জুনের মধ্যেই আবেদনকারীরা বিদ্যুৎ পাচ্ছে

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন আবাসিক খাতে বিদ্যুৎ সংযোগের সব আবেদনকারী আগামী জুনের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ পাবেন। কারণ, জুনের মধ্যে সব পেন্ডিং বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি)। বিদ্যুৎ বিতরণে নিয়োজিত দেশের সবচেয়ে বড় এই প্রতিষ্ঠানটি গত ১০ মাসে (জুলাই ২০১৪ থেকে এপ্রিল ২০১৫) সংস্থাটি ১১ লাখ ৭৯ হাজার ২৮৫টি গ্রাহক সংযোগ দিয়েছে। শুধু এপ্রিলেই দিয়েছে রেকর্ড ২ লাখ ৪৬ হাজার ৪৯টি সংযোগ। সে সময় পেন্ডিং ছিল আরও ৬ লাখ ৪২ হাজার ৩৯২টি আবেদন। আগামী জুনের মধ্যে এসব পেন্ডিং আবেদনের বিপরীতে বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট উপজেলার ডিজিএমদের (উপমহাব্যবস্থাপক) নির্দেশ দেয়া হয়েছে।এ বিষয়ে বিআরইবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মঈন উদ্দিন সম্প্রতি রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ডিজিএম সম্মেলনে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে সবার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পেঁৗছে দিতে আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা বর্তমান সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ অনেক বেড়েছে। আমরা আমাদের চাহিদামাফিক বিদ্যুৎ পাচ্ছি। এখন গ্রাহকের দোড়গোড়ায় পেঁৗছে দেয়া আমাদের দায়িত্ব। ডিজিএমদের উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যান বলেন, প্রত্যেকে সংশ্লিষ্ট এলাকার পেন্ডিং গ্রাহকদের দ্রুততম সময়ের বিদ্যুৎ পেঁৗছে দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করুন। গ্রাহকরা যাতে বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে কোন হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখবেন।বিআরইবি সূত্রে জানা গছে, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৭ মাসে ৬ লাখ ৩১ হাজার ৮৫৭টি গ্রাহক সংযোগ দিয়েছে বিআরইবির আওতাধীন ৭২টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এরপরও চলতি বছরের জানুয়ারিতে আরও ১১ লাখ ৮৯ হাজার ৮২০টি সংযোগ অপেক্ষমাণ ছিল। এসব পেন্ডিং আবেদনের বিপরীতে দ্রুত সংযোগ দেয়ার নির্দেশ দেন বিআরইবি চেয়ারম্যান। ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত তিন মাসে মোট ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৪২৮টি গ্রাহক সংযোগ দেয়া হয়। এপ্রিলে আরও ৬ লাখ ৪২ হাজার ৩৯২টি আবেদন পেন্ডিং ছিল।পেন্ডিং আবেদন শূন্যের কোটায় আনতে বিআরইবির অধীনস্ত ৭২টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রতিটিকে প্রতি মাসে অন্তত চার হাজার পেন্ডিং আবেদনের বিপরীতে সংযোগ প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়। গত এপ্রিলে সমিতিগুলো মোট সর্বোচ্চ ২ লাখ ৪৬ হাজার ৪৯টি গ্রাহক সংযোগ দিতে সক্ষম হয়। সমিতিগুলো তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারলে পেন্ডিং আবেদন দুই-তিন মাসের মধ্যে শূন্যের কোটায় আসা সম্ভব হবে বলে মনে করেন সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এপ্রিল মাসে যেসব সমিতি লক্ষ্যমাত্র অর্জন করতে পারেনি তাদের মে মাসের নির্ধারিত সংযোগের সঙ্গে এপ্রিলের বকেয়া সংযোগ দেয়ার নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মঈন উদ্দিন। ডিজিএমদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বর্তমানে ৩ থেকে ৪ লাখ গ্রাহক সংযোগ প্রদানের সক্ষমতা বিআরইবির আছে। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎও পাওয়া যাচ্ছে। আমরা পিছিয়ে আছি সংযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে। এসব সৃষ্ট জটিলতা। কৃত্রিমভাবে পেন্ডিং সংযোগের সংখ্যা বাড়িয়ে গ্রাহক পর্যায়ে চাহিদা সৃষ্টির পাঁয়তারা হচ্ছে। এই জটিলতা নিরসনের দায়িত্ব ডিজিএমদের। প্রত্যেককে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্র পূরণ করতে হবে। খুঁজে খুঁজে গ্রাহক সংযোগ দিয়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।বিআরইবি সূত্রে জানা গেছে, ৭২টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধীনে সারাদেশে সংস্থাটির বর্তমান গ্রাহক সংখ্যা বর্তমানে ১ কোটি ১৪ লাখ। গত এক বছরে গ্রাহক বেড়েছে ১৫ লাখ ২৭ হাজার। এসব সমিতির মধ্যে ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে লাভজনক ছিল ১২টি সমিতি। গত এক বছরে আরও ১০টি সমিতি লাভে এসে এখন লাভজনক সমিতির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২টি। সমিতির মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের শতকরা হার : আবাসিক গ্রাহক ৮৬ শতাংশ, বাণিজ্যিক ৮ শতাংশ, সেচ ৩ শতাংশ, শিল্প ১ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং অন্যান্য ১ দশমিক ৬২ শতাংশ।