নতুন করে ২শ কোটি ডলার ঋণ দেবে ভারত

সামাজিক এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আগের দেয়া সুদের হার এবং শর্তেই নতুন করে দুই বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারের সহজ ঋণ (এলওসি) দেবে ভারত। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরে অনুষ্ঠিত ২১টি চুক্তি ও সমঝোতার সঙ্গে এ বিষয়েও একটি সমঝোতা (এমইউ) হয়েছে। ওই সমঝোতায় এলওসির এই অর্থ ব্যয়ে মোট ১৩টি প্রকল্পও নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎ, যানবাহন, তথ্য এবং যোগাযোগ, শিপিং, স্বাস্থ্য, কারিগরি শিক্ষা ইত্যাদি খাতগুলো থাকলেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে রেলের উন্নয়নকে। ঋণের ক্ষেত্রে প্রধান শর্ত হলো প্রকল্পের পণ্য ভারত থেকে কিনতে হবে। আগের ৮০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষেত্রে এমন শর্তই ছিল।

জানা যায়, ভারতের দেয়া ২০০ কোটি ঋণের বিপরীতে বাংলাদেশ ১৩টি প্রকল্প ঠিক করে সমঝোতায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এক্ষেত্রে এবারও বাংলাদেশের রেলের উন্নয়নেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। রেলের চারটি প্রকল্পে ঋণের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ব্যয় করা হবে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচিত ১৩টি প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩৭ কোটি ডলার। এর মধ্যে ভারতীয় ঋণ থেকে আসা ২০০ কোটি ডলারের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার দেবে অবশিষ্ট ৩৭ কোটি ডলার। এর মধ্যে রেলের তিন প্রকল্পে ব্যয় হবে ৪৯ কোটি ডলার।

ভারতের নতুন ঋণে বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচিত প্রকল্পগুলো হলো রেলপথের খুলনা-দর্শনা সেকশনকে ডাবল লাইনে উন্নীতকরণ প্রকল্প। এতে ব্যয় হবে ৩৮ কোটি ডলার। রেলের দ্বিতীয় প্রকল্প পার্বতীপুর-কাউনিয়া রেললাইনকে ডুয়েল গেজে উন্নীতকরণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ কোটি ডলার। আর রেলের তৃতীয় প্রকল্প সৈয়দপুর রেলস্টেশনের ওয়ার্কশপ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

পরিবহন খাতের মধ্যে বিআরটিসির জন্য ৫০০টি ট্রাক সংগ্রহ প্রকল্পে ব্যয় ৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার। এছাড়া ৫ কোটি ৮৪ লাখ ডলার দিয়ে কেনা হবে বিআরটিসির জন্য দ্বিতল বাস। এ খাতের আরেক প্রকল্প হচ্ছে, সড়ক ও জনপথের জন্য উন্নত যন্ত্রপাতি আমদানি প্রকল্প, যার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ডলার।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ভারতীয় ঋণে চারটি মেডিকেল কলেজ ও একটি জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে। এতে ব্যয় করা হয়েছে ৩২ কোটি ডলার। এছাড়া অন্য প্রকল্পের মধ্যে ১২ জেলায় আইটি হাইটেক পার্ক নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ কোটি ১০ লাখ ডলার।

নৌ-পরিবহন খাতে আশুগঞ্জ নদী বন্দরের আধুনিকায়ন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭ কোটি ৪২ লাখ ডলার। এ খাতের আরেকটি প্রকল্প হচ্ছে, আশুগঞ্জ বন্দরের অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার উন্নয়ন প্রকল্প। এর জন্য ব্যয় হবে ৫ কোটি ৯১ লাখ ডলার।

ভারতের নতুন ঋণের অর্থে ৪৯টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও দুটি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট উন্নয়ন করা হবে। এর জন্য ব্যয় ৩৫ কোটি ১৩ লাখ ডলার ব্যয় ধরা হয়েছে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শেষে নতুন করে ১ লাখ শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন ঋণের সুদের হার ও শর্ত চলমান ১ বিলিয়ন ডলারের ঋণের মতোই হবে। শর্ত হিসেবে চলমান ঋণের মতো নতুন প্রকল্পগুলোর জন্য অন্তত ৭৫ শতাংশ পণ্য ও সেবা অবশ্যই ভারত থেকে আমদানি করতে হবে। এর আগে ২০১০ সালে ভারত সরকার বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলার ঋণ দেয়। তৎকালীন ভারতীয় অর্থমন্ত্রী বর্তমান রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ওই ঋণের ২০ কোটি ডলার পরে অনুদান (সুদবিহীন) ঘোষণা করেন। বাকি ৮০ কোটি (৮০০ মিলিয়ন) ডলার দিয়ে বর্তমানে ১৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।