সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ একটি অনন্ত সম্ভাবনার দেশ। সমসাময়িক বিশ্বের অর্থনৈতিক মহামন্দা ২০০৬-০৯ কাটিয়ে যে স্বল্পসংখ্যক দেশের অর্থনীতি হৃদয় উষ্ণ করা প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ তার অন্যতম। ২০০৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে বার্ষিক ৬ শতাংশের ঊর্ধ্বে সামষ্টিক আয়ের প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে দেশটি। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে যে সামাজিক অগ্রগতি সাধনের লক্ষ্য অর্জিত হয়, সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সফলতা চমৎকারিত্বের দাবি রাখে। ৭ মার্চের ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম’ স্বাধীনতা ঘোষণায় বঙ্গবন্ধু বাঙালির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সামাজিক অগ্রগতির অঙ্গীকার করেছিলেন। জাতির জনক তথা সরকারপ্রধান হিসেবে তা বাস্তবায়ন ও কল্যাণরাষ্ট্র দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর পরিকল্পিত অর্থনীতির স্পষ্টতম দলিলও রচনা করেছিলেন। অবকাঠামো পুনর্বাসন, নির্মাণ ও সংস্কার, দারিদ্র্য নিরসন, কৃষি খাতে উৎপাদন ভর্তুকি ও উৎপন্নে মূল্য সমর্থন, পরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিক্ষা খাতের বিজ্ঞানমনস্ক আধুনিকায়ন, শিল্পায়ন ও ফিসক্যাল পলিসি ব্যবহার করে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমিয়ে আনার অঙ্গীকার ছিল প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা দলিলে। আজকের দৃষ্টিনন্দন অর্থনৈতিক সাফল্য ও এর সামাজিক রূপান্তর ১৯৭২-৭৫ সালের ভিত্তির সোপান বয়েই এসেছে।
সারণী থেকে স্পষ্টতই দেখা যায় যে বিশ্ব অর্থনীতি, উন্নত দেশসমূহ এবং অগ্রগামী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের বার্ষিক সামষ্টিক আয় বৃদ্ধির হার অনেক বেশি। গণচিন ও শ্রীলংকা ছাড়া সকল উল্লেখযোগ্য এশিয়ান দেশের বিপরীতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এগিয়ে রয়েছে। পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি পরিমাপে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ২০১১ সালে ছিল ১ হাজার ৬৭৮ ডলার। খুব সম্ভব ২০১৯ সালে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পদার্পণ করবে।
সারণী থেকেই দেখা যাবে যে নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন ও অন্য অনেকের মতে ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যেমন অত্যন্ত ইতিবাচক, এর মাধ্যমে সামাজিক অগ্রগতি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শীর্ষস্থানীয়।’ ১৯৭২ সালের ৪৩ বছরের তুলনায় দেশের গড় আয়ুষ্কাল (লাইফ এক্সপেক্টেন্সি অ্যাট বার্থ) এখন ৬৯ বছর, যা শ্রীলংকার (৭৫) পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ থেকে এখন ১ দশমিক ৩ শতাংশ। শিশুমৃত্যুর হার এখন হাজারে ৩৪ (১৯৭২ সালে ছিল ১ হাজার ৯৭৯ জন)। মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি লাখ জীবন্ত শিশুর জন্মে ২৪০ জন। বাংলাদেশে মোট ফার্টিলিটির হার এশিয়ার মধ্যে সর্বনি¤œ ২ দশমিক ২। দেশে শিক্ষার হার ৬০ শতাংশের ওপরে (মতান্তরে ৫০-এর ঘরে)। প্রাথমিক ভর্তির হার প্রায় শতভাগ এবং ঝরে পড়ার হার হ্রাস পেয়ে এখন ৩০-এর কোটায়। উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় আছে ৫৬ শতাংশ মানুষ। বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছে শতকরা ৬৪ জন, দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ম্ভর। বস্ত্রে কোনো টানাটানি নেই। বাসস্থানে সমস্যা রয়েছে তবে সংকট নেই। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারিত হয়েছে, তবে গুণমানের উৎকর্ষতা প্রয়োজন। অর্থাৎ পাঁচটি মৌলিক চাহিদার বিষয়ে বাংলাদেশে সজ্ঞান মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে এখন দারিদ্র্য নেমে এসেছে ২৬ শতাংশে এবং প্রবণতা নি¤œমুখী। নারীর ক্ষমতায়ন তাৎপর্যপূর্ণ, অর্থনৈতিক কর্মকা-ে তাদের অংশগ্রহণ বেড়ে এখন ৪০ শতাংশ। সামাজিক সুরক্ষাবলয় সফল হয়েছে, এটি একটি সামাজিক সংরক্ষণ ব্যবস্থায় অগ্রসর হবে। দক্ষিণ এশিয়ায় মোবাইল ফোন ব্যবহারের হার বাংলাদেশে সর্বোচ্চ।
