রেমিট্যান্স প্রবাহ আরো বাড়াতে তৎপর হোন

২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে হয়েছে নতুন রেকর্ড। গেল অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিকদের আয় এক হাজার ৫৩০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। এ সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১ হাজার ৫৩০ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। যা ২০১৩-১৪ অর্থবছরের চেয়ে ১০৭ কোটি ডলার বা ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।

গত কয়েক বছরের রাজনৈতিক সহিংসতায় যখন আমাদের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা জাগছিল। যখন লাগাতার হরতাল-অবরোধে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ছিল, তখন স্বাভাবিকভাবেই খুব বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের শঙ্কা জেগেছিল। আমাদের অর্থনীতির পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিনই শুধু নয়, অসম্ভব বলেই মনে করা হয়েছিল। কিন্তু সেই শঙ্কা থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। এর পেছনে রয়েছে বিদেশের মাটিতে আমাদের শ্রমিকদের মেহনত। রয়েছে তাদের আত্মত্যাগ। বছর শুরু হয়েছিল যে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আতঙ্কের মধ্যে বছরের মাঝে এসে সেই পরিস্থিতি থেকে অনেকটাই বেরিয়ে আসতে পেরেছি আমরা। একইসঙ্গে বছরের মাঝে এসে আমাদের অর্থনীতির জন্য সুখবরও এসেছে। এতদিন নি¤œ আয়ের দেশের তালিকায় ছিলাম আমরা। বিশ্বব্যাংকের এই জুলাই মাসের প্রতিবেদনে সেই তালিকা থেকে আমাদের উন্নতি ঘটেছে। নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় উঠে এসেছে এবার বাংলাদেশের নাম। আমাদের জন্য স্বস্তির এই খবরের পরেই আরো একটি খবর ৩ জুলাই দৈনিক মানবকণ্ঠের পাতায় উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটিতে আমাদের রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার কথা জানিয়ে বলা হয়েছে, এবার রেমিট্যান্সেও নতুন রেকর্ড হয়েছে। বিগত অর্থবছরে আমাদের প্রবাসী শ্রমিকরা আয়ে রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৩১ কোটি ডলার। বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক এই প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পর এবার রেমিট্যান্স প্রবাহেও নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে হয়েছে নতুন রেকর্ড। গেল অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিকদের আয় এক হাজার ৫৩০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। এ সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১ হাজার ৫৩০ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। যা ২০১৩-১৪ অর্থবছরের চেয়ে ১০৭ কোটি ডলার বা ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি। প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়েছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে প্রবাসীরা ১৪২ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন। একক মাসের হিসাবে এই অর্থ গত অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং এ যাবৎকালের তৃতীয় সর্বোচ্চ। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ফলে আমাদের প্রবৃদ্ধি বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ।
বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রফতানি বৃদ্ধি ও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানো উৎসাহিত করায় রেমিট্যান্স প্রবাহে এই নতুন রেকর্ড। আমরা মনে করি এই অর্জন ধরে রাখতে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরো তৎপর হতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আমাদের জনশক্তি রফতানির ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে হবে। সেই সঙ্গে নতুন নতুন শ্রমবাজার খুঁজে বের করতে হবে। প্রবাসে শ্রমিকদের নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোকে তৎপর হতে হবে এবং শ্রমিকদের বৈধপথে দেশে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করতে হবে।