উপযুক্ত সংস্কারে মধ্যম আয়েও উত্তরণ সম্ভব

ড. আহসান এইচ মনসুর
নির্বাহী পরিচালক, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)

স্বাধীনতার সাড়ে চার দশক পর বিশ্বব্যাংকের সূচকে বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে উন্নীত হয়েছে। এটা নিঃসন্দেহে ভালো খবর। বাংলাদেশের সঙ্গে একই সারিতে উন্নীত হওয়া মিয়ানমার ও কেনিয়ার দিকে যদি দেখি, তাহলে দেখা যাবে যে তারা তারও অনেক আগে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে আমরা অনেক আশাবাদ ও স্বপ্নের কথা ব্যক্ত করেছি। সেগুলো অবশ্যই ধর্তব্য_ একসময় ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে আখ্যায়িত বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না হলেও অনেক দূরই এগিয়েছে। কিন্তু বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত এই সূচকের মধ্য দিয়ে সেটা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল।

বিশ্বব্যাংকের দিক থেকে দেখলে বাংলাদেশের এই উত্তরণের দুটো দিক রয়েছে। একটি হচ্ছে, খোদ বিশ্বব্যাংকের জন্য ব্যবহারিক তাৎপর্য। কোন দেশ তাদের কাছ থেকে গৃহীত ঋণের ক্ষেত্রে কী ধরনের সুযোগ, কতখানি সুবিধা বা ছাড় পাবে, তা নির্ধারিত হয় দেশটির অর্থনৈতিক সক্ষমতার মানদণ্ডে। তারা দেখে যে কোন দেশের দারিদ্র্য কতটা। এই সূচক যে কেবল বিশ্বব্যাংকই ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনুসরণ করবে, তা নয়। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বা এডিবিসহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় ও দ্বিপক্ষীয় সংস্থা বা উদ্যোগের ঋণের ক্ষেত্রেও অনুসৃত হবে। সূচকটির দ্বিতীয় তাৎপর্য হচ্ছে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। গোটা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ক্রমশ নিম্ন আয় থেকে নিম্ন মধ্য আয়ের সীমায় উন্নীত হচ্ছে। এই সীমার বাইরে রয়েছে প্রায় হাতেগোনা কয়েকটি দেশ। যেমন বাংলাদেশের উত্তরণের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশই নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হলো। বাইরে রয়ে গেল কেবল আফগানিস্তান ও নেপাল। আমাদের প্রতিবেশী মিয়ানমারেরও এবার মধ্যম নিম্ন আয়ের দেশে উত্তরণ ঘটেছে। এটাই আসলে বৈশ্বিক প্রবণতা। নিম্ন আয়ের দেশের সংখ্যা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক উত্থানই হচ্ছে বিশ্বায়নের ট্রেন্ড বা ধারাবাহিকতা। এর মধ্যে কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে বৈকি। নানা কারণে যেগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতায় অবনতি ঘটতে পারে। যেমন এই দফায় দক্ষিণ সুদান নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে নিম্ন আয়ের দেশের কাতারে নেমে গেছে। এর কারণ দেশটিতে যুদ্ধ ও সংঘাত থাকায় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ যে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্যম নিম্ন আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে, তাতে করে আমি অন্তত বিস্মিত নই। কারণ কেউ যদি এখানকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অভিনিবেশ সহকারে লক্ষ্য রেখে আসেন, তাহলে দেখতে পাবেন গত কয়েক বছর ধরে আমরা ধারাবাহিকভাবে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভালো করছি। আর বিশ্বব্যাংক যে স্বীকৃতি বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে দিয়েছে, তা আসলে আরও তিন বছর আগে থেকে স্থিরকৃত। অনানুষ্ঠানিকভাবে এই স্বীকৃতি স্থির করাই ছিল। তারা তিন বছর সময় নিয়েছে এটা দেখতে যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি কোনো কারণে থেমে যায় কি-না, কোনো কারণে অবনতি ঘটে কি-না। তিন বছর দেখার পর তারা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।

বাংলাদেশের দিক থেকে দেখলে আমাদের জন্য এই স্বীকৃতি অবশ্যই মর্যাদার, অবশ্যই একটা বিশেষ অর্জন। আর এই অর্জনের মূল চাবিকাঠি হচ্ছে অন্তত গত ১২ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ছয় শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি। এর মধ্যে প্রাকৃতিক ও রাজনৈতিক দুর্যোগ এসেছে; কিন্তু প্রবৃদ্ধির চাকা থেমে থাকেনি। এটাই বাংলাদেশকে মধ্যম নিম্ন আয়ের দেশের স্বীকৃতি পেতে নেপথ্যে থেকে সহায়তা করেছে বলে আমি মনে করি। প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতার সঙ্গে যোগ হয়েছে আরও কিছু কারণ। যেমন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ক্রমাগত উন্নতি এবং প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বা রেমিট্যান্স প্রবাহে স্থিতিশীলতা। অভ্যন্তরীণ নানা রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে পড়বে বলে কেউ কেউ আশঙ্কা করেছিলেন; কিন্তু সেটা অমূলক প্রমাণ হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে জনশক্তির বাজারে কিছু নেতিবাচক চিত্র দেখা গেলেও সেটা খুব বেশি প্রভাব ফেলেনি। অন্যত্রও আমাদের নতুন বাজার তৈরি হয়েছে বা পুরনো বাজার বিস্তৃত হয়েছে। ফলে ডলারের সঙ্গে বাংলাদেশের মুদ্রার বিনিময় হার মোটামুটি স্থিতিশীল থেকেছে। আমরা দেখেছি, ২০১২-১৩ সালে ভারতে ডলারের রেট বেড়ে যাওয়ার কারণে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ক্ষুণ্ন হওয়াতে অর্থনৈতিকভাবে দেশটিতে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশে তা স্থিতিশীলই থেকেছে। এর প্রভাব পড়েছে আমাদের মাথাপিছু আয়ের উন্নতিতে। যার ফল হচ্ছে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্যম নিম্ন আয়ের দেশে উত্তরণ।

আরেকটি সুবিধা বাংলাদেশ পেয়ে এসেছে, তা হচ্ছে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে থাকা এবং ক্রমশ কমে যাওয়া। এর সঙ্গে প্রবৃদ্ধি বা মাথাপিছু আয়ের সম্পর্ক রয়েছে। জনসংখ্যার হার যা বাড়ে, তা প্রবৃদ্ধির হার থেকে বিয়োগ হয়। যেমন বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ছয় শতাংশ, অন্যদিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এক শতাংশ। ফলে আমরা নিরেট পাঁচ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেয়েছি। যদি জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার দুই শতাংশ হতো তাহলে প্রবৃদ্ধির নিরেট হার চার শতাংশে এসে দাঁড়াত। পাকিস্তানের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার দুই শতাংশের বেশি আর তাদের প্রবৃদ্ধির হার পাঁচ শতাংশ। ফলে নিরেট প্রবৃদ্ধি তিন শতাংশে এসে দাঁড়াচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে থাকায় আমরা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছি।

কথা হচ্ছে, নিম্ন আয় থেকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া অর্থনৈতিক উত্তরণের শেষ নয়, শুরু মাত্র। গত সাড়ে চার দশক ধরে বাংলাদেশের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি দেয়াল আমরা অতিক্রম করলাম মাত্র। অদূরবর্তী সামনের দেয়ালটি হচ্ছে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে উন্নীত হওয়া। সেটা সহজ নয়, বলা বাহুল্য। পরবর্তী ধাপে যেতে হলে আমাদের মাথাপিছু আয় চার গুণ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে আরেকটি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, এখন যে আয়ে আমরা পেঁৗছেছি, তা ধরে রাখতে হবে। কোনোভাবে দক্ষিণ সুদানের মতো নেমে যাওয়া চলবে না।

