শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ এই অর্জন ধরে রাখতে হবে

বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনাময় একটি দেশ, এই দেশ বিপুল সম্পদ ও ঐতিহ্যের অধিকারী এ কথা অসংখ্যবার উচ্চারিত হয়ে আসছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহল থেকে। এই সম্ভাবনা প্রতিষ্ঠা পাবে বা বাস্তবায়ন ঘটবে তার শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রচেষ্টা, নারীর অধিকার সংরক্ষণ, মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধ এবং দেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলাসহ সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ ও প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করার মধ্যদিয়ে। দেশ থেকে দুর্নীতির মূলোৎপাটন করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে। কেবল দেশব্যাপী দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হলেই ওই অপার সম্ভাবনার পরিস্ফুটন ঘটবে না। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের সঙ্গে অপরাপর বিষয়ের সংস্কার ও উত্তরণ ঘটাতে হবে। তাহলেই অপার সম্ভাবনার বাস্তবায়ন ঘটানো সহজ হবে। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে।

আশার কথা, দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে তৃতীয় অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পরের অবস্থানে রয়েছে শ্রীলংকা, ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। বাংলাদেশের আগের দুটি অবস্থান ভুটান ও নেপালের। এছাড়া বিশ্বের ১৬২টি দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম। চলতি সপ্তাহে একটি অলাভজনক বৈশ্বিক সংস্থা ইন্সটিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস ‘গ্লোবাল পিস ইনডেক্স’ (জিপিআই) নামে বিশ্বের শান্তিপূর্ণ দেশগুলোর একটি সূচক প্রকাশ করেছে। এই সূচকে ইতিবাচক অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। সূচক প্রকাশে সহিংসতার মাত্রা, অভ্যন্তরীণ ও বহির্মুখী সহিংসতা ও সামরিক শাসনের মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করেছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশের এই ইতিবাচক অর্জনের প্রধান কারণ হচ্ছে চার দশকে বাংলাদেশ দাঁড়াতে পেরেছে তার আপন গৌরব, ঔজ্জ্বল্য ও কর্মসুষমা নিয়ে। আন্তর্জাতিক বিশ্বও বাংলাদেশের উন্নয়নকে দেখছে ইতিবাচক দৃষ্টিতে। এমনতি জাতিসংঘের মহাসচিবও বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করেছেন। বাংলাদেশের মানুষ ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ একটা বিস্ময়কর, পৃথিবীখ্যাত ঘটনা। মাত্র নয় মাসে লড়াকু বাঙালি জাতি পাক-হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মরণপণ যুদ্ধ করে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে ইজ্জত দিয়ে, আবার কেউ চিরতরে পঙ্গু হয়ে দেশ স্বাধীন করেছে। এত ত্যাগ ও রক্ত দিয়ে পাওয়া স্বাধীন দেশ তো ধীরে ধীরে এগিয়ে যাবেই।
স্বপ্ন ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না কথাটা হয়তো বা ঠিক তবে, স্বপ্ন ছাড়া এখন বাংলাদেশের মানুষও বাঁচতে পারে না। স্বপ্নবিলাসী বাঙালি কঠিন জীবন সংগ্রামের কারণে, দ্রব্যমূল্যের চাপে ও তাপে আত্মনির্ভরশীলতার দিকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। রাজনৈতিক সংঘাত হানাহানি সহিংসতা দেশকে অনেকটা পিছিয়ে নিয়ে গেছে। এ জন্য মূলত দেশের রাজনৈতিক দলগুলোই দায়ী। যদি এ ধরনের নেতিবাচক পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা যায় তা হলে একটি শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে মর্যাদাপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

এসব রাজনৈতিক নেতিবাচক দিককে পায়ে ঠেলে, মাড়িয়ে-ডিঙিয়ে বাংলাদেশকে ঘুরে দাঁড়াতে হবেই। তা না হলে বাঙালির সব আন্দোলন, সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, আত্মবিসর্জন বৃথা হয়ে যাবে। বৃথা হয়ে যাবে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাও। এসব ব্যাপারে জনসাধারণের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সরকার সচেতন ও উদ্যোগী না হলে বাংলাদেশের ভাগ্য ফেরানো কঠিন। ভাগ্য ফেরানো কঠিন জনগণেরও। মনে রাখতে হবে এখনো পুরোপুরিভাবে আত্মতুষ্টির সুযোগ আসেনি। এই সুযোগ তৈরি করতে হবে সরকারকেই।