‘সবজি বাগান’ ছুটছে পথে-প্রান্তরে

সবুজ অটোরিকশায় ‘জীবন্ত সবুজের’ ছাউনি। ছাদে, জানালায় ঝুলছে পুঁই শাক, শিমের লতা। সবুজ পাতায় ঘেরা সিএনজিচালিত অটোরিকশা এখন ঘুরছে রাজপথে, অলিগলিতে। হঠাৎ দৃষ্টিতে চমকে গেলেও বিচিত্র এ চলন্ত বাগানের পুরোটাই বাস্তব। চালকের ইচ্ছায় অটোরিকশাতেই হচ্ছে সবজি চাষ। একটি নয়, এ রকম একাধিক অটোরিকশার দেখা মিলবে এখন রাজধানীতেই।

মহাখালী ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে রবিবার দুপুরে সবুজ রঙের সিএনজিচালিত অনেকগুলো অটোরিকশা ছুটছিল উত্তরার দিকে। সামনে, পেছনে, পাশে অন্য যানবাহন। ব্যস্ত পথে সবাই চলছে যার যার মতো সতর্কতার সঙ্গে। কারো দিকে তাকানোর সুযোগ কোথায়! কিন্তু এমন ব্যস্ততার মাঝেই অন্য সব পরিবহন আরোহীদের চোখ আটকে যায় একটি অটোরিকশার ওপর। রেক্সিনের ছাদের ওপর লাউ শাক, পুঁই শাক আর সিমের লতা-পাতা। দূর থেকে বিষয়টি পরিষ্কার না হলেও কাছে ঘেঁষতেই চোখ ছানাবড়া। এ তো বাজার থেকে কেনা শাকসবজি নয়! রীতিমতো সতেজ-সবুজ গাছ। গ্রিল পেরিয়ে ছাদে উঠতে তৎপর গাছের ডগাগুলো। গাছগুলো লাগানো আছে অটোরিকশার সামনের দিকে চালকের ডানপাশে দরজার ওপর বিশেষ ব্যবস্থায়।

ছোট টবের মতো পাশাপাশি সাজিয়ে রাখা হয়েছে একের পর এক গাছ। রশি দিয়ে বাঁধা হয়েছে আলাদা আলাদা করে। শাকসবজি ছাড়াও আছে কয়েকটি ফুল ও ফলের গাছ। দরজার গ্রিল বেয়ে লতানো গাছগুলো যেমন তরতরিয়ে বেয়ে গেছে ওপরের দিকে, তেমনি অন্য কাণ্ডযুক্ত গাছগুলোও ওই গ্রিলকে ভরসা করেই বাইরের দিকে বের করে দিয়েছে মাথা। আলো-বাতাস আর বৃষ্টির ধারায় এই চলন্ত বাগানটি এখন পুরোটাই সতেজ।

পাশ থেকে জানতে চাইলে অটোরিকশা চালু রেখেই চালক জানান, তাঁর নাম আকতার হোসেন, বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি। কবে থেকে চলছে এ বাগান? প্রশ্ন শুনে অল্প গলা বাড়িয়ে জানান-‘আড়াই বছর।’ অটোরিকশার ভেতরে যাত্রী থাকায় এবং ফ্লাইওভার থেকে ঢালে নামার সতর্কতার কারণে ওই চালকের সঙ্গে আর কথা বাড়ানো গেল না।

‘জীবনে অন্তত একটি গাছ লাগান’, ‘গাছ লাগান-পরিবেশ বাঁচান’ স্লোগানগুলো লেখা আছে এ সিএনজি অটোরিকশাতেই; যা দূর থেকেও দেখা যাচ্ছিল।

এমন সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চলন্ত বাগান যে কেবল একটিই, তা নয়। রাজধানীতে ইদানীং চোখে পড়ছে এ রকম বেশ কিছু যানবাহন। পরিবেশ সচেতনতার প্রতীক নিয়ে ঘুরছেন চালকরা সড়কে, পথে-প্রান্তরে।