঠির ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, কৃষি, শিল্প বিকাশের প্রধান সহায়ক, শিক্ষা-সংস্কৃতির অগ্রগতির মূল চালিকা শক্তি সন্ধ্যানদী আজ বিপন্ন। তিন যুগের অধিক সময়ের অব্যাহত ভাঙনের শিকার এ নদী আজ হারিয়েছে তার প্রকৃত রূপ। নদীভাঙনে এলাকার ১৮৫.৭২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের মধ্যে ১৮.২৬ বর্গকিলোমিটার সন্ধানদীতে বিলীন হয়ে গেছে। গত বছর ব্রাহ্মণকাঠি ও মাগুরা এলাকায় নির্মিত বাইপাস সড়কটিও ভেঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে বরিশালের সাথে স্বরূপকাঠির সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে স্বরূপকাঠি উপজেলাসহ সন্ধ্যানদীর অপর পাড়ের বিখ্যাত ইন্দেরহাট বন্দর ও বিসিক শিল্প নগরীর সকল ব্যবসা-বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এছাড়া সন্ধ্যানদীর অব্যাহত ভাঙনের ফলে স্বরূপকাঠি সদর, দক্ষিণ কৌড়িখারা, পূর্ব জলাবাড়ি, ব্রাহ্মণকাঠি, মুনিনাগসহ ১৪টি বর্ধিষ্ণু গ্রাম অনেকটা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৪ হাজার একর ফসলি জমি, সহস্রাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। নিঃস্ব হয়েছে প্রায় ১১ হাজার পরিবার। স্বরূপকাঠি উপজেলা সংলগ্ন ও অন্যান্য এলাকার ভাঙন প্রতিরোধে কিছু পাইলিং ও কংক্রিটের বস্তা ফেলার কাজও করা হয়। কিন্তু তাতেও সন্ধ্যার ভাঙন প্রতিরোধ করা যায়নি।ধান-নদী-খাল এই তিনে বরিশাল-এমোন একটি সুবচন দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশের মানুষের মুখেমুখে ফিরছে। বরিশালের এক বর্ধিষ্ণু উপজেলা স্বরূপকাঠি। বরিশাল থেকে স্বরূপকাঠি সড়ক যাতায়াত ব্যবস্থা বর্তমানে উন্নত হলেও ব্যবসা-বাণিজ্য মূলত নৌপথনির্ভর। কিন্তু দীর্ঘকাল ধরে নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং সন্ধ্যনদীর প্রতি মানুষের বিরূপ আচরণের ফলে সন্ধ্যা আজ ক্ষুব্ধ। নদীর নিচে ক্রমশ পলি ও ভাঙনের মাটি জমা হয়ে নদীতল ভরাট হয়ে গেছে। হ্রাস পেয়েছে নদীর পানি ধারণ ক্ষমতা । নদী হারিয়েছে তার নাব্য। নদীর পাড়ে ড্রেজার বসিয়ে ক্রমাগত মাটি ও বালু উত্তোলনের ফলে সন্ধ্যার পাড় ভাঙন আরো জোরদার হয়েছে। সন্ধ্যানদীর ভাঙনের হাত থেকে ঐতিহ্যবাহী স্বরূপকাঠি-ইন্দেরহাট বন্দর, তৎসংলগ্ন বর্ধিষ্ণু গ্রামাঞ্চল এবং শিল্পনগরীকে রক্ষা করতে হলে সন্ধ্যানদীকে ড্রেজিং করতে হবে। ভাঙনের ফলে এঁকেবেঁকে যাওয়া সন্ধ্যার গতিপথ সোজা করতে নিতে হবে নদী শাসনের পদক্ষেপ। সন্ধ্যানদীর ভাঙনরোধ ও নাব্য ধরে রাখতে নদী থেকে মাটি ও বালু উত্তোলন বন্ধে অপরাধীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। নদী-খালের পানিদূষণ রোধে বর্জ্য অপসারণ বন্ধ করতে পৌরসভাকে আরও সক্রিয় করা আবশ্যক। শিল্প বিকাশের স্বার্থে স্বরূপকাঠির নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। স্বরূপকাঠি উপজেলার রাস্তাঘাট, বাসস্টান্ড ও অভ্যন্তরীণ খালের উন্নয়নে ব্যবস্থা নিতে হবে। কৃষি ও নৌযান শিল্পবিকাশের স্বার্থে সরকারি আর্থিক সাহায্য সহযোগিতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। সরকারের সার্বিক সহায়তা পেলে দক্ষিণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী উপজেলা স্বরূপকাঠির সম্ভাবনাময় কৃষি ও নৌযান শিল্পসহ অন্যান্য শিল্পের বিকাশ ও সমৃদ্ধি গোটা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। আর তাহলে গ্রামে কর্মসংস্থানের পরিধি বিস্তৃত হবে। পাশাপাশি গ্রামের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করা গেলে শহরমুখো বিশাল জনগোষ্ঠী ফিরে আসবে গ্রামে। রাজধানীসহ দেশের শহরাঞ্চলে ওপর জনসংখ্যার চাপ কমবে। হ্রাস পাবে নগর জীবনের নানা সমস্যা। বাড়বে সাংস্কৃতিক বিানময়ের সুযোগ। স্বরূপকাঠির উন্নয়নের মডেল অনুসরণ করে সারাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষও নিজ নিজ গ্রামের উন্নয়নে উদ্ভুদ্ধ হবেন। দেশের বিত্তবানরাও বিনিয়োগে এগিয়ে আসবেন। সমৃদ্ধ হবে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি। ধীরে ধীরে জেগে উঠবে সারাদেশ। গ্রামের উন্নয়নইতো দেশের সার্বিক অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির চাবিকাঠি।