অর্থনৈতিক সক্ষমতার এই পর্যায়ে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ আগের মতো কম সুদে ঋণ পাবে না, মনে রাখতে হবে। অনুদানের হারও কমে যাবে। কারণ অনুদান যাবে নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে। কিন্তু এই দুটি বিষয় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে খুব একটা প্রভাব ফেলবে বলে মনে হয় না। কারণ বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের ভূমিকা এখন আমাদের জিডিপির মাত্র দুই শতাংশ। স্বাধীনতার পর এটা ছিল ১০-১২ শতাংশ। বরং আমি মনে করি, নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রবেশাধিকার বেড়ে যেতে পারে। বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখন বেড়ে যাবে। সরকার চাইলে এখন আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে প্রবেশ করতে পারবে। নিম্ন আয়ের দেশের তালিকায় থাকায় বাংলাদেশ এতদিন কিছু বৈশ্বিক তহবিল ও অর্থায়নে প্রবেশাধিকার পায়নি, এখন পাবে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে স্বীকৃতি আমরা পেলাম, তা ধরে রাখতে হলে এবং পরবর্তী ধাপ পাড়ি দিতে হলে আমাদের অনেক ক্ষেত্রে কিছু জরুরি সংস্কার করতেই হবে। অর্থনৈতিক খাতে নূ্যনতম বা প্রথম প্রজন্মের সংস্কারগুলো হচ্ছে সরকারি ব্যাংকের পাশাপাশি প্রাইভেট ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ইত্যাদি। সেসব সংস্কার ইতিমধ্যে করে ফেলার সুফল হিসেবে এই স্বীকৃতি এসেছে। এখন বাংলাদেশকে করতে হবে দ্বিতীয় প্রজন্মের সংস্কার। সেটা হচ্ছে, অর্থনৈতিক তৎপরতা পরিবেশবান্ধব হতে হবে। নদী মেরে ফেলে শিল্প প্রতিষ্ঠা চলবে না। বিসবুজীকরণ প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং বনাঞ্চলের পরিমাণ বাড়াতে হবে। তামাকের মতো স্বাস্থ্যহানিকর পণ্যের উৎপাদন ও ভোগ কমাতে হবে। আমাদের যে প্রবৃদ্ধি রয়েছে, তা টেকসই হতে হবে, পরিবেশবান্ধব হতে হবে।

নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে বেরিয়ে আসা-না আসার একটি সম্পর্ক রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের এই সূচকের সঙ্গে এলডিসি সংশ্লিষ্ট তিনটি মাপকাঠি সম্পৃক্ত আছে। এর একটি হচ্ছে, বিশ্বব্যাংকের এই সূচক এলসিডি নির্ধারণের ক্ষেত্রে যাচাই করা হয়। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, অর্থনীতির বিপন্নতা সূচক। দেখা হয় যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিস্থিতি টেকসই থাকবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে দারিদ্র্যমাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যাবে না। আমি মনে করি, সেদিক থেকে বাংলাদেশের সক্ষমতা প্রশংসনীয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করেই আমরা এতদূর এসেছি। ফলে এখনকার যে প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয় সেটা আমরা ধরে রাখতে পারব। তবে সামাজিক সূচকগুলোতে আমরা কিছুটা পিছিয়ে আছি। অনেক সময় বলা হয় যে ভারতের চেয়ে সামাজিক সূচকে আমরা এগিয়ে আছি। সেটা আসলে কয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্রে; সামগ্রিক সামাজিক সূচকে আমরা এগিয়ে নেই। তবে আমি আশাবাদী, আমরা সে ক্ষেত্রেও সামনের দিনগুলোতে ভালো করব এবং এলডিসি থেকে বের হয়ে আসতে পারব। ২০১৮ সালে জাতিসংঘ থেকে এলডিসি তালিকা রিভিউ হবে। এখন যে পরিস্থিতি, আমরা সেই পরীক্ষায় পাস করব এবং পরবর্তী রিভিউ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারব। অর্থাৎ ২০২১ সালের পর আমরা আর এলডিসিভুক্ত থাকব না।

