যান চলাচলে চার দেশের চুক্তি সই

কাগজ প্রতিবেদক : বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালের মধ্যে সড়ক পথে পণ্য, ব্যক্তিগত ও যাত্রীবাহী যান চলাচলে রূপরেখা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভুটানের রাজধানী থিম্পুর লা মেরিডিয়ান হোটেলে গতকাল সোমবার দুপুরে এ চুক্তি সই করেন চার দেশের সড়ক পরিবহনমন্ত্রীরা। বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের ভোরের কাগজকে এ তথ্য জানান।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চুক্তিটি সইয়ের পর লন্ডন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফোনে চার দেশের পরিবহনমন্ত্রীদের অভিনন্দন জানান। সূত্র আরো জানায়, আগামী অক্টোবরে এই চার দেশের মধ্যে গাড়ি শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম পর্যায়ে এ চুক্তিটি মূলত চার দেশের মধ্যে সড়কপথে যানবাহন চলাচলের একটি রূপরেখা হিসেবেই স্বাক্ষর হয়েছে। আগামী বছরের শুরুতে মূল চুক্তি স্বাক্ষর হবে এবং এরপরেই এ চার দেশের মধ্যে যান চলাচল শুরু হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের স্বপ্ন দীর্ঘদিনের। এই চুক্তির মাধ্যমে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আমরা বহুদূর এগিয়ে গেলাম। আজকের এই চুক্তিতে সই করতে পেরে ভালো লাগছে। এর মাধ্যমে আমাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি হবে।

ভুটানের ইনফরমেশন ও কমিউনিকেশন মন্ত্রী ডি এন ডুঙ্গেল চুক্তি স্বাক্ষরের দিনটিকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে ভারতের পরিবহনমন্ত্রী নিতিন গড়করি বলেন, আমরা মায়ানমার ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করতে যাচ্ছি। এখন এ চার দেশের মধ্যে সড়ক পথে যোগাযোগ হবে। এর মাধ্যমে বিস্তৃত সড়কে পৌঁছে যাবে আমাদের উদ্যোগ।

নেপালের ফিজিক্যাল ইনফ্রাস্টাকচার ও ট্রান্সপোর্টমন্ত্রী বিমলান্দ নিধি বলেন, আমি আনন্দিত। আজ থেকে আমরা এ অঞ্চলের মানুষের আশা আকাক্সক্ষার যাত্রী হলাম।

এদিকে মন্ত্রণালয় সূত্র আরো জানায়, রূপরেখা অনুযায়ী মূল চুক্তির আগে চার দেশের মধ্যে পরীক্ষামূলক যানবাহন চলাচল করবে। শুরুতে যাত্রী পরিবহন এবং পরবর্তী পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে পণ্য পরিবহন করা হবে। রূপরেখা অনুযায়ী, পরীক্ষামূলকভাবে যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচলের জন্য যানবাহনের নিজ নিজ দেশের ফিটনেস সনদ এবং যানবাহনের বৈধ মালিকানার দলিল থাকতে হবে। গাড়িরচালকের নিজ নিজ দেশের যথাযথ কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত চালক লাইসেন্স থাকতে হবে এবং যাত্রীদের পাসপোর্ট ও যে দেশে যাবেন সে দেশের ভিসার প্রয়োজন হবে। পরবর্তী সময়ে পরীক্ষামূলকভাবে পণ্য পরিবহন শুরু হলে সে ক্ষেত্রে যে দেশে পণ্যবাহী যানবাহন প্রবেশ করবে সে দেশের তালিকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত পণ্য পরিবহন করা যাবে না। চুক্তি অনুযায়ী এই চারটি দেশের মধ্যে তিন ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারবে। এর মধ্যে আছে যাত্রীবাহী যানবাহন যেমন বাস, প্রাইভেট কার এবং পণ্যবাহী যান। শুল্ক ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে নিজ নিজ দেশের আইনে। তবে ট্রানজিট ও চলাচলের অনুমতি-সংক্রান্ত ফি নির্ধারণ আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করা হবে।

অন্যদিকে জানা গেছে, রুট হিসেবে বাংলাদেশ থেকে নেপালে যেতে ঢাকা-বাংলাবান্ধা-জলপাইগুড়ি-কাকরভিটা এবং ঢাকা-বুড়িমারী-চেংরাবান্ধা ঠিক করা হয়েছে। ভুটানের যাওয়ার জন্য ঢাকা-বুড়িমারী-চেংরাবান্ধা রুট এর কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও ভারতে যেতে ঢাকা-সিলেট-শিলং-গুয়াহাটি রুট ব্যবহার করা হবে বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, গত ৮ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালের মধ্যে যানবাহন চলাচলে ‘বিবিআইএন মোটর ভেহিকল অ্যাগ্রিমেন্ট (এমভিএ)’ সইয়ের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাবিষয়ক (সাসেক) কৌশলগত বাণিজ্য সম্প্রসারণ রূপরেখার ওপর ভিত্তি করেই এ চুক্তি সই হয়েছে। সাসেক রূপরেখা ২০১৪ সালের মার্চে এই চার দেশ অনুমোদন করে।