সবচেয়ে বড় কথা, বাংলাদেশ সম্পর্কে সম্প্রীতি একটি ইতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়েছে। গোল্ডম্যান স্যাকসের মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতি আশু-সম্ভাবনার সর্বোচ্চ ১১টিতে রয়েছে; জেপি মর্গ্যান একধাপ এগিয়ে বলছে ইন ফ্রন্টলাইন ফাইভে দেশটি। সিটি গ্রুপ অবশ্য ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে বাংলাদেশ এখন থ্রিজি অর্থাৎ থ্রি গ্লোবাল গ্রোথ জেনারেশনের একটি দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় পোলস্টার পিউ গবেষণা সংস্থার প্রকৃত জরিপ অনুসারে, বাংলাদেশের ৭১ শতাংশ লোক তাদের অর্থনৈতিক অবস্থায় সন্তুষ্ট রয়েছে। ভবিষ্যৎ বংশধরেরা আরও উন্নত জীবন পাবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছে ৭১ শতাংশ মানুষ। এদিকে নিউইয়র্কের বৈশ্বিক লেনদেনভিত্তিক একটি গবেষণা সংস্থার মতে, এশিয়া প্যাসিফিক, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার ২৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের ভোক্তাসূচকে আস্থা বেড়ে ৬৬ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আংটাড ২০১৩ প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ গন্তব্য বলে উল্লেখ পেয়েছে। বিগত পাঁচ বছরের ক্রমবর্ধমান প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ২০০৯ সালে ৭০ দশমিক ১, ২০১০ সালে ৯১ দশমিক ৪, ২০১১ সালে ১১৪, ২০১২ সালে ১২১ ও ২০১৩ সালে ১৬০ কোটি মার্কিন ডলার। কিন্তু এটি প্রতি বছর বৈশ্বিক মোট প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ ১ হাজার ৭০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কণামাত্র। আকর্ষণীয় নীতি কৌশলে এর ব্যাপক প্রবৃদ্ধি সম্ভব। এদিকে তৈরি পোশাক ও নিটঅয়্যার বাজারজাতকারী বড় বড় সংস্থা বাংলাদেশের দিকে আরও বেশি ঝুঁকছে। রানা প্লাজার দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার পর তৈরি পোশাক ও নিটঅয়্যার রপ্তানি খাত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। কলকারখানার মান উন্নয়ন ও পরিবেশ বিশ্বমানে নেওয়া হচ্ছে।
সমালোচক নিরাশাবাদীগণের সংশয়কে ভ্রান্ত প্রমাণিত করে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৩ হাজার ৩০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার হবে। অনুরূপভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহের পুনরুত্থান ঘটেছে বার্ষিক ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে, যা পৃথিবীর সপ্তম সর্বোচ্চ। আইএমএফের মতে, বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা চমৎকার। মুডিজ ও স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওর প্রতি বছরই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ঋণমানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে উচ্চ মূল্যায়নে রাখছে।
জঙ্গিবাদ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের সর্বাত্মক লড়াই ও এর সাফল্য বিশ্ববাসীকে অনুপ্রাণিত করেছে। অবস্থা এমন যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তড়িঘড়ি ব্যাখ্যা দিয়ে বলছে, তারা মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের বিপক্ষে নন এবং এর প্রক্রিয়া সম্পর্কেও তাদের কোনো বক্তব্য নেই; তারা অন্যান্য দেশে যেমন, বাংলাদেশেও তেমনি নীতিগতভাবে প্রতিটি ফাঁসির দ-াদেশের বিরুদ্ধে।
অন্য তিনটি সুসংবাদও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে অবদান রাখবে বৈকি। জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী গত ৯ অক্টোবর ক্যামেরুনের ইয়াওউন্ডেতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১৬ অক্টোবর জেনেভায় অনুষ্ঠিত অন্য একটি নির্বাচনে বাংলাদেশের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইন সভার সমাহারে গঠিত সর্বোচ্চ দুটি সংগঠনের নেতৃত্বের দায়িত্ব বাংলাদেশকে দিয়ে বাংলাদেশের সরকার, গণতন্ত্র ও সংসদের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ সমন্বিত অর্থনীতি ক্ষেত্রে বৃহত্তর সহযোগিতার আশ্বাসই প্রদান করেছে। অক্টোবরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় নিঃসন্দেহে এ দেশ, জনসাধারণ ও নির্বাচিত সরকারের প্রতি বিশ্ববাসীর আস্থার সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