এলডিসি থেকে বের হয়ে গেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো কোনো কোনো অঞ্চলে বা দেশে আমরা ‘এমএফএন’ হিসেবে যেসব সুবিধা পাই, তা চলে যাবে; কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মর্যাদা ও সুবিধা পাবে। সে ক্ষেত্রে তখন মূল চ্যালেঞ্জ হবে আমাদের শুল্ক ও বিনিয়োগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও উদারীকরণ। এখন যে শুল্ক ব্যবস্থা রয়েছে, বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা তা মেনে নিচ্ছে আমাদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায়। কিন্তু তখন তা মানতে চাইবে না। আর শুল্ক ব্যবস্থা আধুনিকায়ন না করতে পারলে, বিনিয়োগ ব্যবস্থা উদার ও মসৃণ করতে না পারলে আমরা কিন্তু মাথাপিছু আয় চারগুণ করতে পারব না, মনে রাখতে হবে। তার মানে আমরা নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে পারব না। শুল্ক ব্যবস্থা, বিনিয়োগ পরিস্থিতি, সামাজিক সুশাসন_ এসব ক্ষেত্রে দক্ষতা দেখাতে না পেরে অনেক দেশই কিন্তু দশকের পর দশক নিম্ন মধ্যম বা উচ্চ মধ্যমে পড়ে রয়েছে, ভুলে যাওয়া চলবে না। এটাকে বলা হয় ‘মিডল ইনকাম ট্র্যাপ’। এখানে এসেই বেশিরভাগ দেশ আটকে থাকে। মাত্র কিছু দেশ উতরে যেতে পারে। গত ৫০-৬০ বছরে আমাদের অঞ্চলে কেবল দক্ষিণ কোরিয়া পেরেছে। ব্রাজিল অনেক দিন ধরে চেষ্টা করছে, পারছে না। এই পর্যায় থেকে উত্তরণই হচ্ছে আসল চ্যালেঞ্জ। ব্যর্থতার হার প্রায় ৯৯ শতাংশ।

আসলে শুল্ক ও বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতি এখন আর বাংলাদেশের জন্য ‘চয়েজ’ নয়; বরং অনিবার্য। শুল্ক ব্যবস্থা এখন অতিমাত্রায় রক্ষণশীল। এটাকে আধুনিকায়ন করতে হবে। একবারে করা হয়তো সম্ভব হবে না। এলডিসি থাকা অবস্থায় প্রয়োজনও নেই। কিন্তু এখনই প্রস্তুতি নিয়ে ধীরে ধীরে করা গেলে এলডিসি থেকে উত্তরণের সঙ্গে সঙ্গে আমরা এক ধাক্কায় অনেকদূর এগিয়ে যেতে পারব।

নাগরিক হিসেবে আমি আশা করি, নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণের বিষয়টি সরকার উদযাপনের পাশাপাশি আগামীর চ্যালেঞ্জগুলোও অনুধাবন করবে এবং তা মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেবে। শুল্ক ব্যবস্থা, বিনিয়োগ পরিবেশ, সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাসহ উপযুক্ত সংস্কারগুলো সময়মতো করতে পারলে বাংলাদেশ যোগ্যতার সঙ্গেই পরবর্তী ধাপে উন্নীত হতে পারবে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের জন্য একটা বিরাট সম্পদ, যা অনেক দেশেরই নেই। এটাকে আমরা দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগাতে পারলে অনেক কিছুই সম্ভব। সরকার যেমন ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন দেখছে, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুশাসন নিশ্চিত করতে পারলে সেটাও সম্ভব।