অনেক সূচকেই ভারতের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

মাথাপিছু অর্থনৈতিক আয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ধনী ভারত। এ ছাড়া প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোনের ব্যবহারের দিক থেকেও এগিয়ে ভারত। তবে অর্থনৈতিক উন্নয়নসংশ্লিষ্ট বেশ কিছু সূচক রয়েছে, যাতে ভারতের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। যেমন- মানুষের গড় বয়স বৃদ্ধি, মাতৃমৃত্যুহার রোধ, শিশুমৃত্যুহার কমিয়ে আনা এবং মাধ্যমিক শিক্ষায় ছেলের অনুপাতে মেয়ের অংশগ্রহণ। এসব দিক থেকে ভারতের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

স্বাস্থ্যসেবায় দুই দেশই জিডিপির ১ শতাংশ ব্যয় করে। তবে শিক্ষায় বাংলাদেশ জিডিপির ২ শতাংশ ব্যয় করলেও ভারত করে ৩ শতাংশ। জাতিসংঘের নারীবিষয়ক কান্ট্রি প্রতিনিধি ক্রিসিন্ট হান্টার বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য লিঙ্গ সমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে বাংলাদেশে পোশাকশিল্পে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও শিক্ষায় মেয়েদের এগিয়ে আসায় তা নারীর ক্ষমতায়নেও দেশকে এগিয়ে দিচ্ছে। আইএলও হিসাব অনুযায়ী, ২০১০ সালে বাংলাদেশে বেতনভুক্ত নারী শ্রমিক বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬ শতাংশ। যেখানে ১৯৯০ সালে এটি ছিল ১৪ শতাংশ। অন্যদিকে নারীর কর্মসংস্থানের দিক থেকে পিছিয়েছে ভারত। ২০০৪-০৫ অর্থবছরে যেখানে ভারতে বেতনভুক্ত নারী ছিল ৩৭ শতাংশ, ২০০৯ সালে তা কমে হয়েছে ২৯ শতাংশ।

বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। নয়াদিল্লিভিত্তিক থিংক ট্যাংক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের রিসার্চ ফেলো জয়ীতা ব্যানার্জি বলেন, যখন শিক্ষায় সমতা আসবে এবং নারীর মানসিক উন্নয়ন ঘটবে তখন অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নেও তারা এগিয়ে আসবে। এদিক থেকে বাংলাদেশে অনেক পরিবর্তন আসছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে নারী ও পুরুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু ১৯৭০ সালে ৪৭ বছর থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ৭০ বছর। অন্যদিকে ভারতে গড় আয়ু ৬৬ বছর। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।