শাহজালাল সার কারখানা জুলাইয়ে উৎপাদনে যাবে

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে অস্থায়ীভাবে গ্যাস সংযোগ প্রদান করে সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত প্রকল্প শাহজালাল সার কারখানাকে উৎপাদনে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এতদিন উৎপাদনে না যাওয়ার পেছনে কারণ ছিল গ্যাস সরবরাহের অভাব। গত ২৯ মে অস্থায়ী গ্যাস সরবরাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ইশতিয়াক আহমদ ও বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. ইকবাল। প্রকল্প সূত্র জানায়, গ্যাস সংযোগ দেওয়ায় আপাতত উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে। দৈনিক ১ হাজার ৭৬০ টন ইউরিয়া উৎপাদনে গ্যাস লাগবে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট। সিএমএস প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাবে। আগামী ৩ জুলাই দেশের বৃহত্তম এই সার কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন হওয়ার লক্ষ্যে চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়েই সম্পন্ন হয়। কিন্তু যথাসময়ে গ্যাস সংযোগ না দেওয়ায় প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। চীনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানও বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। জালালাবাদ গ্যাসের জাতীয় গ্রিড থেকে কাস্টমার মিটারিং স্টেশন স্থাপনে প্রায় ৩২ কোটি টাকার আন্তর্জাতিক টেন্ডার কয়েকবার আহ্বান করা হলেও তা রহস্যজনক কারণে আলোর মুখ দেখেনি। ওই টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রেখেই অস্থায়ী ভিত্তিতে জাতীয় গ্রিড থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়।

ইতিমধ্যে শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পে ১৬টি প্ল্যান্ট চালু হয়েছে। এর মধ্যে প্রতি ঘণ্টায় ১ হাজার ১০০ টন পানি উত্তোলন ক্ষমতা সম্পন্ন পাওয়ার ইনটেক প্ল্যান্ট, ১৪ হাজার মিটার কিউব পানি ধারণ ক্ষমতার কমপ্লেক্স পাম্প স্টেশন, ডেমি ওয়াটার প্ল্যান্ট, দুটি বয়লার, নাইট্রোজেন প্ল্যান্ট, ইনস্ট্রুমেন্ট এয়ার ইউনিট, মেইন সাব-স্টেশন, অ্যামোনিয়া সাব-স্টেশন, ইউরিয়া সাব-স্টেশন, কুলিং ওয়াটার পাম্প, দুটি ডিজেল ইঞ্জিন জেনারেটর, ১২ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি স্টিম টারবাইন জেনারেটর, ফিড গ্যাস কম্প্রেসার, পলিথিন প্ল্যান্ট, ব্যাগিং ইউনিট, বাল্ক গোডাউন পরীক্ষামূলক চালু হয়েছে।

শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী কামরুজ্জামান জানান, গ্যাস সংযোগ প্রদান সম্পন্ন হওয়ায় আগামী ৩ জুলাই শাহজালাল সার কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হবে। সে লক্ষ্যে বর্তমানে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ সময়সীমার মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কমার্শিয়াল মিটারিং স্টেশন (সিএমএস) স্থাপনের কাজও শুরু হবে বলে তিনি জানান।

২০১২ সালের ২৪ মার্চ প্রায় ৬২ একর জমির ওপর ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানার পাশে শাহজালাল ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি স্থাপনের কাজ শুরু হয়। চীনা কোম্পানি মেসার্স কমপ্লান্ট প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।