ডিজিটাল বাংলাদেশ উন্নয়নের অনন্য উদ্যোগ

দারিদ্র্যপীড়িত বাংলাদেশের অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে। মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর হতে চলেছে লাল-সবুজের এ দেশটি। অনাহার, অর্ধাহার, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, অনুন্নত যোগাযোগ খাতসহ অভাব আর অপ্রতুলতার মতো পীড়াদায়ক শব্দগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে ৫৫ হাজার বর্গমাইলের মানচিত্র থেকে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে শিগগিরই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর হবে সন্দেহের অবকাশ নেই। নেতৃত্বের এই বলিষ্ঠতা ও দৃঢ়তা আমাদের বড় প্রাপ্তি। বাংলাদেশের বড় অর্জন উন্নয়নের মহাসড়কে উঠে আসা। এ ক্ষেত্রে বড় সহায়ক ছিল তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে উদ্ভাবনী ভাবনা ও সময়োপযোগী যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের বাস্তবভিত্তিক নির্দেশনা এক্ষেত্রের উন্নয়নে অবিকল্প সহায়ক হয়েছে। অর্জিত বিদ্যার সবটুকুই তিনি দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাচ্ছেন। দেশের জন্য তার এই সেবার ব্রত জাতীয় উন্নতির এক সবুজ সংকেত। সঙ্গে রয়েছেন তরুণ মন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের অক্লান্ত ও নিরলস পরিশ্রম। তাঁদের নিরলস শ্রমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও প্রযুক্তির সেবা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়েছে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতাতেও ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বরূপ অংকন করেছেন যৌক্তিকভাবে। বিভিন্ন নতুন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন যা আমাদের দারুণভাবে আশান্বিত করে। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বাংলাদেশকে বিশ্বের রোল মডেলে পরিণত করতে সরকার ও বেসরকারি খাত একযোগে কাজ করছে। যা দেশের উন্নয়নে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। বর্তমান বিশ্বে জনগণের ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্য দূরীকরণের অন্যতম হাতিয়ার তথ্যপ্রযুক্তি। এ হাতিয়ারকে ধারণ করে বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের উন্নয়নে যুগান্তকারী এক দর্শন ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য। বাঙালি জাতির স্বপ্নপুরুষ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন লালিত স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা। সমৃদ্ধ ও উন্নত সেই সোনার বাংলা গড়তে নতুন অভিধা হিসেবে ডিজিটাল বাংলাদেশে প্রতিপাদ্য বাস্তবায়িত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু তনয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বেই।

আধুনিক বাংলাদেশের মূল ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল মূলত নব্বই দশকের শেষ প্রান্তে। ১৯৯৬ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর দেশের উন্নয়নের স্বপ্ন কান্ডারি শেখ হাসিনা আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেন। ২০০১ সাল পর্যন্ত দেশ সমৃদ্ধির নতুন সোপান অবলোকন করতে শুরু করে। ২০০১ এর পর দীর্ঘ কয়েক বছর দেশের সার্বিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। ২০০৯ সালে সমৃদ্ধ দেশ গড়তে নতুন উদ্দীপনা যোগ হয়। তথ্য-প্রযুক্তির ছোঁয়ায় উন্নত ও সমৃদ্ধ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ শুরু হয়। উন্নয়নের পূর্বশর্ত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। এ প্রতিপাদ্য বাস্তবায়নে ডিজিটাল ক্ষেত্রকে আরো বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। সবক্ষেত্রে সুশাসন, সব কার্যক্রমের দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতা, দারিদ্র্য, দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত, ক্ষুধামুক্ত রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যেই সরকার তথ্য ও প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেয়। উদ্দেশ্য ছিল সুখী-সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে সব জনগণকে সম্পৃক্তকরণ জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানবউন্নয়ন, বহুরৈখিক অর্থনৈতিক সুযোগের বৈচিত্র্যায়ন, অতিদ্রুততার সাথে সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া। একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তি-নির্ভর বেগবান বৈশ্বিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নিজেদের দারিদ্র্য ঝেড়ে ফেলতে সক্রিয় হয় সরকার। কর্মতত্পরতা বাড়ে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরে। ঘোষণা দেয়া হয় ‘ভিশন-২০২১’ রূপকল্পের। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় অতিদ্রুত ত্বরান্বিত হতে থাকে দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়া।

রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে নিহিত অদক্ষতা ও পশ্চাত্পদতাকে দূর করতে নেয়া হয় বিশেষ পদক্ষেপ। ধীরগতিসম্পন্ন প্রশাসনযন্ত্রের প্রতিটি অংশকে পুনরুজ্জীবিত করার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সরকারি সব পর্যায়ের কাজেই প্রযুক্তি নির্ভরতা বাড়ানো হয়। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানকে অধিকতর উন্নত ও টেকসই সেবা প্রদান পদ্ধতির প্রবর্তনে দিক-নির্দেশনা দেয়া হয়। সম্পদের সুষম বণ্টন, যথাযথ ব্যবহার ও সরকারি প্রশাসনযন্ত্রের গতি, দক্ষতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে প্রযুক্তির সহযোগিতা নেয়া হয়।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে সর্বস্তরে গতিশীলতা বৃদ্ধি করা হয়। সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে অনুসরণ করা হয় উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসমূহকে। প্রত্যন্ত অঞ্চল ও তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি সেবা দ্রুততম সময়ে পৌঁছানোর জন্য প্রযুক্তির অবিকল্প সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ অভিপ্রায়ে দেশের ৪ হাজার ৫৪৭টি ইউনিয়ন পরিষদে, ৩২১টি পৌরসভায় ও সিটি করপোরেশনের ৪০৭টি ওয়ার্ডে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ই-সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ই-সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, আইনি সহায়তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, আইনের প্রয়োগসহ বেশিরভাগ সরকারি সেবাই সবপর্যায়ের জনগণের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থাপিত ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে পণ্যের উত্পাদন ও বিপণন সংক্রান্ত তথ্যের সুবিধা পাচ্ছে কৃষকরা। এর ফলে প্রান্তিক কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উত্পাদন দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। হ্রাস পাবে উত্পাদন ও পণ্য বাজারজাতকরণ ব্যয়। তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বিশাল ন্যাশনাল ওয়েব পোর্টাল। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এ পোর্টালের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। দেশের সব উপজেলাকে আনা হয়েছে ইন্টারনেটের আওতায়। এর ফলে গোটা দেশ এই প্রথমবার আবহমানকালের সাংস্কৃতিক অঙ্গন ছেড়ে বেরিয়ে আসে।

কেবল তাই নয়। শ্রেণি পেশা ভেদে সব স্তরের মানুষের নাগালের মধ্যে তথ্য ও প্রযুক্তির কার্যক্রম ছড়িয়ে দেয়ার প্রয়াস অভাবনীয় ভূমিকা রাখে। বলা হয়ে থাকে, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১ শতাংশ বাড়লে রপ্তানি বাড়ে ৪.৩০ শতাংশ। এছাড়া নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারীদের আন্ত:যোগাযোগ নতুন নতুন উদ্ভাবন এবং বাজার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখে। এ লক্ষ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের মাত্রা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়ার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। ২০০৯ সালে দেশে ৩.২০ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল। এ সংখ্যা মাত্র এক বছরের ব্যবধানেই ১২ শতাংশে উন্নীত করা হয়। প্রতিবছর ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা বাড়ছে। ২০১২ সালের মার্চে ৪০.১৮২ মিলিয়ন। এ সংখ্যা চলতি বছরের মার্চে গিয়ে দাঁড়ায় ৪৪.৬২৫ মিলিয়নে। ফেব্রুয়ারি ২০১৫ পর্যন্ত ইন্টারনেট ডেনসিটি ২৭.৮০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে। আগামী ৩ বছরে এ হার ৫৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। অগ্রগতির এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের জিডিপির হার বৃদ্ধি পাবে ২.৬ শতাংশ। এ ছাড়া ৪ লাখ নতুন ব্যবসা ও ১ লাখ ২৯ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ব্রডব্র্যান্ড পেনিট্রেশন ১০ শতাংশ বাড়লে জিডিপি বাড়বে ১.৩৮ শতাংশ। এ বিবেচনায় সরকারের আরেকটি পরিকল্পনা হচ্ছে ২০১৮ সালের মধ্যে ব্রডব্যান্ডের সম্প্রসারণ ৪০ শতাংশে উন্নীত করা।

এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সরকারের ব্যাপক আগ্রহ ও দেশের ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের প্রেক্ষিতে বিনিয়োগের বিরাট একটি সম্ভাবনা ও ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নিরলস প্রচেষ্টায় দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আসাও শুরু হয়েছে। আমেরিকার সিলিকন ভ্যালি থেকে বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ আসছে। এর আগে ফেইসবুকে তিনি এক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য কিছু চমত্কার খবর আছে। এই প্রথমবারের মত সিলিকন ভ্যালির মতো একটি উদ্যোক্তা তহবিল বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সান হোসে এবং সানফ্রান্সিসকো এই দুই শহরের মাঝামাঝিতে ৩০০ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে গড়ে ওঠা সিলিকন ভ্যালি ইন্টারনেট সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। গুগল, ফেইসবুক, ইয়াহু, অ্যাপল, ইনটেল, এএমডি, এইচপি, ওরাকল, অ্যাডবির মতো বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যালয় এই সিলিকন ভ্যালিতেই। এছাড়াও রয়েছে তুলনামূলকভাবে ছোট কয়েকশ’ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান।

জয়ের ভাষায়, ‘এটা ছিল আমার বাংলাদেশকে তথ্য প্রযুক্তিখাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তরের একটি স্বপ্ন। এ হল সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নেরই শুরু। বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তি শিল্পে এটা আমাদের জন্য এক ভীষণ গর্বের দিন।’

উন্নয়নের এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আইসিটি খাত দেশের প্রত্যেক জেলা শহরে কম্পিউটার হাইটেক পার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। মন্ত্রিপরিষদের সদস্যসহ সব উপজেলা চেয়ারম্যানকে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা প্রদান করা হয়েছে সরকারি উদ্যোগে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়/বিভাগের অতিরিক্ত সচিব/যুগ্ম-সচিব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অধীনস্থ দপ্তরসমূহের সব আইসিটি কার্যক্রমের পরিচালনা ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালনের জন্য ন্যস্ত রয়েছেন। এ সেবা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ২ জন করে উদ্যোক্তা (এর মধ্যে ১ জন নারী) কাজ করছেন। এছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উদ্যোগেও স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নির্ভর সেবা প্রদান কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সমস্যা ও চাহিদার সহজ সমাধানের লক্ষ্যে এসব কেন্দ্র থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে। কেবল হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যার সংযুক্তি নয়, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে এগুলো ব্যবহার করে সেবা প্রদান পদ্ধতি আরো সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জনগণের সেবাপ্রাপ্তি ব্যবস্থাকে আরো সহজ করা হয়েছে। উন্নত দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে রূপান্তরের জোর প্রচেষ্টা চলছে। চলতি বছরই বাংলাদেশ গ্লোবাল আইসিটি অ্যাওয়ার্ড লাভ করে। এ ছাড়াও বিদায়ী বছরেই বাংলাদেশকে অগ্রগতির পথে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৩ নভেম্বর জাতিসংঘের ‘সাউথ-সাউথ কো-অপারেশন অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। এ পুরস্কার গণতন্ত্রের মানসকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রতি আরো একটি স্বীকৃতি। উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত থাক মানবপ্রেমী নেত্রীর হাত ধরেই-প্রত্যাশা এমনটাই।

সে সঙ্গে এ প্রত্যাশাও জাগে যে, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ স্বপ্ন বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তিগত সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সফটওয়্যার কারখানা বা হাইটেকপার্ক প্রতিষ্ঠায় সরকার গুরুত্ব দিবে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টিকে সমস্যা হিসেবে না দেখে শক্তিতে রূপান্তরের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এই মুহূর্তে দেশের তরুণদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার বিবেচনায় অধিক। তরুণদের শক্তি দ্রুত যাতে উত্পাদনশীল কাজে নিয়োগ পায়, সেই লক্ষ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। সরকার ঘোষিত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ কর্মসূচিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয়া তবেই সহজ হবে।

লেখক: অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবির,
সদস্য, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও
সাবেক উপাচার্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়