আমলাতন্ত্রকে শক্তিশালী করছে সরকার

প্রশাসনে মেধা ও দক্ষতার মাধ্যমে  আমলাতন্ত্রের ভিত শক্তিশালী করছে সরকার। এজন্য কর্মকর্তাদের দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি উচ্চ শিক্ষার্থে আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হচ্ছে। যাতে কর্মকর্তারা বিশ্বের যে কোনো দেশের আমলাতন্ত্রকে টেক্কা দিয়ে কাজ করতে পারে। সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, সরকার প্রতিবেশী ভারতের মতো দক্ষ, মেধাবী ও স্বতন্ত্র প্রশাসন গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে দক্ষ আমলাতন্ত্র গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন। এজন্য কর্মকর্তাদের বিদেশ প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তার সরকারের দুই মেয়াদে গত ৫ বছরে (২০১০-১৫) ১ হাজার ৭শ’ কর্মকর্তা স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি বিদেশে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এছাড়া একই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে (বৃত্তি নিয়ে) ৫ শতাধিক কর্মকর্তা বিদেশে প্রশিক্ষণ নেন। প্রশাসনে লোভনীয় পদে পদায়নের কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণে আগ্রহ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের যে কোনো ধরনের দেন-দরবারে এগিয়ে থাকতে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে সরকার খুবই আগ্রহী।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যাপারে খোদ প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক মনোভাবের কারণে আমেরিকা, ইংল্যান্ডসহ গোটা বিশ্বের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।    এ ব্যাপারে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এমওইউ স্বাক্ষর করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণের নতুন দুয়ার খুলছে।     পৃষ্ঠা ২ কলাম ০
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে কোয়ালিটি কর্মকর্তার খুবই প্রয়োজন। সেই প্রয়োজনীয়তা থেকে আমলাতন্ত্রের উন্নয়নে মনোযোগী হয়েছে সরকার। কর্মকর্তাদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি দীর্ঘ ও স্বল্প মেয়াদের বিদেশ প্রশিক্ষণ, বিশ্বের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনে পাঠানো হচ্ছে। বিশেষ করে পিএটিসিতে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে মেধাধারীদের (১ থেকে ১০ম) ক্যামব্রিজ, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ আমেরিকা ইউরোপের নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াবে সরকার।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে মানবকণ্ঠকে জানান, খোদ প্রধানমন্ত্রী বিদেশে প্রশিক্ষণ ও উচ্চতর ডিগ্রি নেয়া ও গবেষণায় কর্মকর্তাদের পাঠানোর ব্যাপারে উৎসহ যোগাচ্ছেন। সেটা সরকারি খরচে হোক বা কেউ ব্যক্তিগত খরচে যাক সে সুযোগ তাদের করে দিতে হবে। প্রশিক্ষণ কর্মকর্তাদের মনোবল বৃদ্ধি করে। তাদের কর্মক্ষেত্রে কাজে আসে।
বিদেশে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সরকারি তথ্য দেখা গেছে, গত ৫ বছরে  (২০১০-১৫) প্রশাসনের ১ হাজার ৬৬৭ জন কর্মকর্তা বিদেশে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ২০১০ সালে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণে গেছেন ৪৭ জন, স্বল্পমেয়াদি ৪৩ জন, ২০১১ সালে ৫৫ জন দীর্ঘমেয়াদি, স্বল্প ১১৬ জন, ২০১২ সালে ৭৬ জন দীর্ঘমেয়াদি, ১২০জন স্বল্পমেয়াদি, ২০১৩ সালে দীর্ঘমেয়াদি ৪১ জন, স্বল্প ২৬৭ জন, ২০১৪ সালে ৩৩ মেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি ৫১৭ জন ও ২০১৫ সালের ৬ মাসে ১৪ জন দীর্ঘমেয়াদি ও ৩৩৮ জন স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণে গেছেন।
বিশেষ করে গত ১ বছরে (জুলাই ২০১৪ হতে ৩ মে ২০১৫ পর্যন্ত) দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদে ৯০২ কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
প্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের আমলাতন্ত্রের অনেক দুর্বলতার মাঝেও কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট রয়েছে। সেটি খুব বেশি আলোচনায় আসে না। নেতিবাচক বিষয়াদি নিয়েই বেশি মতামাতি হয়। ইতবাচক বিষয়গুলো বলা উচিত।
ভারতের সঙ্গে বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থকে প্রধান্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে চুক্তির খুঁটিনাটি সবই এদেশের আমলারাই করেছেন। এ চুক্তি নিয়ে কোথাও দুর্বলতার কথা বলা হচ্ছে না। ভারতের মতো একটি দেশের সঙ্গে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তিতে আমলাদের সফলতা আছে। দেশ-বিদেশের প্রশিক্ষণে কর্মকর্তাদের বার্গেনিং ক্যাপাসিটি বাড়ে।
কর্মকর্তাদের ব্যাপক অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ: ২০১০ সাল হতে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে আইন ও প্রশাসন বিষয়ে ২০টি কোর্সে ৬৯৬ কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এছাড়া ২০১০ সালের আগস্ট হতে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিপিটিসিতে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ২ হাজার ৭১৪ কর্মকর্তা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত ৭ বছরে (২০০৯ সাল হতে ১ মে ২০১৫)  উচ্চতর প্রশিক্ষণ (এনডিসি, এসএসসি, এসিএডি প্রশিক্ষণ) নিয়েছেন ১ হাজার ৭৬০ কর্মকর্তা।
কোর্স মধ্যাহ্ন/নৈশভোজকালীন সেমিনার কোর্স করেছেন ১০৫ সিনিয়র সচিব/সচিব, ক্যাপস্টোন কোর্স করেছেন সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিবসহ ৭ জন, পলিসি প্ল্যানিং অ্যান্ড মানেজমেন্ট কোর্স (পিপিএম) করেছেন ৬৭ জন অতিরিক্ত সচিব, এনডিসি কোর্স করেছেন ৬৭ জন যুগ্ম সচিব, এসএসসি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ৪৮৭ জন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা (৭১তম পর্যন্ত), এসিএডি কোর্স করেছেন উপসচিব পদমর্যদার ১ হাজার ২৭ কর্মকর্তা। গত এক বছরের উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ৪১৮ কর্মকর্তা।
দেশবিদেশে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একটি দক্ষ আমলাতন্ত্র গড়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। – :