আশার আলো আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার

দেশে হাঁসের মাংস ও ডিমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আর এ সুযোগ কাজে লাগাতে চায় প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। সৃষ্টি করতে চায় লাখো যুবকের কর্মসংস্থান। এ লক্ষ্যে হ্যাচারিসহ আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার স্থাপন প্রকল্পের (তৃতীয় পর্যায়) আওতায় সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে ১৪টি খামার নির্মাণ করা হচ্ছে। এখান থেকে অল্প দামে বাচ্চা নিয়ে যুবকরা গড়ে তুলতে পারবেন খামার। আর এর মাধ্যমে তারা সহজেই খুঁজে পাবেন স্বাবলম্বী হওয়ার উপায়।

বেশিরভাগ হাঁস প্রজনন খামারের নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে। চালুর অপেক্ষায় রয়েছে কয়েকটি। চালু হলে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের এ খামার থেকে মাসে অল্প দামে ২৮ হাজার হাঁসের বাচ্চা বিক্রি করা হবে। এসব বাচ্চা বেকার ব্যক্তিরা বাড়িতে লালনপালন করতে পারবেন। এছাড়া জেলার হাওরেও তারা খামার করতে পারবেন। হাঁস লালনপালন লাভজনক হওয়ায় অনেকেই এখানে খামার করেছেন। সহজে বাচ্চা পাওয়া গেলে আরও অনেক যুবক খামার করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারটি স্থাপিত হয় ২০০৩ সালে। কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৬ সালে। সফলতার সঙ্গে কয়েক বছর এখানে জিঞ্জিং, খাকি ক্যাম্বলসহ কয়েক প্রজাতির হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন এবং সরকারি (অল্প মূল্যে) দামে বিক্রি করা হয়। ২০০৯ সালে হঠাৎ এটি বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় পাঁচ বছর বন্ধ থাকার পর ২০১২ সালের ১৫ নভেম্বর কর্তৃপক্ষ খামারটি পরিদর্শন করে। এরপর সংস্কারের জন্য বরাদ্দ আসে। ২০১২ সালের ২২ ডিসেম্বর সংস্কার কাজ উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বলেছে, একতলা দুটি লেয়ার শেডের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। একতলাবিশিষ্ট একটি হ্যাচারি ভবন ও একটি গ্যারেজের কাজ শেষের পথে। এ কারণে বেকারদের মধ্যে আশার আলো সৃষ্টি হয়েছে। কেননা এটি চালু হলে তারা অল্প দামে হাঁসের বাচ্চা কিনে লালনপালন করতে পারবেন। সৃষ্টি হবে তাদের কর্মসংস্থান।

সূত্র জানায়, সহজ যোগাযোগের বিষয়টি মাথায় রেখে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শায়েস্তাগঞ্জ পৌর এলাকার কলাপাড়ায় আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারটি স্থাপিত হয়।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তা ডা. মোঃ মাহবুবুল আলম জানান, শায়েস্তাগঞ্জের আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার বেশ কিছুদিন বন্ধ ছিল। এরপর প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের প্রকল্প পরিচালক, হ্যাচারিসহ আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের (তৃতীয় পর্যায়) আওতায় এটি সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ শুরু হয়েছে। কাজ শেষ হলে নিয়মনীতি অনুসারে এটি চালু হবে।