‘এত পরিশ্রম কোনো ছবির জন্যই করিনি আমরা’

নিজের ক্যারিয়ারে শীর্ষে যাবার সিঁড়িটা মডেলিং-এর ক্ষেত্রে তরতরিয়ে উঠে গেলেও চলচ্চিত্রের পথটা যে একেবারেই ভিন্ন তা এই ক’বছরে ইমনের চেয়ে আর কে ভালো জানে? একটি সায়েন্স ফিকশন চলচ্চিত্র দীর্ঘ ক’বছর ধরে নির্মান চলছে তো চলছেই! ‘সন্ধ্যার মেঘমালা’ নামের একটি চলচ্চিত্র বিশাল ঢোল বাজিয়ে গানের অ্যালবাম বের করে প্রযোজক-নির্মাতা লাপাত্তা! মাঝে কিছু কাজ করেছেন। তবু হাল ছাড়ার পাত্র নন এই মেধাবী ও পরিশ্রমী তরুণ। এবারে যেন আঁটঘাট বেঁধেই নেমেছেন। মীমের সাথে এবারে আসছে ‘পদ্মপাতার জল’ নামের একটি ছবি। ইদানীং ‘আাামার ছবিটি বড় বাজেটের ছবি’ এই বলে শিল্পীরা যে আত্মগরিমায় ভোগার প্রবনতা তৈরি হয়েছে, সেই কাতারে এখনও ক্যাম্পেইনের সময় কলাকুশলীরা প্রত্যেকেই বলছেন এটি বড় বাজেটের ছবি। তবে সে বিষয়টিও মূখ্য নয়। কারণ ছবির প্রযোজনে পরিপূর্ণ অনুসঙ্গ থাকাটাই সবচেয়ে জরুরী। সেই হিসেবে এই ছবিটিও সেটি পূরণ করেছে বলে সবাই ধারণা করছেন। নির্মাতারা তো প্রত্যাশা করছেনই। তবে ছবিটির ক্যাম্পেইনে এখন খুব জোরে সরে কাজ করছেন এর পাত্র, পাত্রী, নির্মাতা। কারণটা হলো ঈদ। এমনিতে নানান কৌশল বা ফিল্ম পলিটিক্সের ব্যকরণ পেরিয়ে ঈদে ছবি মুক্তি পাওয়া বা দেয়াটা অনেকটা সোনার হরিণের মতো। সেই চলচ্চিত্রের বাজারে ঈদে শাকিব খান সহ অন্য কমার্শিয়াল ছবির সাথে এই ছবিটি যুদ্ধ করবে। তাই এই সুযোগটা কোনোভাবেই হাত ছাড়া করতে চাইছেন না ছবির পাত্র পাত্রী। অবহেলা তো নয়ই! এমনিতে অধিকাংশ ছবিতে আমাদের দেশে ছবির ক্যাম্পেইনের সময় মূল কাস্টিংকে খুঁজে পাওয়া যায় না। বা তারা পিঠাপিঠি অন্য ছবির কাজ শুরু করে দেন। সাথে সাথে পুরোনো ছবির গেট আপও পরিবর্তন হয়ে যায়। আমাদের দেশে একেকটি ছবিতে যে হিরো-হিরোইনের আলাদা গেটআপ বা চেহারার রংবদলটা খুব জরুরী, তা নির্মাতারা এখনও এর প্রয়োজনীয়তা বুঝে উঠতে পারেন নি। তবে সময় বদলে যাচ্ছে। অনেকেই এইসব বিষয় শুধরে নিচ্ছেন। এই ছবিটি এদিক দিয়েও নাকি ব্যতিক্রমী অবস্থানে রয়েছে বলে দাবী ইমনের। ইমন আরো বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে একাধিক জায়গায় এর ক্যাম্পেইন করছি। এতটা পরিশ্রম সত্যিই অন্য ছবিতে কখনও করিনি। আর এই ছবির টিমও ছবিটির ব্যাপারে খুব নজর দিচ্ছেন।’

দেখা যাক, ছবি মুক্তির আগে সকলেই যে লম্বা বা বিশালাকার বুলি আওড়ান সেই প্রতিশ্রুতির জলে পদ্ম পাতার জল দর্শকেরা কোন নদীতে নিয়ে ফেলেন?