ডাব্লিউএসআইএস পুরস্কার এবারও পেল বাংলাদেশ

ডাব্লিউএসআইএস পুরস্কার এবারও পেল বাংলাদেশ

গত বছরের পর এবছরও ওয়ার্ল্ড সামিট অন দ্য ইনফরমেশন সোসাইটি (ডাব্লিউএসআইএস) পুরস্কার লাভ করেছে বাংলাদেশ। ‘অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন অ্যান্ড নলেজ’ ক্যাটাগরিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের ‘জাতীয় তথ্য বাতায়ন’ উদ্যোগের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে এই সাফল্য। গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে এ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও ডাব্লিউএসআইএস পুরস্কার সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মুখ্য সচিব বলেন, ‘আজ ২৬ মে আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) সদর দপ্তর জেনেভায় এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের হাতে ডাব্লিউএসআইএস পুরস্কার ২০১৫ তুলে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে এই পুরস্কার গ্রহণ করেছেন এটুআই প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) কবির বিন আনোয়ার, এটুআই প্রোগ্রামের পলিসি অ্যাডভাইজর আনীর চৌধুরী এবং এটুআই প্রোগ্রামের পরিচালক (ই-সার্ভিস) ড. মো. আব্দুল মান্নান।’ তিনি বলেন, ‘৩ নম্বর ক্যাটাগরিতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, মিসর, ভারত, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কুয়েত, ইতালি, পোল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের ৪৬টি উদ্ভাবনী প্রকল্প মনোনীত হয়েছিল। এদের সবাইকে পেছনে ফেলে পুরস্কার অর্জন করেছে এটুআইয়ের জাতীয় তথ্য বাতায়ন।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ওয়ার্ল্ড সামিট অন দ্য ইনফরমেশন সোসাইটি পুরস্কার তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে উদ্যোগ ও বাস্তবায়নের বড় ধরনের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়। জাতীয় তথ্য বাতায়ন ছাড়াও এ বছরে এই পুরস্কারের চতুর্থ ক্যাটাগরিতে এটুআই প্রকল্পের ‘শিক্ষক বাতায়ন’ উদ্যোগটি মনোনয়ন পেয়েছিল। এর আগে গত বছর এটুআই প্রকল্প কর্তৃক জনগণের দোরগোড়ায় সেবা প্রদানের লক্ষ্যে স্থাপিত ডিজিটাল সেন্টার উদ্যোগটি এই পুরস্কার পায়।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় তথ্য বাতায়নের (www.bangladesh.gov.bd) বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্ সরকারি ওয়েবপোর্টাল যা ২৫ হাজার ওয়েবসাইট ও ৪২ হাজার সরকারি দপ্তরকে সংযুক্ত করেছে। জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ইউটিলিটি বিল প্রদান, পাসপোর্টের জন্য আবেদন, কর প্রদান, সরকারি ফরম ডাউনলোডের মতো দেড় শতাধিক ই-সেবা সন্নিবেশিত রয়েছে এই বাতায়নে। ২০ লক্ষাধিক কনটেন্ট, ৪৫ হাজারেরও বেশি ঐতিহাসিক নিদর্শন ও পুরাকীর্তির ছবি এবং ৭ লাখ সরকারি কর্মকর্তার তথ্যে সমৃদ্ধ ই-ডিরেক্টরি যুক্ত থাকার ফলে জাতীয় তথ্য বাতায়ন জনগণের কাছে সেবা পৌঁছানোর অন্যতম সহজ এক মাধ্যমে পরিণত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে এটুআই প্রকল্পের জনপ্রেক্ষিত বিশেষজ্ঞ নাইমুজ্জামান মুক্তা, কর্মকর্তাবৃন্দ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।