যমুনার তলদেশে টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা

আবু কাওসার
যমুনা নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে সরকার। ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ টানেল হবে কর্ণফুলী নদীর প্রস্তাবিত টানেলের প্রায় চারগুণ। টানেল নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৩৪ কোটি ডলার (প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা)। প্রাথমিকভাবে জাপান এ প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করলেও এখনও নিশ্চিত করেনি। এ কারণে অর্থায়নের বিকল্প উৎস খোঁজা হচ্ছে। যমুনা টানেল নির্মিত হলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সিলেট ও চট্টগ্রামের সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে।
সূত্র জানায়, গত বছরের জুনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপান সফরের সময় যমুনার তলদেশে টানেল নির্মাণ প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য সে দেশের সরকারের সহযোগিতা চান। এর দুই মাস পর জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে সফরে এলে দুই নেতার বৈঠকে অর্থায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। জাপানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি একটি বড় প্রকল্প। আর্থিকভাবে লাভজনক হবে কি-না তা নিশ্চিত হতে হবে। এ জন্য একটি সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা করার প্রস্তাব দিয়েছে জাপান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সমীক্ষা চালানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে সেতু বিভাগ সম্প্রতি সমীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের এক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, যমুনা টানেলে অর্থায়নের বিষয়ে জাপানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলেনি তারা। তিনি বলেন, এরই মধ্যে কর্ণফুলী টানেল নির্মাণের ব্যাপারে চীনের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। তাই চীনের কাছে আবেদন করা হবে না। শেষ পর্যন্ত জাপান রাজি না হলে অন্য দাতা দেশ ও সংস্থার সঙ্গে যৌথ অর্থায়নের কথা ভাবা হচ্ছে।
সেতু বিভাগ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সমকালকে বলেন, যমুনা টানেল নির্মাণের জন্য সমীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সমীক্ষা প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়ার পর অর্থায়নের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে বলা হয়েছে এ প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে দাতা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে। কারণ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।
সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত
টানেলের এক প্রান্ত হবে উত্তরাঞ্চলের গাইবান্ধার ফুলছড়িতে। আরেক প্রান্ত জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে। টানেলে সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। টানেলে দুটি সুড়ঙ্গ থাকবে। একটি দিয়ে যানবাহন যাবে, আরেকটি দিয়ে আসবে। টানেলের ভেতরে টিউবের প্রশস্ত হবে ১৫ থেকে ২০ মিটার। সেতু বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, এটি হবে বহুমুখী। নির্মাণ শেষ হলে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে দক্ষিণ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সহজ হবে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও বেগবান হবে।
বর্তমানে বঙ্গবন্ধু সেতুর নিচে পলি জমার কারণে অনেক স্থানে চর পড়ে গেছে। ভবিষ্যতে বেশি চর জেগে উঠলে এই সেতু অনুপযোগী হতে পারে_ এমন আশঙ্কা থেকে টানেল তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ২০২১ সালের মধ্যে যমুনা টানেল তৈরির কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।