সরকারের নজর এখন উন্নয়নে

সরকারের নজর এখন উন্নয়নের দিকে। ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেন প্রকল্প, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু, পায়রা সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনসহ বৃহৎ কর্মকাণ্ডের বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে সরকার। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের ও ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত রাষ্ট্রের তালিকায় নিয়ে যেতে নানা পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার। দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদি এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে লক্ষ্যে পৌঁছাতে চায় সরকারের হাইকমান্ড। ইতিমধ্যে নেওয়া প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বাইরে বিগত মহাজোট সরকারের সময় নেওয়া আটটি বড় অগ্রাধিকার প্রকল্প নিজেই তদারক করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে উন্নয়নের দিকে। বিশেষ করে যোগাযোগ খাতের দিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যাতে করে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করা যায়। এর মধ্যে ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেন প্রকল্পের কাজ শেষ হচ্ছে শিগগিরই। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই এ সড়কটি উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। একইভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন প্রকল্পের কাজ শেষ করা ওপর। রাজধানীকে যানজট থেকে মুক্তি দিতে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ উড়াল সড়ক (এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) নির্মাণের কাজ শুরু হবে চলতি বছরের শেষ দিকে। এ ছাড়া সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের অন্যতম মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজও শুরু হচ্ছে শিগগিরই। ২০১৯ সালের মধ্যেই মেট্রোরেল চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বিগত মহাজোট সরকারের সময় নেওয়া অগ্রাধিকার ও বড় প্রকল্পগুলোর কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিতে নজরদারি করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই এসব বড় প্রকল্পের কাজ তদারক করছেন। বড় প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে পদ্মা সেতু, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল নির্মাণ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পায়রা সমুদ্রবন্দর। সরকার পায়রা সমুদ্রবন্দর নির্মাণে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এ প্রকল্পের সদস্য (অপারেশন) ক্যাপ্টেন সাইদুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, তারা পায়রা বন্দরের জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। ২০১৮ সালের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ সমুদ্রবন্দর হিসেবে পায়রাকে চালু করতে চান। সে লক্ষ্যে কাজ চলছে। ইতিমধ্যে স্বল্পমেয়াদি প্রকল্পের জন্য প্রায় ১১০০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে একনেকে। এর মধ্যে ছয় হাজার একর জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর মধ্যে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের কাজও দ্রুতগতিতে চলছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের ১৮ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। পদ্মা নদীর দুই পাড়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। পুনর্বাসন ও সার্ভিস এরিয়া নির্মাণের কাজ রয়েছে শেষ পর্যায়ে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, ২০১৮ সালেই যান চলাচলের জন্য পদ্মা সেতু খুলে দেওয়া হবে। কর্মসংস্থানের দিকেও চলতি বছরের বাজেটে সরকার ৩০টি অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠার কথা বলেছে। এর মধ্যে ছয়টি জোনই করা হবে এ বছর। এসব জোনে বিনিয়োগ করবে বিদেশিরা, যার মাধ্যমে প্রায় আট লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘২০০৮ সালে ভিশন ২০২১ সামনে নিয়েই আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে। তখন প্রধান দুটি লক্ষ্য ছিল, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। আমরা অর্থনৈতিকভাবে অনেক অগ্রসর হয়েছি। ডিজিটাল বাংলাদেশও কোনো স্বপ্ন নয়, বাস্তবে রূপ নিয়েছে। ২০২১ সালের আগেই আমরা মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হতে পারব। এ জন্য সরকার অনেকগুলো প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে আটটি প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।’ বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে আমাদের বেশ কিছু চুক্তি ও প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ফলে আমাদের যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের পণ্যবাহী কার্গো যাবে নেপাল, ভুটান ও ভারতের উত্তর-পূর্ব প্রদেশে।’ তিনি বলেন, দেশের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা বেড়ে এ বছর ৯ থেকে ১৪ বিলিয়নে উন্নীত হয়েছে। মাথাপিছু আয় এখন ১ হাজার ৩১৪ মার্কিন ডলার। আগামী দিনগুলোতে বিশ্বের যে ১১টি দেশ অর্থনীতিতে এগিয়ে যাবে, তার একটি বাংলাদেশ।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্যই আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে। মানুষের উন্নয়নে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ টেকসই উন্নয়ন করতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে।