রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোর বকেয়া ঋণের পরিমাণ কমেছে

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোর ঋণের পরিমাণ অব্যাহতভাবে বাড়ছে। নিজস্ব আয় না থাকায় বা উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে মূল্য ওঠাতে না পারায় বছরের পর বছর ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে চলছে এসব রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ৩৮টি সংস্থা ও কর্পোরেশনের মধ্যে ১৮টি সংস্থা ও কর্পোরেশনের ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড ঋণের পরিমাণ ২৮ হাজার ৫৩৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা। গত মার্চ শেষে যা ছিল ২৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। সে হিসেবে এক মাসের ব্যবধানে বকেয়া ঋণের পরিমাণ কমেছে ৬৭২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। বকেয়া ঋণ কিছুটা কমলেও দীর্ঘদিন ধরেই এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে বকেয়া ঋণ আটকে আছে, যা কোনোভাবেই আদায় করতে পারছে না ব্যাংকগুলো। এসব বকেয়া ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কর্পোরেশনগুলো এ ঋণ গ্রহণ করে তাদের ব্যয়নির্বাহ কিংবা পণ্য কেনার জন্য। রাষ্ট্রায়ত্ত উৎপাদনশীল সংস্থা ও কর্পোরেশনগুলো ছাড়া সিংহভাগ সংস্থা তাদের মিল পরিচালনার জন্য ঋণ নেয়। মিলগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। সরকার এসব প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে প্রতিবছর ঋণ মঞ্জুর করে কিন্তু বছর শেষে সে ঋণ আর পরিশোধ হয় না। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের বকেয়া ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকে।  
ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড ঋণের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংকের সবচেয়ে বেশি ৮ হাজার ৫৫২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি)। সোনালী ব্যাংকে তাদের নন-ফান্ডেড ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। জনতা ব্যাংকে ফান্ডেড ঋণের পরিমাণ ৬৬ লাখ টাকা, অগ্রণী ব্যাংকে নন-ফান্ডেড ঋণের পরিমাণ ১১২ কোটি টাকা। ২ হাজার ৫৩৬ কোটি ১৩ লাখ টাকার নন-ফান্ডেড ঋণ রয়েছে রূপালী ব্যাংকে।
জানা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংস্থা ও কর্পোরেশনগুলোর মার্চ মাসের তুলনায় এপ্রিলে কেবল ফান্ডেড ঋণের পরিমাণ কমেছে ৮০২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা,  আর শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ ১৪৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে।
সংস্থা ও কর্পোরেশনগুলোর ঋণ গ্রহণের তালিকায় দেখা গেছে, উল্লিখিত ৫ ব্যাংকে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস কর্পোরেশনের ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড ঋণের পরিমাণ ২৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা, আর শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ ২৫ কোটি টাকা। বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ১৯৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশনের ঋণের পরিমাণ ১৯২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের ঋণের পরিমাণ ৩ হাজার ৪৫৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। বাংলাদেশ কেমিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের ঋণের পরিমাণ ৪ হাজার ৯৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানিসংক্রান্ত সংস্থা এবং কর্পোরেশনগুলোর ঋণের হিসাবে দেখা গেছে, এ সেক্টরের পাঁচটি সংস্থার ঋণের পরিমাণ ৯ হাজার ১১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
এ ঋণের মধ্যে শুধু বিপিডিবি রাষ্ট্রায়ত্ত ৫ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড ঋণ নিয়েছে ৮ হাজার ৫৫২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। যোগাযোগ সেক্টরের ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের পরিমাণ ১৬৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা। আর বাণিজ্যিক খাতের তিনটি প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের পরিমাণ ৭ হাজার ৯৪০ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের ঋণের পরিমাণই ৭ হাজার ৮৮৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।