২০২১ সালে দরিদ্রশূন্য হবে বাংলাদেশ!

২০২১ সালের মধ্যে দরিদ্রশূন্য হবে বাংলাদেশ। এ উদ্দেশ্যে ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প’ নামে রোডম্যাপ তৈরি করে সরকারের শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারকদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। ওই রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০২১ সালের পর বাংলাদেশে একটিও গরিব পরিবার থাকবে না। এখন যারা দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে, তাদের দারিদ্র্য বিমোচন করাই শুধু নয়, নতুন করে কেউ দারিদ্র্যসীমার নিচে নামলে তাকেও ওপরে তুলে আনা হবে। এ জন্য ব্যয় হবে ৫১৬২ কোটি টাকা।

গত ১২ মার্চ মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়সচিব এম এ কাদের সরকারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সামনে ওই রোডম্যাপ তুলে ধরেন একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. প্রশান্ত কুমার রায়।

বাংলাদেশ থেকে দারিদ্র্য দূর করতে সরকারি-বেসরকারিভাবে কত শত উদ্যোগ যে এর আগে নেওয়া হয়েছে, তার ইয়ত্তা নেই। ওই সব কর্মসূচির ফলে দারিদ্র্য কতটা কমেছে, তা নিয়ে বিতর্কও আছে। গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালিত ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে দারিদ্র্য হটানোর ঘোষণা প্রথম দিয়েছিলেন ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি প্রায়ই বলতেন, ২০৩০ সালের পরে বাংলাদেশে গরিব মানুষ খুঁজতে জাদুঘরে যেতে হবে। অবশ্য সরকারের তরফ থেকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০২২ সালের মধ্যে দারিদ্র্য দূর করার কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হচ্ছে। যার বাস্তবায়ন শুরু হবে আগামী অর্থবছর থেকে।

রোডম্যাপ প্রসঙ্গে প্রশান্ত কুমার রায় বলেন, গত ৪০ বছরে দারিদ্র্য নিরসনে অনেক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলেও তা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। বর্তমানে দেশের ২৪ ভাগ অর্থাৎ চার কোটির কম জনগণ বা কম-বেশি ৮০ লাখ পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। প্রকল্পের আওতায় প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে আনা ২৫ লাখ পরিবার ছাড়াও দেশের বাকি ৫৫ লাখ দরিদ্র পরিবারকে পর্যায়ক্রমে দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রমে নিয়ে আসার মধ্য দিয়ে ২০২১ সালের আগেই দারিদ্র্যশূন্য বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

‘একটি বাড়ি একটি খামারের আওতায় জাতীয় দারিদ্র্য নিরসন রোডম্যাপ (২০১০-২০২০)’ শিরোনামের ওই পরিকল্পনায় উপকৃত পরিবারের সংখ্যা ধরা হয়েছে এক কোটিরও বেশি (সর্বশেষ দরিদ্র পরিবারের দারিদ্র্য নিরসন না হওয়া পর্যন্ত)। ২০১০-২০১৪ সালকে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায় উল্লেখ করে রোডম্যাপে বলা হয়েছে, ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৩১৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪০ হাজার ৫২৭টি গ্রামের ২৫ লাখ দরিদ্র পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালকের দেওয়া তথ্যমতে, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তারা ২৪ লাখ ২৬ হাজার গরিব পরিবারের দারিদ্র্য নিরসন করেছে।

তৃতীয় পর্যায়ে ২০১৫-২০১৭ সালের মধ্যে ৪১ হাজার গ্রামের ২৫ লাখ পরিবারকে দারিদ্র্যসীমার ওপরে নিয়ে আসার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। তাতে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলেছেন প্রকল্প পরিচালক। চতুর্থ পর্যায়ে ২০১৬-২০১৮ সালের মধ্যে সমপরিমাণ অর্থ ব্যয়ে আরো ৪১ হাজার গ্রামের ২৫ লাখ পরিবারের দারিদ্র্য দূর করার কথা বলা হয়েছে এতে। আর পঞ্চম পর্যায়ে সর্বশেষ দরিদ্র পরিবারসহ দেশের এক লাখ ২০ হাজার গ্রামের অবশিষ্ট দরিদ্র পরিবারগুলোকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা বলেন, বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের বাইরেও মাঠ পর্যায়ে আরো বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচি রয়েছে। তাই দারিদ্র্য বিমোচনের কাজ সফলভাবে করতে হলে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ প্রকল্পের কাজকে চলমান রাখা ও এই কার্যক্রমকে স্থায়ীরূপ দিতে এরই মধ্যে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক স্থাপন করা হয়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা যাতে এ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত না করে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেশব্যাপী একটি বাড়ি একটি খামার মডেলে দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সব বিভাগ সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করলেই এ কার্যক্রমে সফলতা আসতে পারে। প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়নে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের নেতৃত্বে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন কাজের সমন্বয়ের জন্য একটি ন্যাশনাল ওয়ার্কিং টিম গঠন করা যেতে পারে।