২০১৮ সালে জাতীয় গ্রিডে আসছে আরও ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে আগামী ২০১৮ সাল নাগাদ দেশে নির্মিত হচ্ছে ২৭টি ছোট বড় নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর মধ্যে সরকারি উদ্যোগে ১৭টি এবং বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত হবে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র। চলতি ২০১৫ সাল থেকে ২০১৮ সাল নগাদ নির্মিতব্য এই ২৭টি কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে আরও ৬ হাজার ৯৩৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। তখন দেশে সর্বমোট উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ হবে ১৪ হাজার ৩৫১ মেগাওয়াট। বর্তমানে (২০১৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) দেশে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ ৭ হাজার ৪১৮ মেগাওয়াট।

তবে বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিতব্য ২৭টি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১৬টি। এর মধ্যে সরকারি উদ্যোগে ১২টি এবং বেসরকারি উদ্যোগে স্থাপিত হবে উল্লেখযোগ্য ৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্র। সরকারি হিসাব মতে, ২০১৮ সালে এই ১৬টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত ৫ হাজার ৬৪৬ মেগাওয়াট মোট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এর মধ্যে সরকারি উদ্যোগে স্থাপিত ১২টি কেন্দ্র থেকে পাওয়া যাবে ৪ হাজার ২৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এবং বেসরকারি উদ্যোগে স্থাপিত ৪টি কেন্দ্র থেকে পাওয়া যাবে ১ হাজার ৬২৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

উল্লেখযোগ্য ১২টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে- আশুগঞ্জ ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট, ভোলা ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট, আশুগঞ্জ ৪৫০ মেগাওয়াট (দক্ষিণ) কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট, সিদ্ধিরগঞ্জ ৩৩৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট, বিবিয়ানা ৪০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট (৩য় ইউনিট), শাহজীবাজার ৩৩০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট, শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট (ডুয়েল ফুয়েল) আশুগঞ্জ ৪৫০ মেগাওয়াট (উত্তর) কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট, ভেড়ামারা ৩৬০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট, ঘোড়াশাল ৩৬৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট, বড়পুকুরিয়া ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র (৩য় ইউনিট) এবং বিবিয়ানা দক্ষিণ ৩৮৩ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট।

বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিতব্য উল্লেখযোগ্য ৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে- বিবিয়ানা ২ হাজার ৩৪১ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট, মাওয়া- মুন্সীগঞ্জ ৫২২ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প, খুলনা ৫৬৫ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প এবং আশুগঞ্জ ১৯৫ মেগাওয়াট মড়ুলার বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প। সবকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রই চলতি ২০১৫ সাল থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে উৎপাদনে যাবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়লেও ক্ষমতার স্বল্পতা এবং গ্যাস সরবরাহে ঘাটতির জন্য গত কয়েক বছরে দেশের প্রকৃত বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়নি। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮৭ মেগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ২০১৩-১৪ অর্থবছর সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৩৫৬ মেগাওয়াটে উন্নীত হলেও বিদ্যুতের সংকট কাটেনি। ২০১৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ হচ্ছে ৭ হাজার ৪১৮ মেগাওয়াট।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত ২০ বছরে দেশে সর্বমোট বিদ্যুতের উৎপাদন বেড়েছে ৫ হাজার ৩৩১ মেগাওয়াট। যদিও আলোচ্য সময়ে দেশে স্থাপিত কেন্দ্রগুলোয় বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ১১ হাজার ২৬৫ মেগাওয়াট।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, পরিকল্পনা মাফিক ২০১৮, ২০২১, এবং ২০৪১ সালকে টার্গেট করে এগুচ্ছি। সবকিছু ঠিক থাকলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো কষ্টসাধ্য কিছু নয়। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলে এক সময় আসবে তখন লোডশেডিং দেখতে জাদুঘরে যেতে হবে।