মুক্তার মৎস্য অভয়ারণ্য

পদ্মার কোলঘেঁষা গোদাগাড়ী উপজেলার পিরিজপুর এলাকার এক বেকার যুবকের নাম শফিউল আলম মুক্তা। দেশীয় মাছ রক্ষা ও বংশ বিস্তারের লক্ষ্যে এবং নিজের বেকারত্ব ঘুচিয়ে অসহায় জেলেদের মুখে হাসি ফোটাতে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন একটি মৎস্য অভয়ারণ্য। শুষ্ক মৌসুমে মৃতপ্রায় পদ্মা নদীর একখণ্ড জলাশয়ের এ অভয়ারণ্যটিতে ৫৫ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় মাছের সন্ধান মিলেছে। সংশ্লিষ্টদের অনুমতি সাপেক্ষে ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ২০০ মিটার প্রস্থের এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা এ অভয়ারণ্যকে ‘অনুকরণীয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারজানা হোসেন বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণে এ ধরনের উদ্যোগ খুবই কার্যকর। শফিউল আলম মুক্তা জানান, প্রথমে তিনি ইন্টারনেট ঘেঁটে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তোলা শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার আটকেপড়া ওই জলাশয়ের একটি ছবি সংগ্রহ করে প্রস্তুত করেন অভয়ারণ্যের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। পরে একটি খসড়া স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তা ও গোদাগাড়ীর ইউএনওর কাছে জমা দেন। মৎস্য কর্মকর্তা ফারজানা হোসেন জলাশয়টি পরিদর্শন করে তাকে অভয়ারণ্য গড়ে তোলার অনুমতি দেন। স্থানীয় জেলেদের বুঝিয়ে সেখানে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেন তিনি। বর্তমানে পদ্মায় পানি বাড়তে থাকায় সে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন জেলেরা পুরোদমে সেখানে নির্দিষ্ট আকারের মাছ ধরছেন। সেখানে পাওয়া যাচ্ছে পদ্মার বিলুপ্তপ্রায় ৫৫ প্রজাতির দামি মাছ। এসব মাছ ধরে নিজের এবং এলাকার জেলেদের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন মুক্তা।