ডিজিটাল হচ্ছে দেশের সব আদালত

মতলু মল্লিক
জনগণের সময়, আর্থিক ব্যয় ও হয়রানি কমাতে ডিজিটাল হচ্ছে দেশের সব আদালত। এরই মধ্যে সুপ্রিমকোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগকে ডিজিটালের আওতায় আনা হয়েছে। ঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও রাঙ্গামাটি জেলার সব আদালতও ডিজিটালের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এখন এসব আদালতে মামলার তথ্য জানতে কোনো উকিল, মুহুরি বা আদালতের পেশকারের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে না। এসব আদালতের ওয়েবসাইট খুলে দেখে নেয়া যায় মামলার সর্বশেষ অবস্থা, পরবর্তী ধার্য তারিখসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য। একইভাবে দেশের সব আদালতকে শিগগিরই ডিজিটালের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শুধু তা-ই নয়, এখন থেকে বিচারকরা কাগজ-কলমের পরিবর্তে ব্যবহার করবেন ল্যাপটপ। ল্যাপটপেই হবে সবকিছু। আদালতে থাকবে ডিজিটাল যন্ত্রপাতি। ভয়েস রেকর্ডের মাধ্যমে অটোমেটিকভাবে সাক্ষীর জবানবন্দি নেয়া হবে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে সারা দেশে বিচারকদের মধ্যে ১২৫টি ল্যাপটপ ও ২০০টি ট্যাব বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব বিচারককে ল্যাপটব বা ট্যাব দেয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ ডিজিটালের আওতায় এলে মামলাজটও কমবে। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং বিচারপ্রার্থীদের সময়, আর্থিক ব্যয় কমিয়ে আনতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করেছে। আদালতের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
বিচার বিভাগ ডিজিটালাইজেশন করতে ২০০৯ সালের জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালার অধীনে ২০১০ সালে আইসিটি সেল গঠন ও লোকবল নিয়োগসহ নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার। প্রাথমিক পদক্ষেপের আওতায় আদালতগুলোর জন্য আইসিটি সেল পরিচালনার জন্য ৯টি পদ সৃষ্টি করা হয়। সৃষ্ট পদের মধ্যে রয়েছে একটি সিস্টেম অ্যানালিস্ট, একটি প্রোগ্রামার, দুটি সহকারী প্রোগ্রামার, চারটি ডাটা এন্ট্রি বা কন্ট্রোল অপারেটর ও একটি এমএলএসএস। এসব পদে নিয়োগ সম্পন্ন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহের মধ্য দিয়ে ঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও রাঙ্গামাটির সব আদালতকে ডিজিটালের আওতায় আনা হয়েছে। এখন এসব আদালতের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিচারপ্রার্থীদের সময়, অর্থ ব্যয় ও হয়রানি লাঘব হয়েছে বলে মনে করে সংশ্লিষ্টরা। কমছে মামলাজটও।
ডিসেম্বর পর্যন্ত সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ৩ লাখ ৬১ হাজার ৩৮টি এবং আপিল বিভাগে ১৫ হাজার ৩৪৬টি মামলা বিচারাধীন। দেশের সব আদালতে বিচারাধীন মামলা ৩০ লাখ ৭ হাজার ৮৬০টি। ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিচারাধীন মামলা ছিল ২৪ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬০টি। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে ছিল ২১ লাখ ৩২ হাজার ৪৬টি মামলা। অর্থাৎ বছরে প্রায় ৩ লাখ মামলা বাড়ছে। আদালতগুলো ডিজিটালের আওতায় আসায় আগামীতে মামলাজট কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।