বাংলাদেশ একটি অনন্ত সম্ভাবনার দেশ। এখানে সবচেয়ে বড় সম্পদ মানুষ ও মাটি। ১৬ কোটির মধ্যে পাঁচ কোটি মানুষের বয়স ১৫ থেকে ৩০-এর মধ্যে অর্থাৎ তারা বৃত্তিমূলক ও প্রযুক্তিপ্রধান শিক্ষায় ক্ষমতায়িত হলে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের যে সুবর্ণ সুযোগ বাংলাদেশকে হাতছানি দিচ্ছে তার পূর্ণ ফসল ঘরে ওঠানো যাবে। প্রয়োজন বেসরকারি ও সরকারি খাতের সমন্বিত সহযোগিতায় শত শত বৃত্তিমূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করে বিভিন্ন ট্রেড বা দক্ষতায় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের স্বীকৃতি মানসম্পন্ন দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি করা। সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা বাংলার মাটি শস্যের স্বর্ণখনি। কৃষাণ-কৃষাণীর অক্লান্ত পরিশ্রমে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ম্ভর। ১৯৭২ সালের এক কোটি টন খাদ্যশস্য উৎপাদনের বিপরীতে ২০১৪ সালের অর্জন ৩ দশমিক ৪ কোটি টন। সবজি উৎপাদন এ সময়ে পাঁচ গুণ হয়েছে এবং প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখী। আলুর বর্তমান বার্ষিক উৎপাদন ৮০ লাখ টন, যা ১৯৭২ সালে ছিল মাত্র ৭ লাখ টন। রাশিয়া ও ভারতের আলু রপ্তানির সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল। আয়তনে অনেক ছোট হলেও বাংলাদেশের মৎস্যজীবী চিন, ভারত, মিয়ানমারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চতুর্থ বৃহৎ মিঠাপানির মাছ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে জাতিসংঘের স্বীকৃতি পেয়েছে। উপযুক্ত নীতি কৌশলে মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষিপণ্যভিত্তিক, হালকা ইঞ্জিনিয়ারি যন্ত্র, কৃষি যন্ত্রপাতি, ফুল, প্রক্রিয়াজাত সবজি, আসবাবপত্র, দুগ্ধজাত দ্রব্য, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে নবায়নযোগ্য সৌর ও বায়োশক্তি সরবরাহ করে, সাশ্রয়ী সুদে ঋণ দিয়ে এবং উদ্যোক্তাদের উৎপাদনশীলতাকে বিকশিত করার শিক্ষা-প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানভিত্তিক তথা দারিদ্র্য নির্মূলকারী উন্নয়ন মডেল অনুসরণ করা যেতে পারে।
দেশের খনিজ সম্পদকেও খাটো করে দেখার উপায় নেই। রংপুর ও দিনাজপুরে ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকার নিচে যে উন্নতমানের বিটুমিনাস কয়লা রয়েছে ওপেন পিটের মাধ্যমে তা থেকে বছরে ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে ৫০ বছর (মতান্তরে ৩০ বছর)। তাছাড়া বগুড়া, ফরিদপুর এবং বৃহত্তর সিলেটের হাকালুকি হাওড়ের নিচে পিট কয়লার অবস্থান রয়েছে। দেশের মহামূল্যবান গ্যাস সম্পদর নিশ্চিত মজুদ ও সম্ভাব্য মজুদের অনুমিত হিসাবের সর্বজনগ্রাহ্য পরিমাণ নেই। সীমিত গ্যাসের একটি বড় অংশ মাত্র ৩৭ শতাংশ দক্ষতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে নিয়োজিত। ৮ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় বিলাস পাইপিং করে গৃহস্থালির রান্নাবান্নার কাজে (সারা পৃথিবীর মতে সিলিন্ডারে যাওয়া জরুরি)। এ দেশে রয়েছে পর্যটনের সর্বদীর্ঘ ও চিত্তাকর্ষক সৈকত। সীমিত পরিসরে তেল আছে হয়তোবা সোনাদানাও। আরও আছে টাঙ্গুয়ার হাওড়ের জীব ও প্রাণীবৈচিত্র্যের সমারোহ। সুন্দরবনের কথাও সবারই জানা।
অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক দৃষ্টিনন্দন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও হৃদয় উষ্ণ করা সামাজিক অগ্রগতি ‘বিস্ময়’ বলে উল্লেখ করলেও এই অর্জন যে সঠিক নীতি-কৌশল ও সংশ্লিষ্টজনের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল সে সম্পর্কে সন্দেহ করার কারণ নেই। সমসাময়িক বিশ্বের অর্থনৈতিক মহামন্দা সাহসিকতার সঙ্গে সফলভাবে মোকাবিলা করে যে গুটিকয় দেশ সামষ্টিক আয়ের প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, বাংলাদেশ সেগুলোর অন্যতম। অর্থাৎ বাংলাদেশ এখন দ্রুতগতি সমৃদ্ধির পথে।

লেখক : ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন
অর্থনীতিবিদ; ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা