বিশ্ব অর্থনীতিতে ১৪ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ

ঋণদাতা বৈশ্বিক সংস্থা দুটির দৃষ্টিতে এক বছরের ব্যবধানে ৫৮তম স্থান থেকে ১৪ ধাপ এগিয়ে এখন ৪৪তম অবস্থানে বাংলাদেশের অর্থনীতি।

বিশ্ব ব্যাংকের ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট ইন্ডিকেটরস ডাটাবেইস এবং আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক আউটলুক প্রতিবেদনে অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতির চিত্র উঠে এসেছে, যা গত এপ্রিলে প্রকাশ করা হয়।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন পরিকল্পমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

একনেক সভায় বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফের প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “গত ৬ বছর ধরে আমরা ক্রমাগতভাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের উপরে ধরে রেখেছি। এটা সত্যিই আমাদের অসাধারণ অর্জন।”

“আমাদের মনে রাখতে হবে, আমাদের যা সম্পদ আছে তাকে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা দিয়ে কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটিয়ে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হবে। বাংলাদেশের এ অর্জনে সবার অবদানই রয়েছে। আমি আশা রাখি, অর্থনীতির গতিধারা আরও এগিয়ে যাবে,” প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলা হয় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সাম্প্রতিক ঢাকা সফরে টানা ছয় বছর বাংলাদেশের ৬ শতাংশের বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে ‘অসাধারণ’ বলেছেন।

একনেক সভার পর সংবাদ সম্মেলনে মুস্তফা কামাল বলেন, “বিশ্ব অর্থনীতিতে আমাদের অবস্থানের দিন দিন উন্নতি হচ্ছে। টানা ছয় বছর ৬ শতাংশের বেশি মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির সুফল পাচ্ছি আমরা।”

মন্ত্রী বলেন, ক্রয় ক্ষমতাভিত্তিক (পিপিপি) জিডিপির হিসাবে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৩ নম্বরে। ২০১৩ সালে ছিল ৩৬তম।

বাংলাদেশের এই উন্নতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গত কয়েক বছরে ৬ শতাংশের বেশি হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার বেশ বেড়েছে।

এই উন্নতিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ‘উজ্জ্বল’ হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করবে। বিদেশি ঋণ-সহায়তার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”

বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালে চলতি বাজার মূল্যে বাংলাদেশের জিডিপির (জিডিপি বেজড অন কারেন্ট প্রাইস) পরিমাণ ছিল ১৪৯ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে ৫৮তম অবস্থানে ছিল।

২০১৫ সালে বাংলাদেশের জিডিপির পরিমাণ বেড়ে ২০৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। আর এই জিডিপি অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ব অর্থনীতির আঙিনায় ১৪ ধাপ উপরে উঠে ৪৪তম স্থানে অবস্থান করছে।

অন্যদিকে ক্রয় ক্ষমতার ভিত্তিতে (জিডিপি বেজড অন পিপিপি) বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৩৩তম। ২০১৩ সালে ছিল ৩৬তম।

ক্রয় ক্ষমতার ভিত্তিতে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের জিডিপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৭২ দশমিক ৪০ ডলার। ২০১৩ সালে ছিল ৪৬১ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার।

জিডিপির ভিত্তিতে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নম্বর স্থান ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ১২৪ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার। ২০১৩ সালে ছিল ১৬ হাজার ৭৬৮ বিলিয়ন ডলার।

দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে চীন। ২০১৩ সালে চীনের জিডিপির পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ২৪০ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার। ২০১৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১১ হাজার ২১১ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা জাপানের জিডিপির পরিমাণ হচ্ছে ৪ হাজার ২১০ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। ২০১৩ সালে ছিল বেশি; ৪ হাজার ৯১৯ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার।

জার্মানির অবস্থান চতুর্থ (৩ হাজার ৪১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার)। ২০১৩ সালে ছিল ৩ হাজার ৭৩০ বিলিয়ন ডলার।

বিশ্ব অর্থনীতিতে যুক্তরাজ্যের অবস্থান পঞ্চম। তারপরে আছে ফ্রান্স।

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভারত তিন ধাপ এগিয়ে দশম স্থান থেকে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে। ২০১৩ সালে ভারতের জিডিপির পরিমাণ ছিল এক হাজার ৮৭৫ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার। ২০১৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে দুই হাজার ৩০৮ বিলিয়ন ডলার।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, ভিয়েতনাম, তাজাকিস্তান, পর্তুগাল, কাতার, নিউজিল্যান্ড ও পেরুকে পেছনে ফেলে উপরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।

ক্রয় ক্ষমতার হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে এক নম্বরে উঠে এসেছে চীন। এ হিসাবে ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ১৬ হাজার ৭৬৮ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার জিডিপি অর্জনের মধ্য দিয়ে এক নম্বরে ছিল।

২০১৫ সালে ১৮ হাজার ৯৭৫ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার জিডিপি অর্জন করে এক নম্বরে উঠে এসেছে চীন।